তানোরে মামলা তুলে নিতে বাদিকে হুমকি

Wednesday, October 23rd, 2019


তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে এক অসহায় নারী ধর্ষণের মামলা করে চরম বিপাকে পড়েছে আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের স্বজনদের হুমকি-ধামকির কারণে বাদির পরিচার চরম নিরাপত্তাহীনতার মূখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিম পরিবারের অভিযোগ, আড়াদীঘি গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান, গোলাম রাব্বানী ও গ্রাম পুলিশ আব্দুল জলিল মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শণ করছে। তাদের কথামত মামলা তুলে নিয়ে স্থানীয় ভাবে আপোষ করা না হলে তাদের পরিবারসহ গ্রামছাড়া করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। এদিকে বাদির পরিবার এসব হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও একজন গণমাধ্যম কর্মীকে আসামী করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২১ অক্টোবর সোমবার দুপুরে তানোর থানা মোড়ের একটি ঘরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার নির্দেশে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকে নিয়ে কথিত সালিশ বৈঠক করে ধর্ষণের শিকার ভিকটিমকে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে তার কাছে থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ধর্ষক জালাল উদ্দিনকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘ভিক্ষুকের ইজ্জ্বতের মূল্য মাত্র ১৫ হাজার টাকা’ শিরোনামে খবর প্রকাশ হলে টনক নড়ে প্রশাসনের পরের দিন ২২ অক্টোবর ভিকটিম বাদি হয়ে সাংবাদিক নেতাসহ তিনজনকে আসামী করে তানোর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
এদিকে কথিত সালিশ বৈঠকে বিচারের নামে প্রহসণ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। স্থানীয় সচেতন মহল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা, রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি), রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি), তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তানোর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়রা জানান, তানোরের তালন্দ ইউপির আড়াদীঘি গ্রামের ছালেক উদ্দিনের পুত্র জালাল উদ্দিন একই গ্রামের এক মহিলা লীগ নেত্রীর কন্যা, প্রতিবন্ধীর স্ত্রী ও পেশায় ভিক্ষুক (২৬) দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের প্রথম শুক্রবার সন্ধ্যায় আড়াদীঘি মাঠের মতিকুড়ি নামক স্থানে গভীর নলকুপের পার্শে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এদিন গোল্লাপাড়া বাজারে ভিক্ষা শেষে সন্ধ্যার পরে বাড়ি ফেরার সময় এই ঘটনা ঘটে। এদিকে পরের দিন ভিকটিম বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে জানালে তিনি থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়। ভিকটিম বাদি হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে মেম্বার রুস্তম আলী কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে কয়েকজন গষমাধ্যমকর্মীকে নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নায্য বিচারের আশ্বাষ দিয়ে তাকে থানা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে বিচার না করে বিভিন্ন কৌশলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ভিকটিম ওই নারী সোমবার সকালে জালাল উদ্দিনের বাড়ি গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যার চেস্টা করে। এদিকে বিষয়টি বেগতিক বুঝতে পেরে এদিন দুপুরে মেম্বার রুস্তম আলী কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে নিয়ে তড়িঘড়ি বিচারের নামে প্রহসণ করেছে। এব্যাপারে তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, ভিকটিম পরিবার বিষয়টি তাকে অবগত করেছিল তিনি তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছেন।