শ্রীমঙ্গলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, আটক ১৮

Wednesday, October 23rd, 2019

 

জোবায়ের আহমদ (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জ বাজারের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২শে অক্টোবর) দুপুর ১২টায় শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জ বাজারের একটি দোকান কোঠার জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে এক লন্ডন প্রবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এঘটনায় দুই পক্ষের ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ৷
এই ঘটনায় দুজন আহত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে উত্তেজিত লোকজন বাজারের আনোয়ার ম্যানশনের তিনটি দোকান ভাংচুর করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে । পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, লন্ডন প্রবাসী তৈয়ুব আলী ও কালাপুর ইউপির সদস্য আনোয়ার আলীর মধ্যে ভৈরবগঞ্জ বাজারের আনোয়ার ম্যানশনের পাশের ৪ শতক জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝামেলা চলছিলো। উভয় পক্ষই এই জায়গাটিকে তাদের নিজের বলে দাবি করে। গত শনিবার মেম্বারের লোকজন জায়গাটিতে দেয়াল নির্মাণ করে। এর প্রেক্ষিতে আজ (মঙ্গলবার) বিচার চলাকালীন সময়ে লন্ডনীর লোকেরা দেয়াল ও দোকান ভাংচুর শুরু করে। এরপরই দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় । সংঘর্ষ চলাকানীন সময়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়,রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ীগুলোতেও ইট পাটকেল দিয়ে হামলা করা হয় ৷

লন্ডন প্রবাসী তৈয়ুব আলীর চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিলো। জায়গাটা ৫০ বছর ধরে আমাদের। গত দুইদিন আগে মেম্বারের লোকজন রাতের আধারে দেয়াল নির্মান করে। আমরা ইউনিয়নে বিচার প্রার্থী বিচারে সুষ্ট ভাবে হয়নি। এজন্য আমাদের গ্রামের লোকজন তা মেনে নেয় নি। দোকানের ভিতর থেকে আমাদের উপর হামলা করা হলে আমাদের লোকজন বাজারে আসে।

কালাপুর ইউনিয়নের সদস্য আনোয়ার আলী বলেন, বাজারের ৪ শতক জায়গা নিয়ে আজ বিচার বসে। আমাদের বিচারে রেখেই লন্ডনীর পক্ষের প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ এসে আমার মালিকানা মার্কেটের তিনটি দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

কালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আজ ওই দোকানের পাশের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বিচারে বসেছিলাম। এসময় লন্ডনীর পক্ষে প্রায় হাজার খানিক মানুষ এখানে আসে। আমি তাদের বলেছি লোকজন কমানোর জন্য। এদিকে আমাদের বিচার চলাকালীন সময়েই ভৈরবগঞ্জ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেক বলেন, পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রনে আছে। উত্তেজিত জনতাকে আমরা শান্ত করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এঘটনায় আমরা দুই পক্ষের ১৮ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।