ভারতের প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৪ শতাংশে

Saturday, November 30th, 2019

অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে মোদির হাসি কত দিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। (ছবি: রয়টার্স)অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে মোদির হাসি কত দিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। (ছবি: রয়টার্স)

 

ডেস্ক নিউজঃ ভারতের অর্থনীতির আকাশ থেকে কালো মেঘ যেন সরছে না। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানেই জানা গেল, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে। এই সময়ে উৎপাদনশীল খাত সংকুচিত হয়েছে ১ শতাংশ। জানা গেল, অক্টোবরে আটটি প্রধান খাতের উৎপাদন সরাসরি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, অর্থ বছরের প্রথম ৭ মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৭ দশমিক ২ লাখ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে, যা পুরো বছরের আনুমানিক ঘাটতির চেয়েও বেশি।

স্বাধীনতার পরে দীর্ঘ সময় ভারতের প্রবৃদ্ধির গড় হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। তাকে ব্যঙ্গ করে ‘হিন্দু রেট অব গ্রোথ’ আখ্যা দিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ রাজ কৃষ্ণ। সেই আখ্যা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। মোদি সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই জুলাই মাসে সংসদে আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পাল্টা বলেছিলেন, ‘কংগ্রেস আমলে অর্থনীতি কেন দ্বিগুণ হয়নি? তখন কেন হিন্দু রেট অব গ্রোথ চাপানো হয়েছিল!’ এবার মোদি জমানাতেই প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসায় প্রশ্ন উঠছে, ‘হিন্দু রেট’ কি আবার ফিরে আসছে?

এবার মোদি সরকার ক্ষমতায় ফিরে ৫ লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, গত ছয় বছরে অর্থনীতির অবস্থা এতটা খারাপ হয়নি। ২০১২-১৩-র জানুয়ারি-মার্চে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। সেই অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ। পরের তিন মাসে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসায় এই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের গণ্ডি টপকাতে পারবে কি না, তা নিয়েই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অর্থনীতির শিক্ষক জয়তী ঘোষের মন্তব্য, ‘হিন্দু রেট অব গ্রোথে তো তা-ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার ছিল। এখন কি প্রবৃদ্ধি আদৌ হচ্ছে? নাকি অর্থনীতির সংকোচন হচ্ছে? বেকারত্বের হার, সংসারের খরচ কমে যাওয়া, গাড়ি থেকে নিত্য প্রয়োজনের জিনিসপত্রের বিক্রি হ্রাস, একের পর এক বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার মতো অর্থনীতির অন্যান্য মাপকাঠি কিন্তু সে কথাই বলছে।’

জয়তী মনে করিয়ে দিয়েছেন, মোদি জমানায় জিডিপি মাপার পদ্ধতি বদলে দেওয়া হয়। সেই পদ্ধতি নিয়েই বিতর্ক আছে। বস্তুত মোদি সরকারের সাবেক প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামনিয়াম বলেছিলেন, নতুন পদ্ধতিতে জিডিপি মাপায় তা ২ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ অঙ্ক বেশি দেখাচ্ছে। তাঁর কথা অনুসারে প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে।

বাজারে বিক্রি কমেছে। কারখানার উৎপাদন নিম্নমুখী। বেসরকারি বিনিয়োগ আসছে না। বিশ্ব বাজারে ঝিঁমুনির কারণে রপ্তানিতেও ভাটার টান। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতি আর কী চলবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অর্থনীতির এই অবস্থাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন।