অশনিসংকেত ভারতের সামনে

Wednesday, November 27th, 2019

প্রবৃদ্ধির হার টেনে তোলার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। ছবি: রয়টার্সপ্রবৃদ্ধির হার টেনে তোলার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

ডেস্ক নিউজঃ ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ভারতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সম্ভবত ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, ৫ শতাংশ। এবার জানা গেল, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমতে পারে। ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চ মঙ্গলবার জানিয়েছে, এই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সম্ভবত ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সেটা হলে এ নিয়ে টানা ছয় প্রান্তিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি কমবে। বিজনেস লাইন সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

প্রবৃদ্ধির হার টেনে তোলার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। করপোরেট করহার কমানো, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের বিলগ্নীকরণ, শিল্পসহায়তা—এ রকম নানা ব্যবস্থা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে পারছে না ভারত। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চ চলতি অর্থবছরের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ করেছে। এ নিয়ে বছরে চারবার পূর্বাভাস সংশোধন করল সংস্থাটি। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।

আগামী শুক্রবার জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার কথা। বারবার এই পরিবর্তনশীল তথ্যপ্রাপ্তির কারণে ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে চলতি অর্থবছরের বাকি দুই প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির হারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রথম দুই প্রান্তিকের চেয়ে বাড়লেও ওই দুই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হতে পারে বড়জোর ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

এ বছর ভারতের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। অর্থনীতির নিম্নগমন শুরু হয়েছিল ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের অপ্রচলিত ব্যবসায় অর্থায়নের মধ্য দিয়ে। যেমন এ বছর তারা খুচরা ব্যবসা, গাড়ি নির্মাণ, বাড়ি বিক্রি ও ভারী শিল্পে অর্থায়ন করে।

অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে করপোরেট করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নতুন উৎপাদনশীল কোম্পানিগুলোর করপোরেট করহার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই কর হ্রাসে ভারত এশিয়ার অন্যান্য দেশের কাতারে চলে এসেছে।

পাশাপাশি ভারত সরকার ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে নতুন করে পুঁজি সরবরাহ থেকে শুরু করে ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক মিলিয়ে চারটি করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বাড়ানো, স্টার্টআপে করসুবিধা—এ রকম নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে ভারত সরকারকে প্রচুর ব্যয় করতে হবে। লোকসভা নির্বাচনের কারণে প্রথম প্রান্তিকে সরকারের ব্যয় তেমন একটা না হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে তা বাড়তে শুরু করে। কিন্তু সরকার যদি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রাখতে চায়, তাহলে আবার এই ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করাও ভারতের পক্ষে সম্ভব হবে না বলে মনে করছে ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চ।

ফলে সামনের দিনে ভারতের অর্থনীতির পথ খুব মসৃণ হবে না, হবে বন্ধুর।