ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে পদ প্রত্যাশী নেতারা পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছেন

Thursday, November 7th, 2019
আবুল আতা মামুন:
ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে পদ প্রত্যাশী নেতারা পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছেন ।নগর দুটির আসন্ন সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। শীর্ষ ওই পদ দুটির লড়াইয়ে এরমধ্যে মাঠেও নেমেছেন প্রায় এক ডজন নেতা। তবে সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের মুখে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে প্রচারণার বদলে কৌশল গত ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই দুই নগরের পদ প্রত্যাশীরা।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওই দুই নগর সম্মেলন। নতুন নেতৃত্বও পাচ্ছে ওই দুই নগর আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ উচ্চ পর্যায় এবং গণবভন সূত্রে জানা গেছে, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নগর দুটির শীর্ষ নেতা নির্বাচনে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই শীর্ষ পদ দুটির নেতা নির্বাচনে তিনি মনোনীত করবেন। স্বচ্ছ ও বিতর্কিত মুক্ত এবং সকল প্রকার নেতিবাচক কর্মকান্ড মুক্ত ব্যক্তিকেই ওই দুটি পদে বসাবেন আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। পাশাপাশি তৃণমূলে কার কত জনপ্রিয়তা, কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে কে কত এগিয়ে সে বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন শেখ হাসিনা।

এছাড়া পদ দুটিতে “ক্লিন ইমেজ”-এর তরুণ নেতাদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এর তিন বছর পর মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণ, ৪৫টি থানা এবং ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এদিকে ঢাকার ওই দুই নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন প্রার্থীদের নাম আলোচনায় উঠে এসছে। এরমধ্যে উত্তর আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, আসলামুল হক এমপি ও নাজিমুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান কচি, দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল,, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, আলোচনায় রয়েছে। তবে স্বচ্ছ, কর্মীবান্ধব, দলের দুর্দিনে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থার ভরসা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা এম সাইফুল্লাহ সাইফুল। ঢাকার সন্তান এই তরুন নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় একজন নেতা। দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে নগরটির সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মধ্যে থেকে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে ওই পদকে ঘিরে নতুন প্রার্থী হিসেবে সবচেয় বেশি আলোচিত হচ্ছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আগামীতে সভাপতির আসনে মুরাদকেই যোগ্য বলে দাবি করছেন নগর ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এছাড়া, সহ-সভাপতি আবুল বাশার, হুমায়ুন কবীর, আবু আহম্মেদ মান্নাফি ওই পদের আলোচনায় আছেন। নগরটির নতুন প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীলিপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, কাজী মোর্শেদ কামাল। এছাড়া প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেনও পদটির জন্য নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এদিকে ওই নগটির সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে আছেন সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন।