খুচরা ইয়াবা ব্যবসার অভয়ারণ্য  কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা ও বাদশাঘোনা, বাড়ছে চুরি ছিনতাই,প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর    

Thursday, February 13th, 2020
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ  মাদক নিয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারনে বড় বড় কারবারিরা নিরব হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে খুচরা মাদক ব্যবসায়ী।সরকারের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারীদের ধরতে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে ব্যস্ত  তখন এ সুযোগে নতুন করে এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠেছে ছোট ছোট মাদক ব্যবসায়ী। ততমধ্যে অন্যতম হলো কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা ও বাদশাঘোনা।সরেজমিনে ঘুরে কয়েক জনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গেল বেশকিছু দিন ধরে গোপনে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বৈদ্যঘোনা খাঁজা মনজিল এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী আবু তৈয়বের স্ত্রী ইয়াবা সুন্দরী মোহছেনা বেগম ও তার ছেলে আরিফ।তারা মা ছেলে মিলে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লালুর স্ত্রী আয়েশা নামে এক মহিলা এবং রোহিঙ্গা রুবেলের মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট পাইকারী দামে নিয়ে এসে খুচরা দামে বিক্রি করছেন।তার রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট।তার সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে বৈদ্যঘোনা এলাকার জব্বর কলোনীর আবু বক্করের ছেলে মোঃ নুরু একই এলাকার মৃত আব্দু জব্বারের ছেলে তারেক,প্রকাশ বুতাইয়ার ছেলে শিমুল,দবির আহমদের ছেলে কবির মুন্সি ও জসিম উদ্দিনের ছেল ইসমাইলসহ আরও অনেকে।এদের প্রত্যকের নামে ছিনতাই চুরিসহ বেশ কয়েকটি মামলা আছে। জেল কেটেছে আবার জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে টেকনাফ সাবরাং এলাকা থেকে এসে বাদশাঘোনা এলাকায় (পিএমখালীর আজিজের) বাড়ীতে বাসা ভাড়া নিয়ে কৌশলে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছে স্বামী স্ত্রী।তারা হলো নুরুন্নাহার স্বামী হাবিব উল্লাহ, হাবিব উল্লাহ পিতা অঙাত তাদেরও একটা বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ এলাকার এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন,হাবিবউল্লাহ নামের লোকটি প্রায় বছর খানেক ধরে এই এলাকায় বসবাস করছে কিন্তু কোন দিন তাকে কোন কাজ কর্ম করতে দেখলাম না।মাঝে মাঝে তিন চার দিন কোথায় চলে যায় আবার এলাকায় দেখা যায়। সপ্তাহের তিন চার দিন পর পর অপরিচিত কিছু মানুষ দামী দামী মোটর সাইকেল নিয়ে তার বাসায় আসে কয়েকঘন্টা পর চলে যায়। এলাকার অনেকের কাছে শুনতে দেখা গেছে তার বউ টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান এনে স্বামীকে দিয়ে সুবিধা মত সময়ে চট্টগ্রাম ঢাকায় সেই ইয়াবা পাচার করে দেন।গেল একবছরে পাঁচবারের উপর বাসা বদল করেছে সে।কেউ যেন সন্দেহ করতে না পারে৷ এক বাসায় এক দুই  মাসের বেশি থাকে না।এখন শুনা যাচ্ছে আগামী মার্চ মাসে নাকি মধ্যমঘোনার পাড়া আর্মি কলোনীতে চলে যাচ্ছে।অন্যদিকে হাবিব উল্লাহর আরেক ভায়রাভাই,আলী আহমেদ সেও টেকনাফ থেকে এসে শহরে  ফল ব্যবসার আড়ালে রমরমা ইয়াবা ব্যবসা চালালেও সব সময় সে অধরা থেকে যায়।