বিপাকে পুলিশ চুরি করা গরু নিয়ে!

Tuesday, September 17th, 2019
চুরি করা গরু নিয়ে বিপাকে পুলিশ!

ডেস্ক নিউজঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চোরের বাড়ি থেকে দুটি ষাঁড় গরু উদ্ধার করে চরম বিপাকে পড়েছে থানা প্রশাসন। উদ্ধারকৃত গরুর মালিক না পাওয়ায় গত দুই মাস ধরে গরু দুটি লালন-পালন করে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা খরচ করেছে থানা প্রশাসন। তবে মালিক না পাওয়ায় দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে গরু দুটি ময়মনসিংহ আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করে নিলামে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

থানা সূত্রে জানা যায়, গফরগাঁও থানার সদ্যবিদায়ী ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খানের নেতৃত্বে পুলিশ এলাকাবাসীর সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ জুলাই উপজেলার চরমছলন্দ মাইজ পাড়া গ্রামের তাহের আলীর ছেলে চিহ্নিত গরু চোর বিল্লাল হোসেনের বাড়ি থেকে দুটি হাইব্রিড জাতের বড় ষাঁড় গরু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় গরু চোর বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি গরু চুরি মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত গরু দুটির মালিকের সন্ধান করেন। কিন্তু অদ্যাবধি দাবিদার না পাওয়ায় থানা প্রশাসন বাধ্য হয়ে গরু দুটি থানা কম্পাউন্ডের ভেতর রেখে লালন-পালন করে আসছিলেন। এতে দুটি গরুর পেছনে প্রতিদিন রাখাল খরচ ৬০০ টাকা, গরুর খাবার খৈইল, খড়, কাঁচা ঘাস, লবণ ক্রয় বাবদ ৫০০ টাকা, তিরপল ক্রয় ৩০০ টাকা, দুটি গরুই অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা খরচ ১৭০০ টাকা, চোরের বাড়ি থেকে থানা পর্যন্ত আনতে ভ্যান গাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা ও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিলামের জন্য ময়মনসিংহ আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে যেতে গাড়ি ভাড়া বাবদ আরও ৪-৫ হাজার টাকাসহ থানা প্রাশাসনের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে।

দায়েরকৃত গরু চুরি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আহসান হাবিব বলেন, চোরের বাড়ি থেকে দুটি গরু উদ্ধার করে আমরা আসলে চরম বিপাকে পড়েছি। এতদিনেও দুটির দাবিদার পাওয়া যায়নি। বিদেশি হাইব্রিড জাতের দুটি ষাঁড় গরু। গরু দুটিকে তো আর না খাইয়ে রাখা যায় না। রাখাল খরচ, গরুর খাবার ক্রয় বাবদ প্রতিদিন এক হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। তার ওপর পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খরচ-তো আছেই।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকূল সরকার বলেন, মাননীয় আদালত উদ্ধার করা গরু দুটি ময়মনসিংহ আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন।