দুঃসময় কাটিয়ে সিনেমার নবজন্মের জন্য প্রস্তুত চীন

Tuesday, March 24th, 2020

বিশ্ব বিনোদনঅঙ্গনের ভয়ংকর খারাপ সময়ে আশার আলোর আভাস দিল চীন। ছবি: ফেসবুকবিশ্ব বিনোদনঅঙ্গনের ভয়ংকর খারাপ সময়ে আশার আলোর আভাস দিল চীন। ছবি: ফেসবুক

 

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সব সিনেমা হল বন্ধ। আপাতত তাই ছবি মুক্তির প্রশ্নই আসছে না। ভারতেও মোটামুটি একই অবস্থা। পিছিয়ে গেছে অক্ষয় কুমারের সূর্যবংশী, রণবীর সিংয়ের এইটি থ্রির মতো বড় বাজেটের বড় আয়োজনের ছবি। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে। এমন সময় চীন কাটিয়ে উঠেছে দুঃসময়। বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনের ভয়ংকর খারাপ সময়ে আশার আলোর আভাস দিল চীন।

ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুসারে, বেশ কিছু হল খুলে দেওয়া হয়েছে। যেসব অঞ্চলে পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ ধরে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি, সেখানে। সোমবার চীনের উরুমকি, জিংজিয়াং, কিনহাই ও ফুজিয়ান প্রদেশে ১৭টি হল খুলে দেওয়া হয়েছে৷ তবে অনেক প্রদেশই এখনো ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মৌলিক চাহিদাপূরণ, স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরুর পর ধীরে ধীরে সব হল খুলে দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তবে বক্স অফিস খুব ধীরে আগাচ্ছে। আর সেটিই স্বাভাবিক।

সিনেমা হলভিত্তিক জীবন গতিশীল করার জন্য চীন কিছু ছোট উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে। যেমন দুটো পপকর্ন কিনলেই সিনেমা দেখা ফ্রি। আবার এক দিনে কেউ যদি পাঁচটা সিনেমা দেখে ফেলেন, তাহলে তিনি পাবেন বিশেষ মেম্বারশিপ কার্ড। সেই কার্ডের নানা সুবিধা আর ছাড় ভোগ করতে পারবেন আগামী এক বছর। এর মধ্যেও শিপ উইদাউট আ শিপার্ড ছবিটি দেখিয়েছে আশার আলো। বেশ কয়েকটি ছবি, যেগুলো আটকে গিয়েছিল, পাইপলাইন ধরে রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। আটকে যাওয়া অনেক ছবির শুটিং শুরু হয়ে গেছে।
সিনেমার বাজার বিশেষজ্ঞ ও বেইজিংয়ের ব্রডওয়ে সিনেমা দ্য কিউয়ের প্রোগ্রামার ইয়ান ইয়ান বলেন, ‘আমাদের সিনেমা নবজন্মের জন্য প্রস্তুত। আবার আমাদের সিনেমা, সিনেমা হল, দর্শক—সব ফিরবে। স্বাভাবিক হবে সিনেমার বাজার।’

প্রথম কিছুদিন থিয়েটারগুলোতে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সরসার্স স্টোনস দেখানো হবে। হলিউড রিপোর্টারের তথ্য অনুসারে, চীনে বন্ধ থাকা প্রায় ৭০ হাজার সিনেমা হল খুলে দেওয়া হবে চলতি সপ্তাহেই। ইতিমধ্যে বেশ কিছু হলে শোভা পাচ্ছে নতুন ছবির পোস্টার।

তবে সচেতনতার যে বিকল্প নেই, তা চীন এত দিনে টের পেয়েছে। হল খুলে দিলেও কোনো ঝুঁকিতে যাবে না তারা। মাস্ক পরে, হাতে স্যানিটাইজার লাগিয়ে তবেই হলে ঢুকতে পারবে দর্শক। শুধু তা–ই নয়, থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে সবার শরীরের তাপমাত্রাও পরীক্ষা করা হবে।

চীনের উহান শহরের একটি মুভি পার্ক। ছবি: ফেসবুকচীনের উহান শহরের একটি মুভি পার্ক। ছবি: ফেসবুক

যে দেশ থেকে করোনার উৎপত্তি, তারা নিজেদের মোটামুটি সামলে নিয়েছে। তাদের জীবনযাত্রা আবার স্বাভাবিক হবার পথে। বিনোদন অঙ্গনও জানান দিচ্ছে, সবকিছুর সঙ্গে ফিরছে সেটিও।
গত জানুয়ারি মাসে চীন উহান শহরকে কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে এবং এর ১ কোটি ১১ লাখ মানুষকে কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। এই প্রক্রিয়া পরে অনুসরণ করা হয় পুরো হুবেই প্রদেশের জন্য। পাঁচ কোটি মানুষকে আইসোলেশনে পাঠায়। ওই সময়ে প্রতিদিন ১৬ লাখ মাস্ক উৎপাদন করেছে তারা।

জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ হাজার ২২৬। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার ৮৮১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সেই দুঃসময়কে যত দ্রুত সম্ভব ইতিহাসের বইয়ের অক্ষর বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করছে তারা। বাদ যাচ্ছে না সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও।