সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

Sunday, February 16th, 2020
নিজস্ব প্রতিবেদক:  সাভারের বিরুলিয়া একটি তৈরি পোশাক কারখানার বকেয়া বেতনের দাবিতে সাভার মিরপুর বিরুলিয়া আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিক্ষুন্ধ শ্রমিকরা। রোববার সকালে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে সামাইর এলাকায় সার্ক নীটওয়্যার লিটিটেড গার্মেন্টস এর সামনে এঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ লাটিচার্জে অন্তত পাঁচ শ্রমিক আহত হন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, ওই পোশাক কারখানায় কাজ করে আসছিলেন কয়েক’শ শ্রমিক। পরে শ্রমিকদের জানুয়ারি মাসের বেতন প্রদান না করেই রবিবার সকালে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কারখানার মূল ফটকে নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগদান করতে এসে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দিয়ে সাভার-মিরপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে শ্রমিকরা দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনের উদ্দেশ্যে এলাকা ত্যাগ করে। অন্যদিকে এদিকে ওই আঞ্চলিক সড়ক সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরোধ করার ফলে রাস্তার দু’পাশে আটকা পড়েছিল শত শত যানবাহন। এ সময় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়লে আন্দোলনকারী শ্রমিক ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিক হাজেরা বেগম জানান, সার্ক নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানার প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করলেও প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে বেতন প্রদান না করে গড়িমসি করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। জানুয়ারি মাসের বেতনও দেই, দিচ্ছি করে টালবাহানা করছিলো কারখানা কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকালে বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন ২০০৬ সালের ১৩ এর (ক) ও (খ) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানার মূল ফটকে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থানীয়দের মদদে বিভিন্ন সময় ১২০ দিন আন্দোলনের নামে উৎপাদন বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। এ রকম অভিযোগের ভিত্তিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনরকম নোটিশ ছাড়াই রবিবার কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। নোটিশের ব্যাপারে কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার মিরাজ হোসেন বলেন, ওই নোটিশের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এটা সম্ভবত হেড অফিস আমার নাম দিয়ে নোটিশ টানিয়েছে। সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জাকারিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।