সবচেয়ে পুরোনো ১০টি কৌতুক মানবেতিহাসের

Sunday, August 18th, 2019
মানবেতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো ১০টি কৌতুক

ডেস্ক নিউজঃ মানবেতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো ১০টি কৌতুক থেকে প্রমাণিত হয় যে মানুষেরা তাদের পোষা পশু এবং যৌন জীবন নিয়ে গত ৪ হাজার বছর ধরেই হাসি-ঠাট্টা করে আসছে।

২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের একদল ঐতিহাসিককে দায়িত্ব দেওয়া হয় মানবেতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো লিখিত ১০টি কৌতুক খুঁজে বের করতে।

উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাস্যরস বিশেষজ্ঞ ড. পল ম্যাকডোনাল্ড এর নেতৃত্বে ওই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক তারা কী খুঁজে পেয়েছেন।

১০. চুলের ছাট সংক্রান্ত একটি কৌতুক, প্রাচীন গ্রিস, ৩০০-৪০০ খ্রিস্টাব্দ

মানবেতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো ১০ম কৌতুকটি পাওয়া যায় বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো কৌতুকের বই ‘ফিলোগেলোস’-এ। চতুর্থ শতাব্দিতে বইটি লিখেছেন গ্রিসের লেখক হাইয়েরোক্লেস এবং ফিলাগ্রিয়াস।

কৌতুকটি হলো, “রাজনাপিত একবার রাজাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, তিনি কীভাবে তার চুল কাটাতে চান। উত্তরে রাজা বলেন, ‘নীরবে’।”

৯. গাধাকে নিয়ে কৌতুক, প্রাচীন গ্রিস, ৩০০-৪০০ খ্রিস্টাব্দ

মানবেতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো ৯ম কৌতুকটিও পাওয়া যায় বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো কৌতুকের বই ‘ফিলোগেলোস’-এ:

“এক পাণ্ডিত্যাভিমানী তার গাধাকে না খেয়ে থাকার প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে তাকে বেশ কয়েকদিন কোনো খাবার দেননি।”

“গাধাটি যখন মরে গেলো তখন ওই পন্ডিতাভিমানী বললেন, ‘বড় ক্ষতি হয়ে গেলো আমার! যখনই গাধাটি না খেয়ে থাকা শিখলো তখনই সে মারা গেলো!”

৮.  একটি প্রাচীন ‘তোমার মা’ সংক্রান্ত কৌতুক, প্রাচীন রোম, ৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৪ খ্রিস্টাব্দ

“একবার সম্রাট অগাস্টাস তার সাম্রাজ্য ভ্রমণে বের হলেন। তখন তিনি জনতার মাঝে ঠিক তার মতোই দেখতে একজনকে পেলেন।”

“তখন সম্রাট ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমার মা কি কখনো রাজপ্রাসাদে চাকরানীর কাজ করতো?”

“জবাবে সেই ব্যক্তি বলেন, ‘না, মহামান্য সম্রাট। তবে আমার বাবা একসময় রাজপ্রাসাদে চাকরের কাজ করতেন।”

৭. যৌনতা সংক্রান্ত একটি কৌতুক, প্রাচীন মিশর, ৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

“যৌন সঙ্গমে পুরুষদের আগ্রহ গাধার চেয়েও অনেক বেশি। কিন্তু তার টাকার থলিই তাকে তা থেকে বিরত রাখে।”

৬. একটি কৌতুক যা একইসঙ্গে একটি ধাঁধাও, প্রাচীন গ্রিস, ৪২৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

গ্রিক নাট্যকার সোফোক্লেস তার নাটক ‘ওডিপাস টায়রানাস’ এর একটি চরিত্রের মুখ দিয়ে একটি কৌতুক বলিয়েছেন যা বরং ধাঁধা বলেই মনে হয় বেশি।

“প্রশ্ন: কোন পশু সকালে চারপায়ে, দুপুরে দুই পায়ে আর রাতে তিন পায়ে হাঁটে?”

