সুপার রহিমের সুপার পাওয়ার ?

Thursday, September 12th, 2019


তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউপির নড়িয়াল দাখিল মাদরাসার সুপার আলহাজ্ব মাওঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুপার আব্দুর রহিমের সুপার পাওয়ারের দাপটে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। আবার সুপার পাওয়ারের ক্ষমতায় তিনি নিজের খেয়াল-খুশিমত মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাকে রুখবে কে ?। চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বৃহ¯প্রতিবার সুপার আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ডাকযোগে এলাকার অভিভাবকগণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান মাদরাসা বোর্ড ও রাজশাহী জেলা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ সুপার আব্দুর রহিমের ক্ষমতার অপব্যবহার, সেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়ম-দূর্নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আকুন্ঠ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, জামায়াতের সক্রীয় কর্মী সুপার আব্দুর রহিম চাকরিবিধিমালা লঙ্ঘন করে তিনবার হজ্ব পালন করেছেন, গ্রামবাসির বাঁধা উপেক্ষা করে খেলার মাঠের মধ্যে সীমানা প্রাচীরের নামে পিলার তুলে মাঠ নস্ট করেছে ও মাদরাসা চত্ত্বরের প্রায় শতবর্ষী একটি শিমুল কেটে দিয়েছেন। আবার গোটা দেশে পবিত্র আশুরার (মহরম) ছুটি একদিন হলেও নড়িয়াল মাদরাসায় দুই দিন ছুটি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও একটি বির্তকিত হজ্ব এজেন্সির প্রতিনিধি হওয়ায় সুপার মাদরাসায় উপস্থিতি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই হজ্ব এজেন্সির কাজে বেরিয়ে পড়েন। সুপারের এসব কর্মকান্ডের কারণে এলাকার অভিভাবকগণ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার সহকারী এক শিক্ষক বলেন, সুপার আব্দুল রহিমের ঘনিষ্ঠ আব্দুল কারিম সুপারের সুপার পাওয়ারের মূলমন্ত্র। তিনি বলেন, এক সময় আব্দুল কারিম ছিলেন বিএনপি-জামায়াতের সক্রীয় কর্মী। কিšত্ত দেশের রাজনৈতিক পেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও রাতারাতি খোলস পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও মাদরাসার বিদ্যুৎসাহী প্রতিনিধি হয়েছেন। তিনি বলেন, কারিমের প্রভাব বিস্তার করে সুপার নানামূখী অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার পাশপাশি নিজের খেয়াল-খূশিমত মাদরাসায় আশা-যাওয়া করেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন, নড়িয়াল মাদরাসায় নিয়মিত জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয় না, এমনকি বাঙ্গালী জাতীর জনক ও মহান স্বাধীনতার স্বপত্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও মূত্যু (শাহাদাৎ) বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানিয়ে কোনো ব্যানার-ফেস্টুন পর্যন্ত তারা দেয় না। এসব বিষয়ে সুপার মাওলানা হাজী আব্দুর রহিম কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা বাধ্যতামুলক। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনিদ্রিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।