এক দিনে দুই ম্যাচ খেলবে লিভারপুল

Wednesday, November 6th, 2019

চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার সুবাদে এবার ক্লাব বিশ্বকাপও খেলতে যাচ্ছে লিভারপুল। ছবি : এএফপিচ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার সুবাদে এবার ক্লাব বিশ্বকাপও খেলতে যাচ্ছে লিভারপুল। ছবি : এএফপি

 

ডেস্ক নিউজঃ একই দিনে দুটি ম্যাচ পড়েছে লিভারপুলের। তাও ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে কারাবাও কাপের ম্যাচ খেলার চব্বিশ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই কাতারে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নামতে হবে তাদের।

কারাবাও কাপ প্রতিযোগিতাটাকে এমনিতেই লিভারপুলের কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বিশেষ পছন্দ করেন না।

করবেন-ই বা কেন? কষ্ট করে এই প্রতিযোগিতা খেলে জেতার পর যা টাকাকড়ি পাওয়া যায়, তা মোহাম্মদ সালাহ এক সপ্তাহেই কামাতে পারেন। এই অল্প কিছু পুরস্কারের জন্য লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগের মাঝে খেলোয়াড়েরা যে বিশ্রাম-টিশ্রাম না নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, তার কোনো মানে দেখেন না লিভারপুলের জার্মান কোচ। সে কারণেই অধিকাংশ সময় মূল একাদশ না নামিয়ে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন তিনি। এই যেমন গত রাউন্ডে, আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে অ্যালিসন, আলেক্সান্ডার-আরনল্ড, রবার্টসন, ফাবিনহো, সালাহ, মানে, ফিরমিনোর মতো মূল একাদশের খেলোয়াড়দের না খেলিয়ে একাদশে রেখেছিলেন হার্ভি এলিয়ট, রিয়ান ব্রুস্টার, নিকো উইলিয়ামসের মতো আনকোরা তরুণদের।

শুধু লিভারপুলই নয়, এই প্রতিযোগিতায় ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, আর্সেনালের মতো ক্লাবগুলোও দ্বিতীয়/তৃতীয় সারির দল খেলিয়ে থাকে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ দেওয়ার জন্য বড় দলগুলোর এক রকম অলিখিত নিয়মই হয়ে গেছে এটা। এই প্রতিযোগিতা জেতাকে বড় ক্লাবগুলো তেমন গুরুত্বও দেয় না।

এখন এই প্রতিযোগিতার সামনের রাউন্ড খেলার জন্য লিভারপুলকে যা করতে হবে, তাতে ক্লপ আরও শাপ-শাপান্ত করতে পারেন কারাবাও কাপকে! জানা গেছে, আগামী মাসে একই দিনে দুটি ম্যাচ খেলতে হবে লিভারপুলকে। আর এই দুই ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচ আবার এই কারাবাও কাপের। ১৭ ডিসেম্বর রাতে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচ খেলার চব্বিশ ঘণ্টা পার হতে না হতেই আবারও মাঠে নেমে পড়তে হবে সালাহ-মানে দের। তাও আবার অন্য মহাদেশে, একেবারে মধ্যপ্রাচ্যে। এক দিনের মধ্যেই আবারও কাতারে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে হবে লিভারপুলকে।

কারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ডে আর্সেনালকে হারানোর পরে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, সুবিধামতো কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি না ফেললে ম্যাচ বয়কট করবে লিভারপুল। কারণ এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ম্যাচ খেলা সম্ভব না। কিন্তু ক্লপের তর্জন-গর্জন বৃথাই গেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই লিভারপুলকে মাঠে নামতে হবে দুবার। ইংলিশ ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিভারপুলের সঙ্গে কথা বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এত অল্প সময়ের মাঝে ইংল্যান্ডে ম্যাচ খেলে কাতারে যাবেন ক্লপরা?

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিভারপুল জানিয়েছে, দুই ম্যাচের জন্য আলাদা দুটি স্কোয়াড প্রস্তুত রাখা হবে, ‘আমরা ইএফএলকে ধন্যবাদ দিতে চাই ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে সূচি নির্ধারিত হয়েছে, সেটা আমাদের জন্য একদমই সুবিধাজনক কিছু না। এ কারণে আমরা দুই ম্যাচের জন্য দুটি স্কোয়াড প্রস্তুত রাখব। একটা দল কাতারে যাবে, আরেকটা কারাবাও কাপে খেলবে। তবে টুর্নামেন্ট ও অন্য ক্লাবের কথা বিবেচনা করেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

পুরো ডিসেম্বর মাসটাই ব্যস্ত কাটবে লিভারপুলের। অ্যানফিল্ডে ৪ ডিসেম্বর লিগের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ এভারটন, ৭ তারিখে বোর্নমাউথ। ডিসেম্বরের ১০ তারিখে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলতে রেড বুল সালজবুর্গের মাঠে যাবে লিভারপুল। এরপর ১৭ ডিসেম্বর কারাবাও কাপে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে লড়ে চব্বিশ ঘণ্টা পার হতে না হতেই ক্লাব বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে অল রেড রা। ২১ ডিসেম্বর ফাইনাল কিংবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডে ফিরেই ২৬ ডিসেম্বর লিগের ম্যাচে লেস্টার সিটির বিপক্ষে লড়বেন ফন ডাইক-সালাহরা।

তবে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবারই কিন্তু প্রথম হবে না লিভারপুলের। ১৯৮৬ সালে লিগ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হারার ঠিক পরের দিন শেফিল্ড ওয়েডনেসডের সঙ্গে ১-০ গোলে জিতেছিল লিভারপুল।

এই বছরের এপ্রিলে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ম্যাচ খেলার অসাধ্যসাধন করেছে ভেনিজুয়েলার ক্লাব দেপোর্তিভো লারা। যদিও ম্যাচ খেলার ক্লান্তি খেলার ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি, দুই ম্যাচেই জিতেছিল তারা। আরেক ভেনিজুয়েলান ক্লাব জামোরা একই দিনে দুটি ম্যাচ খেলেছিল কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে, দুই ম্যাচ খেলতেও হয়েছিল ৪ হাজার মাইল দূরত্বে। যদিও দেপোর্তিভো লারার মতো ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না তাদের। দুটি ম্যাচেই হেরেছিল জামোরা।

২০০১ সালের নভেম্বরে দুই ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পরপর দুই দিনে দুটি ম্যাচ খেলেছিল। ১৯৮৭ সালে সাবেক ওয়েলশ তারকা মার্ক হিউজ ওয়েলস ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে একই দিনে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন। সময়স্বল্পতার কারণে রাস্তাতেই জার্সি বদল করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

এসব উদাহরণ ক্লপের মনে শান্তি দিতে পারবে কি না কে জানে! গত রাতে গেঙ্ককে ২-১ গোলে হারানোর পর যদিও ঠাট্টাচ্ছলে বলেছেন, ‘দেখি অ্যাস্টন ভিলাকে অনুরোধ করে, তারা কাতারে খেলতে আসতে রাজি হয় কী না!’