স্পিচ থেরাপি স্ট্রোকের পর

Thursday, November 21st, 2019

ডেস্ক নিউজঃ কথা বলা বা ভাষা বোঝার জন্য মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ এলাকা ব্যবহৃত হয়। কোনো কারণে স্ট্রোক, আঘাত বা মস্তিষ্কের নানা সমস্যায় এই এলাকাগুলো আক্রান্ত হলে কথা বুঝতে ও বলতে রোগীর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যাগুলো নানা রকমের। যেমন ভাষা বা কথা বুঝতে সমস্যা হলে তাকে বলা হয় এল রিসেপটিভ অ্যাফেসিয়া বা ভার্নিকস অ্যাফেসিয়া। আবার কারও বুঝতে অসুবিধা নেই, অন্যরা কী বলছে, তা ঠিক বুঝতে পারেন কিন্তু তার উত্তরে কিছু বলতে পারেন না ঠিকমতো। এটি হলো মটর অ্যাফেসিয়া। কারও আবার বুঝতে বা বলতে—কোনোটাতেই সমস্যা নেই কিন্তু মুখের পেশিগুলোর দুর্বলতার কারণে উচ্চারণে সমস্যা হয়, কথা অস্পষ্ট হয়, একে বলে ডিসআরথ্রিয়া। আবার ডিসপ্রেক্সিয়া মানে হলো, কথা বলার প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলো যেমন জিব, ঠোঁট, তালু ঠিকমতো ব্যবহার না করতে পারা।

স্ট্রোকের পর প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীর অ্যাফেসিয়া হয়, মানে তাদের বাক্‌শক্তি রহিত হয়। মস্তিষ্কের কোন এলাকা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে এর ধরন। তবে এই অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বা আংশিক উত্তরণ সম্ভব, যদি সময়মতো ও ঠিকমতো থেরাপি নেওয়া যায়। আসুন, দেখা যাক কীভাবে তা করতে পারেন।

শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম: নাক দিয়ে নিশ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে বলুন। এতে কথা বলার সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ উন্নত হয়। জিব, ঠোঁট ও গালের পেশির ব্যায়াম: জিব বাইরে বের করা এবং আবার ভেতরে নেওয়ার ব্যায়াম করতে হবে বারবার। জিব ডানে–বাঁয়ে নেওয়া, জিব ঠোঁটের চারপাশে ঘোরানো, জিব ওপরে–নিচে নেওয়ার ব্যায়াম করান। গাল ফোলানোর ব্যায়ামে গালের পেশি শক্ত হয়। দুই দাঁতে কামড় দিয়ে ঠোঁট দুই পাশে বিস্তৃত করতে হবে—অনেকটা ইংরেজি ই বলার মতো করে। উ উ বলার মতো করে ঠোঁট গোল করে ধরে রাখুন।

কথা বলার অনুশীলন
শব্দ দিয়ে বাক্য গঠনের অনুশীলন করান। যেমন আম, আম খাব, আমি আম খাব—এভাবে ধীরে ধীরে দক্ষতা বাড়ান।

হিমিকা আরজুমান, বিভাগীয় প্রধান, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিট, বাংলাদেশ থেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশন