“বড় লোকের অভাব নেই, গরিব তো ত্রাণ পায় আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে চোখের পানি লুকায়”

Saturday, April 4th, 2020

 

মোঃ বাবু (চাটমোহর, পাবনা প্রতিনিধি) মধ্যবিত্তদের পাশে কেউ নেই, চক্ষু লজ্জায় কষ্টগুলো প্রকাশ করতে পারছেন না অনেক পরিবারের সদস্যরা। করোনা পরিস্থিতির কারণে কঠিন অনিশ্চয়তায় পড়ে অন্ধকার চোখে মুখে দেখছেন অনেকেই। কীভাবে দোকান ভাড়া দেবেন, কীভাবে সংসার চালাবেন, কি ভাবে ঔষধ কিনবেন, সেই চিন্তায় ঘুম আসে না অনেক ব্যবসায়ী দোকানি ভাইদের। অনেকেই মাঝেমধ্যে গভীর রাতে আঁতকে ওঠেন। কিন্তু কাউকে এমন কষ্টের কথা ও বলতেও পারছেন না। অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, এক ব্যবসায়ী ‘বড় লোকের টাকার অভাব নেই। গরিবরা তো ত্রাণ পায়। আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে চোখের পানি লুকায়। কাউকে প্রকাশ করতে পারে না বুকে জমিয়ে রাখা কষ্টের কথা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সারাদেশে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে গৃহবন্দি হয়ে আছে সাধারণ মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে খাবার এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্য তুলে দিচ্ছেন অনেকেই। সরকারও গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে মধ্যবিত্তের পাশে নেই কেউ। ঘরে খাবার না থাকলেও মধ্যবিত্তরা লজ্জায় কিছু বলতে পারছেন না। সারাদেশে লাখ লাখ মধ্যবিত্তের অবস্থাও প্রায় একই।

পাবনার চাটমোহরে আমার দেখা মধ্যম আয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভদ্রলোক এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক। আবেগাপ্লুত হয়ে বলেলেন,‘এটা কোনো জীবন হলো। সংসার চালাতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। চক্ষুলজ্জায় কষ্টগুলো প্রকাশ করা যায় না। ওই যে আমরা মধ্যবিত্ত। আমাদের কোনো কষ্ট নেই। আছে শুধু সুখ। কিন্তু এর আড়ালে আমরা যে কত কষ্টে জীবনযাপন করি, তা দেখানো ও বোঝানো যায় না। কেউ বোঝারও চেষ্টা করে না।’

ইতিমধ্যে বাংলাদেশে করোনায়আজ সহ দু’জন সহ মোট ৮জন মারা যাওয়ার ঘটনায় ঘোটা বাংলাদেশের সমস্ত এলাকা প্রায় লকডাউন হয়ে আছে এক সপ্তাহ ধরে। ফলে ঘরবন্দি হয়ে আছে কয়েক হাজার মানুষ। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে প্রতিদিনই কেউ না কেউ খাবার বিতরণ করেন। কিন্তু মধ্যবিত্তরা আছেন বড় বিপদে।

যারা দৈনিক (দিন আনে দিনে খায়) আয়ের ওপর নির্ভর করেন, তারা পড়েছেন বেশি বিপদে। মধ্যবিত্তদের দুর্দশার কথা একটু ভাবেন, খবর নিয়েন, বাসায় বাজার সদাই আছে? নাকি মুখ চেপে, না খেয়ে দিন পার করছে!