হাবিপ্রবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

Saturday, December 14th, 2019

 

আজিজুর রহমান (হাবিপ্রবি প্রতিনিধি) দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০১৯ পালিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কালো ব্যাচ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শহীদ মিনার বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ, কর্মচারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু.আবুল কাসেম প্রদত্ত বাণী পড়ে শোনানো হয়।

বাণীতে উপাচার্য অধ্যাপক ড.মু. আবুল কাসেম বলেন, দেশ প্রেমিক বুদ্ধিজীবীগণ এদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তারা এদেশের মানুষের মনে স্বদেশ প্রেমের প্রেরণা যুগিয়েছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীগণ তাঁদের মেধা ও মনন দিয়ে এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের অপামর জনসাধারনসহ বুদ্ধিজীবীরাও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করেছিলেন। যা পাকিস্থানী ও তাদের এদেশীয় দোসররা মোটেই ভালভাবে গ্রহণ করেনি। ফলে, পরাজয়ের প্রতিহিংসা আগাম চরিতার্থ করতেই তারা বেছে নিয়েছিল ওই নৃশংস হত্যাকান্ড। পাকিস্থানের সামরিক জান্তা পরাজয়ের আগমুহুর্তে পরিকল্পিতভাবে বেছে বেছে হত্যা করেছিল জাতির অগ্রণী শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের। তারা চেয়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।

বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ড একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পরিকল্পিত অপরাধ। ঠান্ডা মাথায় ঘটানো নিধনযজ্ঞ। বুদ্ধিজীবী নিধনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে এদেশীয় কিছু ঘৃণিত কুচক্রী। রাজাকার, আলবদর এবং আলশামস বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া পাকিস্থানী হানাদারদের পক্ষে এতটা ব্যপক এবং লক্ষ্যভেদী হত্যাযজ্ঞ চালানো সম্ভব ছিল না। আজকের এই দিনে আমি জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই কারণ তাঁর সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক বাঁধা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের হত্যাসহ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচার সুষ্ঠুভাবে করে চলেছেন। আমরা প্রত্যাশা করছি সকল বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় অভিযুক্তদের বিচার সম্পন্ন করে এবং বিচারের রায় কার্যকরের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে কলঙ্কমুক্ত হবো।ইতিহাসের এই বর্বর হত্যাকান্ডে সমগ্র জাতির সাথে হাবিপ্রবি পরিবারও গভীর শোকাভিভূত।

তিনি আরও বলেন,বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলকে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের অগ্রতিতে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালনের জন্য আহবান জানাচ্ছি।