ধামরাইয়ে স্কুলে শ্রেণি বদলে লাগছে হাজার হাজার টাকা

Tuesday, September 10th, 2019

এম.আর রাজীব ধামরাই(ঢাকা)ঃ
ঢাকার ধামরাইয়ে বিভিন্ন স্কুল গুলোতে চলছে শ্রেণি বদলের
টাকা নেওয়ার উৎসব। ছাত্রছাত্রীরা পাশ করার পর উপুরের ক্লাসে
উঠার জন্য যে আনন্দ উল্লাস করবে,এবার সেটা করছে শিক্ষক আর
ম্যানিজিং কমেটির সভাপতিরা।
আমরা যখন লেখাপড়া করেছি সে সময় পরিক্ষায় পাশ করার পর নিয়ম
অনুযায়ি উপুর ক্লাসে বিনা খরচেই উঠে যেতাম। নতুন বই
পেতাম এবং আনন্দে লেখাপড়া করতাম।
কিন্তু এখন সমাপনী পাশ করার পর ছাত্রছাত্রীদের উপুরের ক্লাসে
ভর্তি নিয়ে শুরু হয়ে অভিভাবকদের চিন্তা। অভিভাবকরা যেখানে
সন্তানের পাশের জন্য আনন্দ করবে। সেটা না করে চিন্তায় ঘুম
হারাম ভর্তির টাকা যোগার করার জন্য। কারন এসকল স্কুল গুলোতে
নতুন শ্রেণীতে উঠা মানে অযথা হাজার হাজার টাকা স্কুল
কৃর্তিপক্ষকে দেয়া।
ধামরাইয়ের সুনামধন্য হার্ডিজ্ঞ স্কুল এর যার ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা
প্রায় দুই হাজার,শিক্ষক এর সংখ্যা ৪৬ জন। এখানে প্রতি জন
ছাত্র এবং ছাত্রীর কাছ থেকে ৩১৭৫ টাকা করে নেওয়া হয়েছে
শ্রেনী পরিবর্তন এর জন্য। এখানে দেখানো হয়েছে সেশন
ফ্রি-১০০০, টাকা উন্নয়ন ফ্রি-২০০০ টাকা,বাকিটা মাসিক
বেতন। এবার ২০১৯ সালে প্রায় ৩০০ ৬ষ্টম শ্রেনীতে পরিক্ষা দেয়।

এসকল স্কুলে গুলোতে লাখ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায় এভাবে ফ্রি
উঠানো ফলে। কিন্তু এই টাকা ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি আর
প্রধান শিক্ষকই যানেন কি হয়। এ জন্যই বেশির ভাগ স্কুলে
প্রভাবশালিদেরকেই সভাপতি বানানো হয়,যাতে করে কেই
কিছু বলতে না পারে।
একজন শিক্ষার্থী তারই নিজের স্কুলে নতুন ক্লাসে উঠবে
তাতে কেন এত টাকা দিতে হবে এ প্রশ্নো কারো জানা নাই।
শিক্ষা জিবন হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে অনেক অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীর
পরিবারে।
উপজেলা প্রাথমীক শিক্ষা কর্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধামরাই
উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭১টি।
উপজেলা হাই স্কুল এবং মাদ্রাসার সংখ্যা ৩৯ টি।
এসকল স্কুল গুলোতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করছে।
কিন্তু বছরের শুরুতেই অভিভাবকদের টাকার দূর্চিন্তা শুরু হয়।
সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি যুদ্ধে টিকে থাকা সবার জন্য সম্ভব
হচ্ছে না। আর সেই কারনে বাধ্য হয়ে অভিভাবকেরা
কিন্টারগার্ডেন স্কুল গুলোতে সন্তারদের ভর্তি করাচ্ছেন। আর
সে কারনেই বাড়ছে কিন্টারগার্ডেন স্কুল গুলোর সংখ্যা। সরকার
বিনামূল্যে বিতরনের জন্য বই দিচ্ছেন। নতুন বই নিয়ে ক্লাসে
যাওয়ার একটা অন্য রকম আনন্দ। প্রতি বছরের প্রথম দিনে
সারাদেশে এ বই বিতরন করেন সরকার। কিন্তু বিদ্যালয়ের
নির্ধারিত রশিদের টাকা জমা না দেওয়া পর্যন্ত এক জন
শিক্ষার্থীর হাতে সেসব বই দেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়,বেতন আদায়ের রশিদে ২৭ রকমের খাদ
দেখিয়ে ৩ থেকে চার হাজার টাকা চাপিয়ে দিচ্ছে অভিভাবকদের।
কেউ কেউ ধারদেনা করে এসকল টাকা দিয়ে ভর্তি হলে বেশির

ভাগ অভিভাবকরা এ ফ্রি থেকে অব্যাহতি পাওয়া অথবা কিছুটা
কমানোর জন্য ধর্না দিচ্ছেন দ্বারে দ্বারে।