আড়াই টন ভায়াগ্রা আটক করে বিপাকে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল চৌধুরী। —মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ

Sunday, August 11th, 2019


শেখ নাছির উদ্দীন বেনাপোল প্রতিনিধি:

একজন দেশপ্রেমিক, সৎ অফিসার যেন মাফিয়াদের কুদৃষ্টির কারণে হারিয়ে না যায়, তা
নাহলে আপনার এত ত্যাগ পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে।
ভায়াগ্রা আটক করে বিপাকে পড়েছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার বেলাল
চৌধুরী। গডফাদার ও অপচক্র চালাচ্ছে বেনামী অভিযোগ, পত্র পত্রিকায় মুন্ডুপাত,
ধারাবাহিক মিথ্যাচার। গডফাদাররা তাঁর বাড়ি-ঘরের ঠিকানা পরিবর্তন, কণ্যা সন্তান
তৈরি করেছেন, শ্যালক সৃষ্টিসহ আত্মীয়স্বজন, মনগড়া সম্পদ দেখিয়ে ও আজগুবি গল্প
ফেঁদে দুদকে ও সংবাদমাধ্যমে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বদলির
গুঞ্জন চলছে। তিনি পারিবারিক কারণে ঢাকায় কোথাও পোস্টিং খুঁজছিলেন। বেনাপোলে
থাকতে চাননা। সাধারন বিবেচনায় ভালো কাজের পুরস্কার স্বরুপ তাঁর চট্রগ্রাম কাস্টম
হাউসে পোস্টিং হবে মনে করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন তাঁর চট্টগ্রাম কাস্টম
হাউসে বদলি ঠেকাতে প্রতিদ্বন্ধসঢ়;দ্বী ও স্বার্থান্বেষীরা ভায়াগ্রার গডফাদারদের সাথে
আঁতাত করে কিছু পত্রপত্রিকার মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ প্রতিবেদক গত দেড় বছর তাঁর কাজকর্কাম নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেছে। তাঁর সময়ে
সম্পাদিত সংস্কার ও বোনপোল উন্নয়নের কর্মকান্ড নিয়ে শতাধিক রিপোর্ট করেছে।
প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ছাপা হয়েছে, দেশব্যাপী নন্দিত হয়েছে।
এসময় একটি মিডিয়াও তার সাফল্য ছাড়া ঘুষ দুর্নীতি দূরে থাক, সমালোচনা করেও
রিপোর্ট করেনি।সততা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার জন্য সমগ্র বেনাপোলে ও এলাকাবাসীর
কাছে তিনি সম্মানিত ও সমাদৃত ব্যক্তি।
গত ২৪ জুলাই ২০১৮ তারিখে ৬৭মন বা আড়াই টন ভায়াগ্রা আটকের পর তিনি খারাপ
দুর্নীতিবাজ হয়ে গেলেন। তাঁর মুন্ডুপাত শুরু হয়ে গেল। কয়েক কোটি টাকা ঘুষ
নিয়ে ছেড়ে দিলে মাফিয়া-দোসর কর্মকর্তাদের মতো হয়তো ভালো থাকতেন।
মাফিয়াচক্র ও ক্ষমতাবানদের রোষাণলে পড়লে যেমন হয়।
বেনাপোলবাসী কাছ থেকে দেখেছে তাঁর দেশপ্রেম, কার্গো ও যাত্রীসেবায় রাতদিন এক
করে কাজ করা, বেনাপোলবাসীকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। বেনাপোলের প্রতিটি
সিএন্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও জানেন ঘুষ নেওয়া, চাওয়া দূরের কথা,
তিনি কখনো কল্পনাও করেননা। বিনা ঘুষে কাজ করতে পেরে শতশত আমদানিকারক
সিএন্ডএফ প্রতিদিন তাঁর জন্য দোয়া করেন।
প্রশ্ন দেড় বছর আগে বেনাপোল বন্দর কোথায় ছিল আর এখন কোথায়? একজন যাত্রী এখন
সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ১৫মিনিটে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যান। দেড়বছর আগে
দু/তিন ঘন্টা লাগত। বহিরাগতমুক্ত চেকপোস্ট ও চেকপোস্টের অসংখ্য নান্দনিক সংস্কার
তাঁর অবদান। একটি রপ্তানি ট্রাক কয়েক ঘন্টায় ভারতে যাচ্ছে। আগে গড়ে দুদিন
লাগত। ফলে রপ্তানি দ্বিগুন হয়েছে। একটা বাণিজ্যিক কার্গো আগে কালিতলা থেকে
বেনাপোল পার হতে ৩৩দিন লাগত এখন ৩ঘন্টা থেকে ১দিনে খালাস হয়। নিজে রাস্তায়

