বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী-অভিভাবক

Thursday, December 5th, 2019

 

আজিজুর রহমান (হাবিপ্রবি প্রতিনিধি) জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সংগঠন ও আশেপাশের এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়েছে উত্তরবঙ্গের সবুজে ঘেরা বৃহত্তম ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি যুদ্ধ। ভর্তি পরীক্ষা অংশ গ্রহণকারী বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দিনাজপুর বাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালোবাসা, আদর-আপ্যায়ন ও নিরাপত্তায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার “সি” ইউনিটের পরীক্ষা শেষ হওয়ার মধ্যে দিয়ে ৪টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে। এর আগে গত (২ ডিসেম্বর) কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে চার শিফটে “ডি” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বরে যথাক্রমে “এ”, ” বি” ও “সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আগমন করেছিলেন প্রায় দেড় লক্ষ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। তাদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পর্বতমালা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের প্রথম সবুজে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়। দিনাজপুর প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

ক্যাম্পাসে প্রায় ৩০ টি স্টলে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। হামদর্দ-রূহ আফজাসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে শরবত ও বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করতে দেখা গেছে। অসুস্থ ও আহত পরীক্ষার্থীদের চিকিৎসা-সহয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও রোভার স্কাউট। নিম্নমানের খাবার ও অতিরিক্ত দ্রব্য মূল্য প্রতিহত করতে তৎপর ছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া প্রতিটি স্টলে ব্যাগ, মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল রেখেছেন নিজ দায়িত্বে। শহরের বেশকয়েকটি সড়কগুলোতে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র (ক্যাম্পাস) পেতে সহায়তা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ।

শহর ও ক্যাম্পাস এলাকার জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, আবাসিক হোটেল মালিক সমিতি, মেস মালিক সমিতি, হোটেল মালিক সমিতি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় প্রতিহত করতে সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন এবং বিভিন্ন হোটেলগুলোতে নির্ধারিত খাবারের মূল্য তালিকার প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

অন্য দিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের সুব্যবস্থার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির উদ্যোগে স্পেশাল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়।

রাজশাহী থেকে আগত পরীক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, আমি পরীক্ষার আগের রাতেই ফুলবাড়ির এক বন্ধুর বাসায় উঠেছি। সকালে ফুলবাড়ি থেকে দিনাজপুর শহরে এসে নামতেই পাশের এক ফলবিক্রেতা বললো আপনি কি পরীক্ষা দিতে এসেছেন? হ্যাঁ বলতেই এক অটো ডেকে দিলো। আর নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাস সহ দিনাজপুর শহর, সড়কগুলোতে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়িও দেখলাম তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

পঞ্চগড় থেকে আগত শিক্ষার্থীর ‘মা’ জানান, নিরাপত্তা, যাতায়াত, খাদ্য ও বিশ্রামের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেয়া ব্যবস্থাগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। ভর্তিচ্ছুরা হলে ও মেসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারছেন। এমন বড় কার্যক্রমে উনিশ-বিশ হবেই তবে পরীক্ষা দিতে এসে দিক-নির্দেশনা নিয়ে কোন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের।

পরীক্ষার্থী নাহিদ, পপি, সানজিদা ও সুমন বলেন, পরীক্ষার্থীদের থাকা, খাওয়া ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। কিন্তু গত দুইদিনে আমাদের কোনপ্রকার জটিলতার মধ্যে পরতে হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সবসময় তৎপর ছিলেন।

তাঁরা আরও জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের ভেতরে নেয়া, বাইরে ব্যাগ, ঘড়ি, মোবাইল রাখার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো। এখানে পরীক্ষার্থীর সাথে কোন অভিভাবক না আসলেও সমস্যা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড মু আবুল কাসেম বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সু-শৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমি হাবিপ্রবি পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখা, কর্মচারী, হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি, রোভার স্কাউটস, হাবিপ্রবি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুষ্ঠু ও সফলভাবে সুসম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), গোয়েন্দা সংস্থা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, দিনাজপুরের সকল ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য বাস মালিক সমিতি, মেস মালিক সমিতি ও হোটেল মালিক সমিতির সকল সদস্যকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।