তার সাথে একই ব্যবসার পার্টনার অনেকে জেল কেটেছে এবং জেল থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে কিন্তু এ আলী আহমেদ কৌশলে অধরা থেকে যায়। সে দীর্ঘ দিন ভাড়া বাসায় থাকলেও হাবিব উল্লাহর মাধ্যমে সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ঢাকায় চালান করে গেল কয়েক বছরে কপাল খোলেছে। বাদশাঘোনা এলাকায় জমি কিনে বাড়ী করেছে,ছেলেকে ঢাকার দামী কলেজে ফ্লাট ভাড়া করে পড়ালেখা করাচ্ছে।প্রায় সাত আট লাখ টাকা খরচ করে গেল বছর মেয়ে বিয়ে দিয়েছে,নিজ এলাকায় জমি কিনেছে কক্সবাজার টেকনাফ রোডে গাড়ি কিনে ভাড়া দিয়েছে,বাজারঘাটার বিভিন্ন ফলের দোকানে সুদের উপর টাকা লাগিয়ত করেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে একই এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাসকারী পুরাতন রোহিঙ্গা ছৈয়দুল আমিন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী অত্যান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।সে একাধিক মামলার আসামি।জেল কেটেছে অনেক বার।এলাকার সবাই জানে সে একজন ইয়াবাকারবারি।প্রকাশ্যে ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাওয়ার পরেও কোন অদৃশ্য ইশারায় তার ব্যাপারে এলাকার কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। খবর নিয়ে জানা গেছে,স্থানীয় মৃত রাজু বৈদ্যের ছেলে আব্দু রহিমের বাসায় নিয়মিত ইয়াবার আসর জমতো।পুলিশের অভিযানে সেই রহিমকে গ্রেফতার করার পর আস্তানা বদল করে নতুন ভাবে একই এলাকার  মৃত রমজান আলীর ছেলে মোঃ সেলিমের বাসায় আস্তানা গেরেছে।প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সেলিমের বাসায় ছৈয়দুল আমিনের নেতৃত্বে ইয়াবা সেবন এবং ইয়াবা ও গাজা বিক্রির হাট বসে। সেখানে চিহ্নিত ছিনতাইকারী চোর ও মা বাবার অবাধ্য বকাটেরা নিয়মিত ক্রেতা। তারা ইয়াবা সেবন করে রাতে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঢুকে মোবাইল কাপড়চোপড় সহ মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র চুরি করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,হাত বাড়ালে ইয়াবা পাওয়া যায়।ছোট ছোট করে অনেকেই খুচরা ইয়াবা বিক্রি করছে।তার মধ্যে আল আমিন,সাকিল,মাহমুদুল ফকিরের ছেলে মোঃজামাল, ইলেকট্রিক মেস্ত্রী আইয়ুব,কুদ্দুস,ছৈয়দ করিমের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক সে ইয়াবা চালান নিয়ে চট্টগ্রাম পুলিশের হাতে আটক হন আরেক দাপটে ইয়াবা কারবারি পুরাতন রোহিঙ্গা কাসেম খলিফার ছেলে মোঃ ওসমান।তার এক ভাই গেল কিছুদিন পূর্বে ইয়াবাসহ ব্যাবের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে জেলে আছে।এদের অনেকে জেল থেকে বের হয়ে আবার সেই একই ব্যবসায় সক্রিয় হয়েছে।যে ইয়াবার চালান নিয়ে আটক হয়েছিল আব্দুর রাজ্জাক জানা গেছে সেই ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল ফল ব্যবসায়ি আলী আহমদের।এছাড়া আরও বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়।
এসব বিষয়ে অত্র বাদশাঘোনা এলাকার সভাপতি আব্দুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা এসব ইয়াবা কারবার করছে তারা এলাকার নয়।বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে কৌশলে এসব অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে।এদের কারনে এলাকার কিছু ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে কাজ কর্ম ছেড়ে দিয়ে চুরি ছিনতাইতে নেমেছে ইয়াবার টাকা জোগাড় করতে।এ কারনে এলাকায় চুরি ছিনতাই বেড়েছে।আমরা চেষ্টা করেও এসব বন্ধ করতে পারছি না। আপনাদের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সরকারে ঘোষণা অনুযায়ী মাদকের ব্যাপারে আমরা সোচ্চার। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।শহরে নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত আছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।