‘ছক্কাবাজ’ রোহিত শর্মার নতুন ইতিহাস

Sunday, October 20th, 2019

শুধু ডাবল সেঞ্চুরি নয় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সম্মানও আদায় করেছেন রোহিত। আউট হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। ছবি: এএফপিশুধু ডাবল সেঞ্চুরি নয় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সম্মানও আদায় করেছেন রোহিত। আউট হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। ছবি: এএফপি

 

ডেস্ক নিউজঃ পুল-হুক খেলার প্রতি সব সময়ই একটা টান অনুভব করেন রোহিত শর্মা। ইঞ্চিখানেক শর্ট ডেলিভারিকেও অবলীলায় পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। দ্বিতীয় সেশনের চতুর্থ ওভারে কাগিসো রাবাদাও শর্ট মেরেছিলেন রোহিতকে। ফাইন লেগ অঞ্চলে ফিল্ডার রেখে ফাঁদ পাতাই ছিল। একদম সীমানার সামনে থেকে রোহিতকে তালুবন্দী করেন লুঙ্গি এনগিডি। রাঁচি টেস্ট দেখে না থাকলে ভাবতে পারেন রোহিতের এই ‘বদঅভ্যাস’ যাবে কবে? কিন্তু খেলা দেখে থাকলে যে কেউ বলবেন, রোহিত এভাবেই খেলে যাক। দর্শকদের চোখের পরিতৃপ্তিও তো চাই!

রাঁচি টেস্টে কাল থেকে আজ রোহিত আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত তেমন পরিতৃপ্তিই পেয়েছেন ভারতের ক্রিকেটমোদীরা। রোহিত নিজেও কি পাননি? আউট হওয়ার পর তাঁর হতাশা প্রকাশই সব বলে দিচ্ছিল। ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে প্রোটিয়া ফিল্ডাররা দৌড়ে এসে হাত মিলিয়েছেন ভারতীয় এ ওপেনারের সঙ্গে। রোহিত তখনো প্রায় ভাবলেশহীন। বড় মাপের ব্যাটসম্যানেরা বুঝি এমনই হয়ে থাকেন। কাল থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর ২৫৫ বলের এ ইনিংসটি হয়ে থাকবে মনঃসংযোগের ক্যানভাস—সেটি উইকেটে টিকে থাকার নয়, মাঠজুড়ে চোখ জুড়ানো টাইমিংয়ের রঙে আঁকা ডাবল সেঞ্চুরির এক অপরূপ ছবি!

রোহিত এ ছবির সমাপ্তি টানার পরই হাসি ফুটেছে প্রোটিয়াদের মুখে। ৬ ছক্কা ও ২৮ চারে ২৫৫ বলে ২১২ রানের ইনিংস। রোহিতের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। টেস্টে ওপেনার হিসেবে এ নিয়ে চারটি ইনিংস খেললেন রোহিত। এর মধ্যে তিন ইনিংসেই রয়েছে ১০০‍+, ১৫০‍+ ও ২০০‍+ রানের ইনিংস। ভাবা যায়! রাঁচি টেস্টের ইনিংসটির কথাই ধরুন। সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ছক্কা মেরে, ডাবলও সেই ছক্কা মেরেই! ভারতের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ছক্কা মেরে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার কীর্তিও এখন তাঁর।

রাঁচি টেস্টে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আউট হয়েছেন রোহিত শর্মা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩৯৮ রান তুলেছে ভারত

রোহিত যেভাবে ইনিংস গড়েছেন তা যেকোনো আক্রমণাত্মক ওপেনারের জন্য ‘টিউটোরিয়াল’ হয়ে থাকবে। কাল সকালের সেশনে রাবাদা-নর্তেদের সুইং দেখে খেলেছেন। ৫০ রান করতে লেগেছে ৮৬ বল। উইকেটে সেট হওয়ার পর হাত খুলেছেন ধীরে ধীরে। পরের ৫০ রান করতে লাগল ৪৪ বল, এরপর ১০০ থেকে ১৫০ রানে পৌঁছাতে লেগেছে ৬৯ বল। ডাবল সেঞ্চুরির জন্য বাকি ৫০ রান করতে স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০—অর্থাৎ ৫০ বল। দুর্দান্ত এ ইনিংসটি খেলে তিনি আউট হওয়ার পর পরিসংখ্যান বলছে রোহিত স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের চেয়েও এগিয়ে। কোথায়? টেস্টে ঘরের মাঠে ব্যাটিংয়ের শেষ কথার (ব্র্যাডম্যান) গড় ৯৮.২২, রোহিতের ৯৮. ৮৪!

ভারতীয় ওপেনারের এই ডাবল সেঞ্চুরিতে চলতি সিরিজে আরেকটি প্রথমের দেখাও পেল ভারত। টেস্ট ইতিহাসে এর আগে এক সিরিজে কখনো তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পায়নি ভারত। মায়াঙ্ক আগারওয়াল, বিরাট কোহলি এবং আজ রোহিতের সৌজন্যে সেই প্রথমের দেখা পেল স্বাগতিকেরা। গোটা টেস্ট ইতিহাসে এর আগে ন্যূনতম তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি দেখা গেছে এর আগে মাত্র চার সিরিজে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ নিয়ে চারটি ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিলেন রোহিত। এর মধ্যে ওয়ানডেতেই রয়েছে তিনটি ডাবল। এ দুটি সংস্করণে রোহিত ছাড়া ডাবল রয়েছে শুধু শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ ও ক্রিস গেইলের। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো স্নায়ুক্ষয়ী পরিস্থিতিতে রোহিতের ছক্কা মারার ক্ষমতা—ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ছক্কা মেরে। টেস্টে সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন সেই ছক্কা মেরেই। টি-টোয়েন্টিতেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ছক্কা মেরেই। সংস্করণ যাই হোক রোহিতের ‘হিটম্যান’ নামটা তাই যথার্থই।