জগন্নাথপুরের মিরপুর ও বিশ্বনাথে দশঘর ইউনিয়নে ১৬ বছর ধরে নির্বাচন নেই ॥ নির্বাচনের দাবিতে গণ-আন্দোলন

Tuesday, September 3rd, 2019

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ও সিলেটের বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে হচ্ছে না। দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্বাচন না হওয়ায় এ দুই ইউনিয়নে ইউপি সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যান্য নারী ও পুরুষ ইউপি সদস্যদের মধ্যে অনেকের মৃত্যু হলেও তাঁদের পদটি শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে অনেকে চলে গেছেন স্থায়ীভাবে বিদেশে। অনেকে আবার বার্ধক্যজনিত কারণে রয়েছেন শয্যাশায়ী। বাকিরা এখনো কোন রকমে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের জনগণ।
জানাযায়, ১৯৬০ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার ৩নং মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপিত হয় এবং প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন আইয়ূব আলী। সর্বশেষ ২০০৩ সালে নির্বাচন হয় এবং নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন আকমল হোসেন। ২০০৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে আকমল হোসেন পদত্যাগ করলে চেয়ারম্যান পদটি শুন্য হয়। তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ইউপি সদস্য নছির মিয়া। তিনি ২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালে আবারো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জমির উদ্দিন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সরজমিনে মিরপুর ইউপি সচিব সুধন চন্দ্র সরকার বলেন, মিরপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কাদির ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নছির মিয়ার মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের পদটি শুন্য রয়েছে। এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরশ আলী স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ায় তাঁদের পদটিও শুন্য আছে। এর মধ্যে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সোবহান বার্ধক্যজণিত কারণে শয্যাশায়ী আছেন। বাকি ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন, ৪নং ইউপি সদস্য রফা মিয়া, ৬নং ইউপি সদস্য আবদুল মালিক, নারী ইউপি সদস্য আফিয়া বেগম, আকজান বিবি ও রাজিয়া বেগম কোন রকমে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মিরপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ২২ হাজার ও ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৯৮৭ জন। এ সময় প্রবীণ মুরব্বী আবলুছ মিয়া, ময়না মিয়া সহ স্থানীয় জনতাদের মধ্যে অনেকে বলেন, আমরা নির্বাচন চাই। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি পেতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় আমরা কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বিগত ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ভোটার তালিকা প্রনয়ণ কাজ চলাকালে মিরপুর ইউনিয়নের লহরী গ্রামে জগন্নাথপুর ও বিশ^নাথ উপজেলার সীমানা নিয়ে লহরী গ্রামের কিছু লোক বিশ^নাথ উপজেলার নাগরিক হতে চাওয়া নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে লহরী গ্রামের আবদুল মানিক নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার কারণে এ দুই ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। উক্ত মামলার নিস্পত্তি না হওয়ায় দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মিরপুর ও দশঘর ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না।
তবে এ দুই ইউনিয়নে নির্বাচনের দাবিতে স্থানীয় জনতা দফায় দফায় গণ-আন্দোলন করেছেন। তাতেও কাজ হয়নি। আগামীতে মিরপুর ইউনিয়নে নির্বাচন হলে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন, মাহবুবুল হক শেরিন, মঞ্জুরুল আমিন জুয়েল, সাহাব আলী, নোমান আহমদ, ইলিয়াস আলী, আবদুল কাদির, শহীদ মিয়া ও মুহিব উদ্দিন সেলিম প্রমূখ।
এদিকে-বিশ^নাথের দশঘর ইউপি সচিব সাবুল মিয়া জানান, মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে একই সূত্রে গাঁথা দশঘর ইউনিয়ন। দশঘর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিক উদ্দিন স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়ায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য হারুনুর রহমান। এর মধ্যে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শায়েস্তা মিয়া যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ায় তাঁর পদটি শুন্য রয়েছে। তবে অন্য ইউপি সদস্য শামসুদ্দিন, আবুল হোসেন, আবদুস সোবহান, চুনু মিয়া, আবদুল আউয়াল, হরমুজ আলী, আবদুল গফুর, নারী ইউপি সদস্য জাহানারা বেগম, রোশনারা বেগম ও হোসনে আরা বেগম কোন রকমে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দশঘর ইউনিয়নের জনতাও নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন বলে ইউপি সচিব সাবুল মিয়া জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মিরপুর ও দশঘর ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। তবে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এ মামলাটি মহামান্য হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পথে আছে। উক্ত মামলাটি খারিজ হলেই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তপশীল ঘোষণা করবেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি হবে।