জগন্নাথপুরে ধানের বীজ কিনতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন

Friday, November 8th, 2019

GE DIGITAL CAMERA

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধানের বীজে হাট-বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ডিলার থেকে দীর্ঘ লাইন দিয়ে মান সম্মত বীজ কিনছেন কৃষকরা। তবে সারের আংশিক সংকট রয়েছে।
জানাযায়, জগন্নাথপুরে এবার ছোট-বড় ৯টি হাওরের ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হবে। বর্তমানে বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরির কাজ চলছে। বীজতলায় ধানের চারা রোপনের জন্য বীজ কিনতে শুরু করেছেন কৃষকরা।
৮ নভেম্বর শুক্রবার সরজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর বাজারের ডিলার গুলোতে রীতিমতো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘ লাইন দিয়ে বীজ কিনছেন কৃষকরা। তবে সার না পেয়ে অনেকে নিরাশ হয়ে ফিরছেন।
এ সময় মেসার্স হাবিব বীজ ঘরের ডিলার হাজী শরীফ মিয়া বলেন, সরকারি বরাদ্দকৃত ব্রি-২৮ ও ব্রি ২৯ জাতের ১০ কেজির বস্তা ৩৩৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। তবে সরকারি বীজ থেকে প্রাইভেট বীজের চাহিদা বেশি। প্রায় ৮টি প্রাইভেট কোম্পানীর বীজ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি প্রাইভেট কোম্পানীর বীজ ৭০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এ সময় বীজ কিনতে আসা কৃষকদের মধ্যে অনেকে বলেন, ন্যায্য মূল্যে বীজ কিনতে পেরে আমরা খুশি হলেও সার না পাওয়ায় হতাশ হয়েছি। কারণ বীজতলা তৈরি করে চারা রোপন করতে সার লাগে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, এবার সরকারি বীজের মান খুবই ভাল। এরপরও কৃষকরা বেশি লাভের আশায় বেসরকারি হাইব্রিড বীজ কিনছেন। সেটি তাদের ব্যাপার। তবে এবার কোন অবস্থায় অতিরিক্ত মূল্যে বীজ বিক্রি করা যাবে না। প্রতিটি ডিলারে বীজের মূল্য তালিকা টানানো আছে। এতে আমাদের মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়েছে। যাতে কৃষকদের যে কোন অভিযোগ তারা সরাসরি আমাদেরকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বীজতলা তৈরিতে সামান্য সার লাগে। সে পরিমাণ সার বাজারে আছে। এরপরও আরো সার আমদানী করা হচ্ছে। আগামী সোমবারের মধ্যে জগন্নাথপুরে বীজের মতো সারের সয়লাব হয়ে যাবে। এবার ন্যায্য মূল্যে বীজ পেয়ে কৃষকরা খুশি হয়েছেন। এভাবে ন্যায্য মূল্যে সার পেয়েও কৃষকরা আরো আনন্দিত হবেন।