পড়ে আছে অযত্নে নারীদের অভিযোগ বাক্স

Thursday, February 13th, 2020

নির্যাতনের শিকার নারীদের অভিযোগ জানাতে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ বাক্সগুলো। কিন্তু এগুলো ফেলে রাখা হয়েছে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে। সম্প্রতি ডিএনসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রথম আলোনির্যাতনের শিকার নারীদের অভিযোগ জানাতে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ বাক্সগুলো। কিন্তু এগুলো ফেলে রাখা হয়েছে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে। সম্প্রতি ডিএনসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে।

 

ডেস্ক নিউজঃ নির্যাতন বা হয়রানির শিকার নারীদের অভিযোগ জানতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্বচ্ছ বাক্স পাঠিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কথা ছিল, এগুলো কাউন্সিলরের কার্যালয়সহ জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হবে। কিন্তু অভিযোগ বাক্সগুলো কাউন্সিলরের কার্যালয়ে অযত্ন–অবহেলায় পড়ে আছে।

যেসব ওয়ার্ডে অভিযোগ বাক্স দেওয়া হয়েছে, সেসব ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনেরও কথা ছিল। কিন্তু তা–ও হয়নি বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসির কল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছ কাচের প্রায় ৪০টি ‘অভিযোগ বাক্স’ বানানো হয়েছিল। পাঁচটি সাধারণ ও দুটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি করে বাক্স বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএনসিসির পাঁচটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে একটি করে বাক্স পাঠানো হয়েছে।

যেসব ওয়ার্ডে স্বচ্ছ বাক্স পাঠানো হয়েছে, সেসব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগ বাক্সগুলো কাউন্সিলরের কার্যালয় কিংবা অন্য কোনো জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হয়নি। কার্যালয়ে অযত্ন–অবহেলায় পড়ে আছে। বাক্সের ভেতরে কোনো অভিযোগও জমা পড়েনি।

নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীবান্ধব নগর গড়ার লক্ষ্যে বিশিষ্টজনদের নিয়ে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর নগর ভবনে বিশেষ সভা করেন ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম। সভায় অভিযোগ বাক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ৯ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

পরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে গত ২৯ নভেম্বর ডিএনসিসি আয়োজিত অনুষ্ঠানের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ বাক্সে নির্যাতন বা হয়রানির শিকার যেকোনো নারী অভিযোগ জানাতে পারবেন।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়তে, বিশেষভাবে নারী–শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য নিরাপদ নগর গড়তে ডিএনসিসির সব ওয়ার্ড, জনপরিসর, মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্সে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। প্রতি মাসে এ অভিযোগ বাক্স খোলা হবে। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার কর্মীর সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ কমিটি করা হবে। আইন অনুযায়ী অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে।

উত্তরায় ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফছার উদ্দীনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্সিলর কার্যালয়ের একটি কক্ষে পাঁচটি অভিযোগ বাক্স পড়ে আছে। গত সোমবার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রজ্জব হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাক্সের ওপর আরেকটি ফেলে রাখা। কার্যালয়ে কাউন্সিলর বা সচিব কেউ ছিলেন না। সেখানে থাকা মোর্শেদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিজেকে কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে বক্সগুলো স্থাপন করা হয়নি।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবাশ্বের চৌধুরীর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ‘অভিযোগ বাক্স’ দুটি কার্যালয়ের বাইরে সিঁড়ির গোড়ায় ফেলে রাখা হয়েছে। ধুলাবালি জমেছে বাক্সের ওপর। সেখানে থাকা নিরাপত্তাপ্রহরী বলেন, আনার পর থেকে বাক্সগুলো এখানেই পড়ে আছে। তিনি মাঝেমধ্যে বাক্সগুলো মুছে দেন। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে কোনো অভিযোগ বাক্স দেখা যায়নি। ডিএনসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানেও দুটি বাক্স দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ বাক্স কোথায় স্থাপন করা হয়েছে, জানতে চাইলে কার্যালয়ে থাকা মো. শাহীন শিকদার জানান, নগর ভবন থেকে এনে সেগুলো এক জায়গায় রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথায় রাখা হয়েছে, তিনি তা জানেন না।

২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুম গনির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটির ওপর আরেকটি অভিযোগ বাক্স। ওয়ার্ডের সচিব উত্তম কুমার বলেন, বাক্স নিয়ে কী করা হবে, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কাচের বাক্সগুলো বাইরে রাখলে ভেঙে যাবে, তাই ভেতরে রাখা হয়েছে।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর মাসুম গনি বলেন, বাক্সগুলো নগর ভবন থেকে এনে তাঁর কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো দিয়ে কী করতে হবে, কোথায় স্থাপন করতে হবে, তা তিনি জানেন না। এ ছাড়া পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনাও তিনি পাননি। এ বিষয়ে ওয়ার্ডের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীবান্ধব নগর গড়ার লক্ষ্যে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির একজন ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন। অভিযোগ বাক্স কাউন্সিলর কার্যালয়ে ফেলে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাক্সগুলো জনসমাগমস্থলে স্থাপন করার কথা। নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে কাউন্সিলররা হয়তো বাক্সগুলো স্থাপন করেননি।

ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, বাক্সগুলো বিতরণের সময় ওয়ার্ডভিত্তিক পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের জন্য কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিটি গঠনসংক্রান্ত কাগজপত্র কোনো কাউন্সিলর তাঁদের কাছে জমা দেননি।