৭% সুদে মিলছে গৃহঋণ

Sunday, September 22nd, 2019

 

ডেস্ক নিউজঃ বাড়ি তৈরি ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে দেশে এখন সবচেয়ে কম সুদে ঋণ দিচ্ছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)।

উপজেলা সদর, উপজেলা সদরের আশপাশের এলাকা (পেরি আরবান) এবং উপজেলার যেকোনো সমৃদ্ধ এলাকায় (গ্রোথ সেন্টার) কৃষক আবাসন ঋণের সুদ এখন ৭ শতাংশ। আগে তা ছিল ৮ শতাংশ। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া দেশের যেকোনো এলাকায় পল্লি আবাসন ঋণ, প্রবাসবন্ধু ঋণ, আবাসন উন্নয়ন ঋণ এবং আবাসন মেরামত ঋণের সুদের হার এখন ৮ শতাংশ। আগে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বিএইচবিএফসি ১২ সেপ্টেম্বর সুদের হার কমিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর। ১ জুলাইয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব ঋণ মঞ্জুর হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও ৭ ও ৮ শতাংশ সুদের হারই কার্যকর হবে।

বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদা হচ্ছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। এ চাহিদা পূরণে সীমিত সাধ্য নিয়েও আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আর সে কারণেই নিম্ন আয় শ্রেণির জনগোষ্ঠীর সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য সহযোগিতা করতে সুদের হার কমানো হয়েছে।’

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব ঋণ ১ জুলাইয়ের আগে মঞ্জুর হয়েছে, কিন্তু ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া ১ জুলাইয়ের পর চলমান ছিল বা রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে গত ৩০ জুন পর্যন্ত আগের সুদের হার এবং ১ জুলাইয়ের পর থেকে নতুন সুদের হার কার্যকর হবে। আরও বলা হয়েছে, নতুন হারের সুযোগ নিতে গেলে গ্রাহকদের সব কিস্তি হালনাগাদ থাকতে (আপ টু ডেট) হবে। কোনো গ্রাহক আপ টু ডেট না থাকলে যে তারিখে আপ টু ডেট হবেন, তার পরের মাস থেকে তাঁর ঋণের ক্ষেত্রে নতুন সুদের হার কার্যকর হবে।

বিএইচবিএফসি এ নিয়ে গত দুই বছরে তিনবার সুদের হার কমিয়েছে। ২০০৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার অতি উন্নত এলাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য এলাকায় বাড়ি নির্মাণের জন্য সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ।

বিএইচবিএফসি ১১ বছর পর সুদের হার কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর করে ২০১৭ সালের ১ জুলাই। একই দিন থেকে ফ্ল্যাট ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ কার্যকর করা হয়। উভয় ধরনের ঋণের সুদের হার ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে করা হয় ৯ শতাংশ। এ ছাড়া টঙ্গী, সাভারসহ বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে বাড়ি নির্মাণের ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ করা হয়।

বিএইচবিএফসি গৃহ নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনার ঋণ ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে দ্বিগুণ করেছে। আগে ঋণ পাওয়া যেত ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। দুই বছর ধরে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত।

গ্রাহক, শাখা ও মুনাফার চিত্র

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, আগে ঋণ নিয়েছেন ও এখনো বিএইচবিএফসির কাছে দায় রয়েছে, এমন গ্রাহক থেকে শুরু করে সদ্য ঋণ গ্রহণকারী গ্রাহকের সংখ্যা এখন ৩২ হাজারের মতো। এই সংস্থা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুরির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মঞ্জুর করেছে ৫৫৩ কোটি টাকা। আর ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে দিয়েছে ৪৩৫ কোটি টাকার ঋণ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংস্থাটি ১৬২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

সংস্থাটির খেলাপি ঋণের হার ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশে।

বাড়ি তৈরি ও ফ্ল্যাট কেনায় দেশব্যাপী ঋণ দেওয়ার অংশ হিসেবে বিএইচবিএফসির ২৯ শাখাকে পুনর্বিন্যাস করে ৬১টি শাখা কার্যালয় করা হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে ১০টি জোনাল ও ১৪টি রিজিওনাল কার্যালয়। আরও ৩৯টি শাখা কার্যালয় স্থাপনের জন্য কাজ করছে বিএইচবিএফসি। জনবলকাঠামোতে পদসংখ্যা ৭৯৫ থেকে বেড়ে হয়েছে এখন ১ হাজার ২৯৭।

আবাসন ঋণের চাহিদা

কৃষি ও তৈরি পোশাকের পর আবাসন খাতকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ণ অর্থায়নের চাহিদার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে গৃহায়ণ খাতে অর্থায়নের চাহিদা দেড় লাখ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ চাহিদা আরও ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়বে।

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আবাসন খাতে ৮১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অর্থায়ন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর, ৪৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাকি অর্থায়নে রয়েছে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং, বিএইচবিএফসি, বিদেশি ব্যাংক, ন্যাশনাল হাউজিং ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন গতকাল বলেন, ‘আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। বিএইচবিএফসির এই সিদ্ধান্ত একদিকে সরকারের “সবার জন্য আবাসন” অঙ্গীকারটি পূরণে সহায়ক হবে, অন্যদিকে আবাসন খাতকেও গতিশীল করবে।’