ঠাকুরগাঁওয়ে পাটচাষীরা নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত

Sunday, August 25th, 2019

 

মোঃ মজিবর রহমান শেখ (ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি) ঠাকুরগাঁও সরকারি ও বেসরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পাটচাষীরা।

পাটক্রয় কেন্দ্র না থাকায় একশ্রেণির ফড়িয়া ও পাট ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনে মজুদ করছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা সাম্প্রতিক বন্যার ধকল কাটাতে অর্থের অভাবে অল্প মূল্যে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৭৫ মন পাট।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পাট ক্রয়কেন্দ্র না থাকায় সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে পাট বিক্রি করতে পারছেন না চাষীরা। চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় প্রতি মণ পাট ব্যবসায়ীদের কাছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভের মুখ দেখছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পাট চাষীরা। চাষীদের দাবি সরকারিভাবে উপজেলায় পাট ক্রয় কেন্দ্র খোলা হলে তারা লাভবান হবেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর গ্রামের পাটচাষী সাদেকুল ইসলাম জানান, তিনি চলতি বছরে ২ একর জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিপক্ক না হলেও পাট কেটে জাগ দিতে হয়েছে। পাট কাটা থেকে শুরু করে শুকানো পর্যস্ত মন প্রতি ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। সরকারিভাবে উপজলায় পাট ক্রয় কেন্দ্র খোলা হলে চাষীরা লাভবান হতেন।

একই কথা জানালেন ঐ গ্রামের রবিউল ইসলাম রবিউল ইসলাম, ফজর আলী, মহির উদ্দিন সহ অনেক কৃষক। পাট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, ইয়াকুব আলী, রিয়াজুল ইসলাম,সহ অনেকে জানান, পাটের গুণগত মানের ওপর ১২ শত থেকে ১৮ শত টাকায় প্রতিমন পাট কেনাবেচা হচ্ছে। তবে অনেক কৃষক পাটখড়ি বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি সুত্রে বলেন, চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারপরও চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ায় পাটের রং কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়। তবে সরকারিভাবে ক্রয় কেন্দ্র খোলা হলে চাষীরা ন্যায্যমূল্য পেতেন।