৩ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচর যেতে আগ্রহী

Sunday, October 20th, 2019

ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। রয়টার্স ফাইল ছবিভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। রয়টার্স ফাইল ছবি

 

ডেস্ক নিউজঃ রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ ফিরে না আসায় রোহিঙ্গারা এখনই তাদের আদিনিবাসে ফিরে যেতে চাইছে না। অর্থাৎ খুব শিগগির যে প্রত্যাবাসন হবে না, তা নিয়ে রোহিঙ্গারাও নিশ্চিত। এমন এক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে রোহিঙ্গারা। গত কয়েক দিনে অন্তত ৬০০ পরিবারের প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহাবুব আলম তালুকদার গতকাল শনিবার বলেন, ‘ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া তালিকা তৈরির কাজটি এখনো চলছে। রোহিঙ্গারা যে স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে, সেটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ভালো দিক। আমাদের লক্ষ্য, ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দু-এক দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট তথ্য জানা যাবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাসানচরে যাওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এটি ভালো লক্ষণ। তবে যে তালিকা হাতে পেয়েছি, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। রোহিঙ্গা শিবিরে নেতাদের (মাঝি) মাধ্যমে সব কাজ হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের একটি করে আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে। যার ওপর লেখা আছে, “ভাসানচরে স্থানান্তরে আগ্রহী বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের তালিকা”।’

শরণার্থী, প্রত্যাবাসন ও ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে গত সপ্তাহে কক্সবাজারে যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মো. শাহ কামাল। এ সময় আগ্রহী রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরিসহ তাদের স্থানান্তরের প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশাসন ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।

সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহাবুব আলম তালুকদার ভাসানচরের সর্বশেষ অবস্থা দেখতে নোয়াখালীর চরটি সফরে যান। এরপর তিনি সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠান। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি, এক বছর আগে ভাসানচরে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠানো।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ সপ্তাহের মাঝামাঝি ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা শরণার্থী, প্রত্যাবাসন ও ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে সরকার যুক্ত করবে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এসব সংস্থার সঙ্গে স্থানান্তর শুরু বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।

শালবাগান রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দলনেতা (মাঝি) রমিদা বেগম ও জাদিমোরার নবী হোসেন বলেন, বেশ কিছু পরিবার ভাসানচরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিষয়টি রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ভাসানচরে উন্নত ব্যবস্থার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের ভালোভাবে বোঝানো গেলে সেখানে যেতে ইচ্ছুকদের সংখ্যা আরও বাড়বে। গত শুক্রবার রোহিঙ্গা শিবিরের মসজিদগুলোতে জুমার নামাজের পর ভাসানচরে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। যারা যেতে ইচ্ছুক তাদের তালিকা নিজেদের শিবিরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি জাদিমোরার খালেদ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে সরকার আগে থেকেই কাজ করে আসছিল। কেউ স্বেচ্ছায় রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এত দিন আগানো যায়নি। যেহেতু এবার রোহিঙ্গারা নিজে থেকেই সেখানে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে, তাই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

২০১৫ সালে প্রথম ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসবাসের জন্য আবাসন গড়ার পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় চরটিতে কোনো জনবসতি ছিল না। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢল নামে। ওই সময় মিয়ানমার থেকে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণরক্ষার্থে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়। এরপর কক্সবাজারের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরের ওপর থেকে চাপ কমাতে নোয়াখালীর ভাসানচরে অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।