সোনারগাঁয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আটক জাকির হোসেনকে লোক দেখানো মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

Thursday, January 23rd, 2020

 

সাইফুল খান (সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ফোরকানউদ্দিন নামে এক যুবক আহত ও পরবর্তীতে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগের পর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাকির হোসেন নামে একজনকে আটক করে পরে লোক দেখানো মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার চিলারবাগ এলাকার মৃত. বাহাউদ্দিনের ছেলে ফোরকানউদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে উপজেলার বাড়ী মজলিশ গ্রামের আঃ মান্নানের সন্ত্রাসী ছেলে মাসুম বিল্লাহ তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোগড়াপারা চৌরাস্তা এলাকার রহমত ম্যানশনের সামনে আসতে বলে। ফোরকান উদ্দিন সেখানে পৌঁছলে সন্ত্রাসী মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে উপজেলার মোগড়াপারা ইউপি’র কাবিলগঞ্জ এলাকার সইফতের ছেলে জাকির হোসেন, বাড়ি মজলিশ এলাকার কামালের ছেলে শুভ, ইকবালের ছেলে ইমন ও আঃ রাজ্জাকের ছেলে নাহিদসহ কতিপয় সন্ত্রাসী মিলে তাকে আটক করে পার্শ্ববর্তী বাড়ি চিনিস গ্রামে সন্ত্রাসী মাসুম বিল্লাহর বাড়ীর সামনে ফাকা মাঠে নিয়ে গিয়ে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এদিকে সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত মোটা অংকের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে তার সাথে থাকা ৯,০০০/- টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং তাদের দাবীকৃত উক্ত মোটা অংকের চাঁদা না দিলে পরবর্তীতে সুযোগ মতো পেলে নামে-বেনামে মিথ্যে কাগজপত্র তৈরী করে তাদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা ও বাদীর ভাড়ায় চালিত একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক ১৪-০৩৬২) জোরপূর্বক আদায় করবে বলে জানায়। অপরদিকে ফোরকানকে সন্ত্রাসী কর্তৃক আটকের বিষয়টি তার আত্মীয়স্বজন লোকমুখে ও মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পেরে তারা সোনারগাঁ থানা পুলিশকে বিয়য়টি অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ফোরকানকে ছেড়ে দিয়ে ও প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ আহত ফোরকানকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আহত ফোরকান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সোনারগাঁ থানায় সন্ত্রাসী মাসুম বিল্লাহকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ আর ও ২/৩জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে পরদিন বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত জাকির হোসেনকে তার নিজ বাড়ী থেকে আটক করে থানায় নিয়ে জামাই আদর দিয়ে লকআপে না ঢুকিয়ে বারান্দায় বসিয়ে রাখে এবং বাদী ফোরকানের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, বাদী ফোরকানউদ্দিনের সাথে আর্থিক লেনদেনের সূত্রতার কারণেই অভিযোগের মূল নায়ক সন্ত্রাসী মাসুম বিল্লাহ তার কতিপয় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ফোরকানকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে আটক করে মারধর করে। এদিকে সন্ত্রাসী মাসুম বিল্লাহ ও অন্যান্য আসামীদেরকে পুলিশ আটক করতে না পারলেও ঘটনায় জড়িত অপর সন্ত্রাসী জাকির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আসামী জাকিরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ও তাকে আদালতে না পাঠাতে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি ও কথিত কতিপয় সাংবাদিকরা অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সলিমুল হক, থানার সেকেন্ড অফিসার পংকজ কান্তি সরকার এবং ওসি মনিরুজ্জামানকে গোপনে ম্যানেজ করে। পরে দীর্ঘ সময় পর কথিত কতিপয় সাংবাদিকরা আসামী জাকিরকে মিথ্যে লোক দেখানো মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনাটি পুরো সোনারগাঁবাসীর মাঝে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এব্যাপারে সোনারগাঁ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ হয়েছে আমি শুনেছি। কিন্তু আটককৃত আসামী জাকিরের সাথে অভিযোগের বাদী ফোরকান উদ্দিনের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সামান্য ভূল বুঝাবুঝি হয়েছে বলেও আমি শুনেছি। তাই এঘটনায় আসামীর পক্ষে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি ও কথিত কতিপয় সাংবাদিকরা লেনদেনের বিষয়টি দু’পক্ষেই মিমাংশিত করে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।