সুনামগঞ্জে রাস্থার বেহাল অবস্থা, ভোগান্তিতে স্কুলের ছাত্রসহ লক্ষাধিক মানুষ।

Saturday, September 14th, 2019
সাব্বির আহমেদ (সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি): সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন্দ পয়েন্ট থেকে মথুর কান্দি দিকে চলাচলের রাস্তাটির একেবারেই বেহাল অবস্থা। দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় ভাঙ্গে গেছে আবার ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত গভীর গর্ত হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে সে গর্তে পানি জমে। গাড়ি চলে কাদা পানি ছিটিয়ে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া বৃষ্টি হলেই রাস্তায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এ ছাড়াও এই রাস্থা দিয়ে অনেক স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসাও রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন এলাকার ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষার জন্য আসেন। আবার দেখা গেছে এই রাস্থা দিয়ে চলবন্দ পয়েন্ট থেকে বাঘবেড় বাজার, মথুরকান্দি বাজার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী যৌথ বাজারে অনেক দুরের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা-বেচার জন্য যেতে হয় এ রাস্তা দিয়ে। আর রোগীদের জন্য এ রাস্তা মারণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-মোহাম্মদ সফর উদ্দিন জানান, রাস্তাটির ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। এবং এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমি প্রায় তিন মাস আগেও আলোচনা করেছি। কিন্তু রাস্থাটি সংস্কারের জন্যে যে পরিমান টাকার প্রয়োজন সে পরিমান বরাদ্দ বর্তমানে নেই। যদি সরকারি ভাবে রাস্থাটির বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্থাটি সংস্কার করা সম্ভব হবে। ভাঙ্গাচুড়া রাস্তা সর্ম্পকে সলুকাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রওশন আলী বলেন, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে চলাচলে আমাদেরকে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগছে ৩০ মিনিট। ভাড়াও দিতে হচ্ছে বেশি টাকা। আর যাত্রাপথে রিকসা-ভ্যানের যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে ঘটছে দুর্ঘটনা। মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে খুব দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা প্রয়োজন।
বাঘবেড় বাজারের ব্যবসায়ী আনিছ মিয়া জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় বড় বড় গর্তে  মারণফাঁদে পরিণত হয়। আর লরি দিয়ে প্রতি দিন ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট টানার কারণে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে।
বিভিন্ন স্থানে সিমেন্টের ঢালাই বেঙ্গে গিয়ে রাস্তার বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে যেমন সলুকাবাদ,পলাশ, ধনপুর,জাহাঙ্গীর নগর, সুরমা,রঙ্গারচর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকাসহ লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি বেড়েই যাচ্ছে । রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন আহমদ(ইয়াছিন) বলেন, ১৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৪ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। এই রাস্তাটি দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধার জন্য রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি। চালবন পয়েন্ট থেকে মথুরকান্দি রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন চালবন সরকারি সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়,বাঘবেড় হাফিজিয়া মাদ্রাসা, বাঘবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রতারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রতারগাঁও স্কুল এন্ড কলেজ, আদাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেরুয়াখলা সরকারি দাখিল মাদরাসার,মথুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাফেরা করে।
আদাং গ্রামের রিকসাচালক মুমিন বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে রিকসা চালিয়ে শান্তি পাই না। সময় বেশি লাগে। আর প্রায় প্রতি সপ্তাহেই রিকসা ঠিকঠাক করতে হয়। এর পেছনেই অনেক টাকা ব্যয় হয়। রিকসা দিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা যেতে লাগে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় থেকে রাস্তাটির এই বেহাল দশা হলেও রাস্তাটি মেরামতে নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। রাস্তার বেহাল দশার কারণে আরো বেশি বিপাকে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কৃষি জমি থেকে উৎপাদিত ফসল পরিবহনে বেশি টাকা গাড়ী ভাড়া দিতে হয়। এতে করে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ ছাড়া যানবাহন চলাচল করার সময় সমস্যায় পরতে হয় চালকদের।
জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে বাঘবেড় বাজার থেকে মথুরকান্দি বাজার পর্যন্ত প্রায় সম্পুর্ন রাস্তাটিরই ঢালাই ভেঙ্গে গেছে। ফলে চলাচলে মানুষদের ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। অপরদিকে মথুরকান্দি বাজার থেকে আদাং সীমান্তবর্তী যৌথ বাজারের খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটিও চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পরেছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি এসে রাস্তাটি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। সলুকাবাদ ইউ/পি সদস্য মোঃ আক্তার মিয়া বলেন, বর্তমানে রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে চলাচলে মানুষদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বারবার উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন মিটিংয়ে আলোচনা করেও কোন সমাধান করা হয়নি।