খুব কাছ থেকে করোনাভাইরাসের যে ভয়াবহতা দেখেছে জাহাজে আটকা দুই কিশোর-কিশোরী

Thursday, February 13th, 2020
জাহাজে আটকা দুই কিশোর-কিশোরী খুব কাছ থেকে করোনাভাইরাসের যে ভয়াবহতা দেখেছে

জাহাজে আটকে পড়া পরিবার

ডেস্ক নিউজঃ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের আতঙ্কে রয়েছে চীনসহ পুরো বিশ্ব। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রেক্ষিতে ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামের একটি ক্রুজ জাহাজে বিচ্ছিন্ন (কোয়ারান্টাইন) অবস্থায় আটকে পড়েছে একটি পরিবার। জাপানের ইয়োকোহামার বন্দরে জাহাজটি আটকে ছিল।

বাবা-মায়ের সাথে দুই সপ্তাহের জন্য ক্রুজ জাহাজে বেড়াতে যাওয়া আনন্দেরই ঘটনা। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুদের আটকে পড়ার বিষয়টি খুব একটি সুখকর বিষয় নয়।

এই পরিবারের একজন সদস্য ১৯ বছর বয়সী সেন্ডার সো। তিনি বাজ নিউজকে বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে আপনার য দরকার তা হলো এক জোড়া হেডফোন এবং সংগীত। এতেই আপনি নিজেকে প্রস্তুত মনে করতে পারেন।

সোহ এবং তার ১-বছর বয়সী বোন ক্যাটলিন এবং তাদের বাবা-মা জাপানের ইয়োকোহামার বন্দরে ডায়মন্ড প্রিন্সেস ক্রুজ জাহাজে আটকে ছিলেন। ক্রুজ শিপটিতে আরো ১,০০০ কর্মীসহ প্রায় ৩৭০০ জন ছিলেন।

এখনও পর্যন্ত জাহাজটিতে থাকা  লোকজনদের মধ্যে ৬১ জনের দেহে করোনভাইরাসের সন্ধান (পজিটিভ)মিলেছে। তারা স্থলভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ক্যাটলিন বলেন, আমরা সময়ের বোধ (সেন্স) হারিয়ে ফেলেছি। তবে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি কেননা, আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার সুযোগ ছিল। এ সময়টা আমরা বন্ধুদের সাথে চ্যাট করে কাটাতে পেরেছি।

জাহাজটিতে নিয়ম করা হয়েছিল, যাত্রীদের অবশ্যই সর্বদা কক্ষে থাকতে হবে। কর্মীরা তাদের জন্য তাদের দরজার বাইরে খাবার-দাবার রেখে আসবে।

ক্রুজ শিপটির কর্মীরা শুক্রবার বিকেলে অভ্যন্তরীণ কক্ষগুলি থেকে যাত্রীদের একবারে এক ঘন্টার জন্য তাজা বাতাস গ্রহণ করতে ডেক আসার সুযোগ দিয়েছে।

সোহরা মঙ্গলবার থেকে প্রথমবারের মতো ১৬৮ বর্গফুট ফুট ঘরের মধ্যে অবস্থান করছে।

তাদের মা অন না টান বাজফিড নিউজকে বলেন, করোনাভাইরাস কোয়ারান্টাইনের (বিচ্ছিন্নতা) কারণে এই প্রথম একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছি। বিশেষত যখন জানতে পারলাম ১৯ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আমাদের জাহাজে আটকে থাকতে হবে।

সোহ পরিবারের কোনও সদস্যদের দেহেই ভাগ্যক্রমে কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেনি।

তিনি বলেন, বাচ্চাদের স্কুল, নৃত্য ও গানের শিক্ষকদের ই-মেল লেখার জন্য আমাকে কিছুটা সময় ব্যয় করতে হয়েছিল। আমাদের ধীরে ধীরে অস্থিরতা কাটিয়ে উঠেছিলাম।

ইতিমধ্যে পরিবারটির অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে তাদের বাড়িতে ফিরে আসার কথা। তাদের দুবার বিমানের ফ্লাইট  বাতিল করতে হয়েছিল।

টান বলেন, জাহাজে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থেকেও আমরা বেশ ভালভাবে সময় কাটিয়েছি। আমরা রসিকতা করে আনন্দের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করেছি। এ সময় বাচ্চারা হেডফোনে গান শুনে আর সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যাট করেও সময় কাটিয়েছে।

তিনি বলেন, বাচ্চারা নাচে-গানে-আনন্দে টেনশন ফ্রি সময় কাটানোর চেষ্টা করেছে। তারা এছাড়া বই পড়েছে, ভিডিও দেখেছে এবং স্মার্টফোনে গেম খেলে সময় পাড় করেছে।

সূত্র : বাজফিড ডট নিউজ