ভোক্তাদেরও শাস্তি বেশি লবণ কিনলে

Wednesday, November 20th, 2019

 

মো: বাবুল হোসেন (জেলা প্রতিনিধি) প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ কিনে বাড়িতে মজুদ করে রাখলে ভোক্তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম অর রশীদ। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার পরিদর্শনের পর তিনি গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

শামীম অর রশীদ বলেন, ‘বিক্রেতাদের মধ্যে দাম বাড়ানোর কোনো প্রবণতা আমি দেখিনি। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যতটুকু লবণ প্রয়োজন ততটুকু কেনার। দোকানদারদের আমরা বলেছি, কেউ যদি বেশি লবণ কিনতে চায় তাহলে আমাদের যেন জানানো হয়। আমরা তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করবো, এক সপ্তাহে তার লবণের দরকার এক কেজি, কেন আপনি একসঙ্গে দশ কেজি লবণ কিনছেন। তিনি বলেন, এই রকম মজুদদারি যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার কাছে এক কাস্টমার ফোন করে বললেন, আমার জন্য দুই কেজি লবণ রাইখো। সঙ্গে সঙ্গে আরো দুইটা ফোন আসলো। সবাই লবণ আছে নাকি জানতে চাইলো। তারাও বললো লবণের কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি। আমি এসিআই কম্পানিতে ফোন দিলে সেখান থেকে আমাকে জানালো, গোডাউনের পর্যাপ্ত লবণ আছে। কোনো দাম বাড়েনি। কিছু অসাধু লোক ফেসবুকে এগুলো ভাইরাল করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এজন্য যার সারা মাসে এক কেজি লবণ লাগে না, সে দশ কেজির জন্য পাগল করে ফেলছে। তিনি বলেন, আমি বেলা তিনটার দিকে বাজারে (দোকানে) আসলাম। লবণের জন্য মানুষ যে কি করছে, না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। আমি সারাদিন দোকানে বসে দশ কেজি লবণ বিক্রি করতে পারি না। আর আজ একজন মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে। সে পঁচিশ কেজি লবণ মোটরসাইকেলে তুলে ধাক্কায় ধাক্কায় নিয়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম, কি হয়েছে? সে বলে, কইয়েন না কইয়েন না, দুইশ টাকা কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, দেশে বর্তমানে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ আছে বলে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণ চাষিদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। এতে বলা হয়, সারা দেশে বিভিন্ন লবণ কম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মওসুম শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা কম-বেশি ১ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে লবণের মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে লবণের কোনো ধরণের ঘাটতি বা সংকট হবার প্রশ্নই ওঠে না। লবণের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।