“উত্তর: পুরুষ মানুষ। শিশুকালে সে চারপায়ে হাটে। সোজা হয়ে হাটতে শেখার পর দুপায়ে হাটে। আর বুড়োকালে দুপায়ের সঙ্গে একটি লাঠিতেও ভর দিয়ে হাঁটে।”

৫. একটি নামে একটি শ্লেষ, প্রাচীন গ্রিস, ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

২,৮০০ বছর আগে লিখিত হোমারের ওডিসি মহাকাব্যে অন্ধকার হাস্যরস রয়েছে।

“ওডিসিয়াস তার শত্রু সাইক্লোপসকে বলছে যে তার আসল নাম হলো ‘কেউ না’। মানে তিনি কেউ না।”

“এরপর যখন ওডিসিয়াস তার লোকদেরকে সাইক্লোপস এর ওপর হামলা করার আদেশ দিলো তখন সাইক্লোপস চিৎকার করে বলতে থাকলো, ‘কে আছো সাহাজ্য করো। আমাকে হামলা করছে, কেউ না।”

“এতে অন্যরা মনে করলো কেউ হামলা করছে না। ফলে কেউ আর সাহাজ্য করতেও এগিয়ে এলো না।”

৪. এক বয়স্ক দম্পতিকে নিয়ে কৌতুক, অজানা, ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

“একচোখ অন্ধ এক নারী ২০ বছর ধরে এক পুরষের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ ছিলো”

“ওই পুরুষটি যখন আরেকজন নারীকে প্রেমিকা হিসেবে পেলো তখন তার স্ত্রীকে বললো, ‘আমি তোমাকে তালাক দিবো। কেননা তোমার একচোখ অন্ধ’।”

“স্ত্রী তখন উত্তর দিলো, বিয়ের ২০ বছর পরে এসে তুমি এটা জানলে”।

৩. গবাদি পশুদের নিয়ে একটি কৌতুক, সুমেরিয় সভ্যতা, ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

এটিও একটি ধাঁধার মতো।

“গরুর গাড়ির তিনজন চালকই তৃষ্ণার্ত ছিলেন: তাদের একজন ষাঁড়টির মালিক। অপরজন গাভীর মালিক। আর অন্যজন গাড়ির মালমালের মালিক।”

“ষাঁড়ের মালিক পানির খোঁজে যেতে রাজি হলেন না, কারণ তার ভয় তার ষাঁড়টিকে সিংহ এসে খেয়ে ফেলবে। গাভীর মালিকটি রাজি হলেন না, তার ভয় তার গাভী মরুভুমিতে হারিয়ে যাবে। মালামালের মালিক রাজি হলেন না, তার ভয় তার মালামাল চুরি হয়ে যাবে।’

“অবশেষে তারা সকলেই গেলেন পানির খোঁজে।”

“তাদের অনুপস্থিতিতে ষাড়টি গাভীর সাথে যৌন সঙ্গম করে। যার ফলে একটি বাছুরের জন্ম হয়। বাছুরটি গাড়িতে থাকা মালামাল খেয়ে ফেলে।”

“সমস্যা: বাছুরটির মালিক হবে কে?”

২. আরেকটি যৌনতা সংক্রান্ত কৌতুক, প্রচীন মিশর, ১৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

মানবেতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত কৌতুকের মধ্যে দ্বিতীয়টি পাওয়া যায় প্রাচীন মিশরের গল্পের বই ‘ওয়েস্টকার প্যাপিরাস’-এ।

“একজন বিরক্তির ফারাওকে কীভাবে বিনোদিত করা যায়?”

“নীল নদে একটি নৌকাতে যুবতী নারীদেরকে ভরে নাও, যাদের পরনে থাকবে শুধু মাছ ধরার জাল। এরাপর ফারাওকে মাছ ধরার জন্য আহবান জানাও।”

১. বায়ুত্যাগ সম্পর্কিত কৌতুক, সুমেরিয় সভ্যতা, ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

“যা কখনো ঘটেনি এমন একটি কাজ…”

“একজন যুবতী নারী কখনো তার স্বামীর কোলে বসে বায়ুত্যাগ করেননি।”

সূত্র: ইনসাইডার ডটকম