ঢাবির সান্ধ্য কোর্সের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়, বাণিজ্য!

Wednesday, January 22nd, 2020

 

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নয়টি বিভাগে নিয়মিত স্নাতকোত্তর পাস করতে বছরে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে। অথচ একই বিভাগগুলোতে থাকা সান্ধ্য কোর্স ও পেশাজীবী (প্রফেশনাল) কোর্স করতে লাগে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

এই অনুষদে শিক্ষা-বাণিজ্যের উৎসব এতটাই রমরমা যে সান্ধ্য কোর্স ও চারটি প্রফেশনাল কোর্সে বছরে তিন ভাগে নিয়মিত শিক্ষার্থীর প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। একই ধরনের কোর্স আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদেও।

আছে দেড় থেকে দুই বছর মেয়াদি বিভিন্ন কোর্স, আছে এক বছর মেয়াদি শর্ট কোর্সও। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাই নিজেদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য এসব কোর্সে ভর্তি হন। কোর্সগুলোর মধ্যে আছে স্পেশালাইজড মাস্টার্স, এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স, প্রফেশনাল কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স, শর্ট কোর্স ইত্যাদি।

সামার, উইন্টার ও স্প্রিং-এই তিন ভাগে ৭২০ জন করে মোট ২ হাজার ১৬০ শিক্ষার্থী প্রতিবছর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্য ও প্রফেশনাল কোর্সগুলোতে ভর্তি হন। অথচ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এই অনুষদে প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান ১ হাজার ২৫০ জন।

সান্ধ্য কোর্সের প্রতি শিক্ষকদের মনোযোগ বেশি। শিক্ষকতা ও গবেষণায় বঞ্চিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৮৪টি বিভাগ ও ১২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। আর মোট ৪১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সান্ধ্য কোর্সসহ অন্তত ৮০টি কোর্স পরিচালিত হয়। এগুলোর মধ্যে কেবল সান্ধ্য কোর্স আছে ২৫টি বিভাগ ও ১০টি ইনস্টিটিউটে।

সাধারণত বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এসব কোর্সের ক্লাস হয়। কিছু কোর্সের ক্লাস হয় শুধু ছুটির দিনে (শুক্র ও শনি)। যেকোনো পেশার বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীরা এসব কোর্সে ভর্তি হতে পারেন।

নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাড়তি টাকা পাওয়ায় সান্ধ্য কোর্সের প্রতি শিক্ষকদের মনোযোগ বেশি। সান্ধ্য কোর্সের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অনেকে আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্লাস নেন। ফলে শিক্ষকতা ও গবেষণা-উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঞ্চিত হচ্ছে।

গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণহারে চালু হওয়া সান্ধ্য কোর্সের কড়া সমালোচনা করেন। এর দুই দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের কাছে পাঠানো চিঠিতে সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করাসহ ১৩ দফা পরামর্শ দেয়৷

বাণিজ্যই মুখ্য উদ্দেশ্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগে সান্ধ্য কোর্স আছে, সেগুলো হলো তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, পপুলেশন সায়েন্স, উন্নয়ন অধ্যয়ন, অপরাধবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি, সমুদ্রবিজ্ঞান, দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, যোগাযোগ বৈকল্য, লোকপ্রশাসন, থিউরিটিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি, থিউরিটিক্যাল ফিজিকস, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ম্যানেজমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ও অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ।

ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে সান্ধ্য কোর্স আছে ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউট, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, শক্তি ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, পরিসংখ্যান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে।

বিভিন্ন অনুষদ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এই টাকার ৬০ শতাংশ শিক্ষকেরা পাচ্ছেন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে যোগ হওয়ার কথা ৩০ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ পরিচালন ব্যয়। তবে অভিযোগ আছে, সব বিভাগ ৩০ শতাংশ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়কে দিচ্ছে না।

কোর্সের মান নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অবশ্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, একই মানের কোর্স বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে গেলে খরচ অনেক বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা বেশ কম। সান্ধ্য স্নাতকোত্তর কোর্সের ক্লাসগুলো এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। নিয়মিত মাস্টার্সের ক্লাসগুলোর দৈর্ঘ্যও প্রায় একই রকম।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের দুজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, সান্ধ্য কোর্সের ক্লাস নেওয়া শিক্ষকেরা প্রতি সেমিস্টারে ৮০ হাজার টাকার মতো পান। তবে অধ্যাপকদের থেকে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকেরা পাঁচ হাজার টাকা করে কম পান। অন্য অনুষদের কোর্সগুলোতেও টাকার অঙ্ক প্রায় একই। কোনো কোনো শিক্ষক একাধিক সান্ধ্য কোর্সের ক্লাস নেন। এতে মূল বেতনের বাইরেও ভালো আয় হওয়ায় তাঁরা সান্ধ্য কোর্সে গুরুত্বের সঙ্গে ক্লাস নেন।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর এই অনুষদের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে সদ্য এমবিএ শেষ করেছেন তানভীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষকেরা খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন। এখান থেকে এমবিএ করে তিনি খুবই উপকৃত হয়েছেন। একই ডিগ্রি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিতে গেলে খরচ হতো প্রায় দ্বিগুণ।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নয়টি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সে বছরে প্রতি সেশনে ভর্তি হওয়া মোট ২ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। বিভাগ ও কোর্সভেদে টাকার অঙ্কে পার্থক্য আছে। গড়ে দুই লাখ টাকা ধরলে প্রতিবছর এই ৯ বিভাগের সান্ধ্য কোর্স থেকে অন্তত ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। এর ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হওয়ার কথা।

