লালমনিরহাটে ৩ শিশু ধর্ষন মামলায় ব্যাংকার পলাতক

Wednesday, December 4th, 2019


মোঃমামুনুর রশিদ (মিঠু), লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ব্যাংকার মোবারক। বয়ষ তার ৫০ উর্দ্ধো। বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে। তুষভান্ডার টেপারহাট গ্রামে তার বসত বাড়ী ও খামার। পেশায় এক জন ব্যাংকার হলেও নেশায় একজন শিশু ধর্ষক। ৪শিশু ধর্ষন মামলায় এখন পলাতক। মোবারক তুষভান্ডার এলাকার কোটিপতি। ব্যাংকের চাকুরীর সুবাদে অঢেল টাকার হয়েছেন মালিক। মঙ্গলবার রাতে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানায় ৪শিশু ধর্ষন মামলা নিয়ে চলছে তোলপাড়। মামলার বিবরন ও একাধিক সূত্রে জানাগেছে,লালমনিরহাট জেলা শহরের মিশন মোড় এলাকায় অগ্রনী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোবারক। তার গ্রামের বাড়ী জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুলষভান্ডার টেপাটারী। এলাকায় প্রভাবশালী। কয়েকটি বাহিনী রয়েছে তার। কোমলমতি শিশু ধর্ষন করাই তার পেশা। শিশুদের র্ধষনের কু-মতলবে বাড়ির আদূরে তৈরী করেছেন বাগান। বাগানে তার নাতনির বয়ষি শিশুদের ধর্ষন করাই নেশা। এলাকার ৪ শিশুকে তার বাগানে নিয়ে যায় পর্যায় ক্রমে খাবার লোভে। এমনকি তার চকলেট,বিস্কুট দিয়ে শিশুদের খাবারের লোভ দেখানো রয়েছে তার কৌশল। শুক্রবার শিশু ধর্ষনের দিন তার। গত ২০ দিনে ৪জন শিশুকে ধর্ষন করে শুক্রবার করে। ধর্ষক মোবারক কে দেখলে ভয় পায় এলাকার শিশুরা। এলাকার বাবুল মিয়ার ৫বছরের শিশু,আশরাফুল মিয়ার ৪ বছরের শিশু,মিজানুর মিয়ার ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষন করে। একের পর এক ধর্ষনের শিশুদের মাঝে আতংক ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। ভয়ভিতি দেখায় শিশুদের না বলার জন্য। শিশুরা তার ভয়ে এতদিন কাউকে কোন কিছু বলতে পারেনি। পরে গত শূক্রবার আবারো এক শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষনের চেস্টা করলে সে তার বাড়ির লোকজনদর জানায়। গ্রামের লোকজনদের মাঝে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষন শিকার শিশুর পরিবার কেউ যেন থানায় না যেতে পারে সেজন্য সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পাহাড়া রাখে মোবারক। প্রভাবশালী অর্থপতির মালিক হওয়ায় প্রশাসন কেউ রাখে ম্যানেজ করে। পরে কালীগঞ্জ থানা ও উপজেলা পরিষদে বিচারের জন্য গেলে কোন বিচার পায়নি ধষিত শিশুর পরিবার। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কালীগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে থানায় যেতে চাইলে ধর্ষক মোবারক তার লেকজন হাসপাতাল থেকে ওই ৩ শিশুকে বের হতে দেয়নি। এমনকি শিশুদের অভিবাবকদের নজরে রাখে। শুক্রবার থেকে সোমবার ধর্ণা দিয়ে কোন বিচার না পাওয়ায় অবশেষে বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বারে ফোন করলে পুলিশের টনক নড়ে। শেষে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে সত্যতা পেলে রাতে ৪শিশু ধর্ষন মামলা দায়ের করে। ধর্ষিত শিশুর পিতা বাদী হয়ে মিজানুর রহমান ব্যাংকার মোবারক হোসেন এর বিরুদ্ধে কালী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং ০৭। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪) (খ) ৩ সহ ৫০৬ ধানায় মামলা রুজু হলে পালিয়ে যায় ধর্ষক মোবারক। মামলা দায়েরের পর ওই ৩ শিশুকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ডাক্তারী পরীক্ষা করার জন্য। ওদিকে লালমনিরহাট অগ্রনী ব্যাংক মিশন মোড় শাখার ম্যানজার অতুল চন্দ্র রায় জানান, মোবারক হোসেন তার ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার তবে হঠাৎ করে ৩দিনের ছুটি নিয়ে গেছে সোমবার। আগামী রোববার তার যোগদানের কথা রয়েছে। তবে ব্যাংকে এ ঘটনা শুনে সবাই হতবাক। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে শিশুরা বুঝতে পারেনি তাদের উপর কি অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে। গ্রামের বাড়ী কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার গ্রামের টেপাটারী এলাকায় এ ঘটনায় মূচা যাচেছ গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীরা ফুসে উঠেছে ধর্ষক মোবারক এর বিরুদ্ধে। তারা এর দৃুস্টান্ত বিচার দাবী করছে। ওই গ্রামের জোলেখা বেগম জানান, শিশুদের ধর্ষন কারীর শাস্তি না হলে সে আরো শিশু ধর্ষন করবে। স্বপ্না খাতুন জানান, প্রতি শুক্রবার একটা নামাজের দিন ওই দিন চকলেট বিস্কুট নিয়ে আসে খাবারের লোকভ দিয়ে শিশুদের সর্বনাশ করে। শিশুরা জানান দাদু চকলেট দিয়ে খারাপ কাজ করে বাড়িতে বলার কথা জানালে মারে। মামলার বাদী মিজানুর রহমান জানান, আমি এর শাস্তি চাই। তবে বাদি আরো জানায় আসামী যেহতু পালাতক তার লোকজন মামলা তোলার জন্য ভয়ভিতি দেখাচ্ছে। ও দিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ গোলাম মোহাম্মদ জানান, ৩জন শিশু ভর্তি হয়েছে তাদের ডাক্তারী পরীক্ষা করা হচ্ছে। ধর্ষক মোবারক হোসেন এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ তাদের। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরজু মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, মামলা দায়ের করা হয়েছে দ্রুত আসামী গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হবে। পুলিশ সুপার এস,এম রশিদুল হক জানান, আসামী গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করছে আশা করি দ্রুত গ্রফতার হবে।