বাকি ১৬টি বিভাগ ও ১০টি ইনস্টিটিউটে সান্ধ্য কোর্সে প্রতিবছর প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাঁদের ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত কোর্স ফি দিতে হয়। গড়ে দেড় লাখ টাকা ধরলে টাকার অঙ্কটা দাঁড়ায় ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর ৩০ শতাংশ করলে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আসে।

সান্ধ্য কোর্সের আয়ের ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ অন্তত ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে যোগ হওয়ার কথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালকের দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ইলিয়াছ হোসেন কাছে দাবি করেন, যেসব বিভাগে সান্ধ্য কোর্স আছে, তারা আয়ের ৩০ শতাংশ যথাযথভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়কে দিচ্ছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট হিসাব তাঁদের কাছে নেই।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়–ব্যয়ের হিসাব বলছে, গত বছর বিবিধ আয় ছিল ১২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই টাকার মধ্যে সান্ধ্য কোর্স ছাড়াও দরপত্র ও প্রকাশনা থেকে আয়সহ আরও কয়েকটি খাতের আয় রয়েছে। তবে সান্ধ্য কোর্সের ভর্তি ফরম বিক্রি বাবদ আয় আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

বিষয়টি উল্লেখ করা হলে ইলিয়াছ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সান্ধ্য কোর্সের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কোর্সগুলো পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যেই তাঁরা একটি কমিটি করেছেন। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কোর্সগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একদিকে পর্যালোচনা, অন্যদিকে ভর্তি
ইউজিসির পরামর্শের পরপরই জগন্নাথ ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সান্ধ্য কোর্স বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা কমিটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী বলেছেন, শিগগিরই তাঁরা প্রতিবেদন দিতে পারবেন।

সান্ধ্য কোর্সসহ বাণিজ্যিক কোর্সগুলোর বিষয়টি ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি থেমে নেই। গত বছরের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের আগেই বেশির ভাগ সান্ধ্য কোর্সের স্প্রিং সেশনের ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেছে, কোনো কোনো কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে, কোনো কোনোটিতে শেষ। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সান্ধ্য কোর্স বন্ধের কোনো নির্দেশনা তাঁরা পাননি। তাই যথাসময়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে।

সান্ধ্য কোর্স খোলার প্রেক্ষাপট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানো ও চাকরিজীবীদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স শুরু হয়। এই শিক্ষকদের প্রত্যেকেই আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চারটি বিভাগে এই কোর্স প্রথম শুরু হয়েছিল। একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের চেয়ে সান্ধ্য কোর্স গুরুত্ব পেয়েছে সহজে সনদপ্রাপ্তির উপায় হিসেবে। ফলে মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে সান্ধ্য কোর্স ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করেছে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫টি বিভাগে বর্তমানে চালু থাকা সান্ধ্য কোর্সের ২০টিই চালু হয়েছে গত ১০ বছরে। সাম্প্রতিক কালেই কেন সান্ধ্য কোর্সের এই বাড়বাড়ন্ত জানতে চাইলে ওই শিক্ষক বলেন, দেশের করপোরেট সেক্টর অনেক বেশি বিস্তৃতি লাভ করেছে। তবে মূলত ব্যবসায়িক চিন্তা থেকেই এই বাড়বাড়ন্ত। শিক্ষকদের বেতন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ–সুবিধা বাড়ালে এটি কমবে বলে মনে করেন তিনি।

সান্ধ্য কোর্স পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বিপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ। ২০০১ সালে সান্ধ্য কোর্স চালু হওয়ার পর সাত বছর উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর মতে, সান্ধ্য কোর্স যখন চালু হয়, তখন এর কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না। উপাচার্য থাকাকালে সান্ধ্য কোর্স থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্য অর্থ তিনি বিভিন্ন ভবন নির্মাণে বরাদ্দ করেছেন বলে জানান। তিনি মনে করেন, সান্ধ্য কোর্স পুরোপুরি বন্ধ না করে বরং বিকল্প কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

তবে সান্ধ্য কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এখানে শিক্ষার নামে বাণিজ্য চলতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানের চর্চা হবে, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক বক্তব্য, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে দাবির পর সান্ধ্য কোর্স থাকার আর সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। তবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কোর্স থাকতে পারে।