নেমে যানজটের নগরী বেনাপোলকে যানজটমুক্ত করেছেন। পণ্য নিরপত্তায় সমগ্র বন্দর ও
চেকপোস্টে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছ্ধসঢ়;ন্য। বাইপাস সড়কে এসাইকুডা সংযোগ
দোয়ায় এর মাধ্যমে সত্তুর ভাগ আমাদানি গাড়ি় খালাস হচ্ছে। দেশপ্রেম ও সেবায়
মোটিভেশনের জন্য প্রতি সপ্তাহে সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে এসেম্বলি সভা করেন।
প্রতিনিয়ত পেট্রপোল কাস্টমস, সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দ, বন্দর, বিজিবি, পুলিশ সকল
সংস্থার সাথে সভা করে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করেন। সম্প্রতি চেকপোস্টে
যাত্রীসেবায় ১০০ট্রলির ব্যবস্থা করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান উদ্বোধন
করেছেন। কাস্টমস, বন্দর, বাণিজ্য পরিবেশ সহজ সাশ্রয়ীকরণ, যাত্রী চেকপোস্ট তথা সমগ্র
বোনপোলের উন্নয়নে দেড় বছরে ক্লান্তহীনভাবে কাজ করেছেন, যা গত ৪৭ বছরে
হয়নি।পেশাগত জীবনে লোভলালসার ঊর্ধ্বে থেকে যিনি বারবার দেশ ও জাতির পক্ষে কাজ
করে গেছেন তাকে পড়তে হয় দেশবিরোধী চোরাচালানী শক্তির রোষানলে। গত দেড় বছর
তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন। হঠাৎ করে তার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় সংবাদ, দুদকে
অভিযোগ বিস্ময়কর। বুঝতে অসুবিধা হয়না, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আড়াই
মেট্রিকটন (৬৭ মন বা সাড়ে ১২ হাজার কেজি) ভায়াগ্রা চালান আটকে দিয়ে
ভায়াগ্রা গডফাদারদের রোষানলে পড়েছেন।
কিছু পত্রপত্রিকায় গডফাদারদের এতই নিয়ন্ত্রণে যে দিশেহারা হয়ে তাঁরা কমিশনারের
জন্মস্থান পাল্টে দিয়েছে। অলৌকিক সন্তানও সৃষ্টি করছে। প্রকাশিত সংবাদে বেলাল
চৌধুরীকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে বেলাল চৌধুরীর
বাড়ি বেগমগঞ্জে শরীফপুরে। সংবাদে অলৌকিকভাবে বেলাল চৌধুরীর মেয়ে আবিস্কার
করা হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বেলাল চৌধুরীর ছেলে-মেয়ে কানাডায় পড়াশুনা করছেন।
প্রকৃতপক্ষে বেলাল চৌধুরীর কোন মেয়ে নেই তার দুই ছেলে ঢাকার স্কুলে পড়ছেন। তার
বড় ছেলে ঢাকার একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র এবং ছোট ছেলে ও ঢাকায় আরেক
স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে বেলাল চৌধুরীর শ্যালকের নামে সম্পদ
রয়েছে কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে তার কোন শ্যালক নাই। তাঁর স্ত্রীরা
তিন বোন।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে বেলাল চৌধুরী একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক। সরেজমিনে
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেলাল চৌধুরী যে ফ্ল্যাটে থাকেন তা তার স্ত্রীর নামে
আইসিবি ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ক্রয় করা। এই লোনটির কিস্তি এখনো
চলমান। আরো জানা গেছে, বেলাল চৌধুরীর কোন ভাই-ই গার্মেন্টস ব্যবসা কিংবা
চাকরিতে জড়িত নয়।
৮ আগস্ট প্রথম আলোসহ দেশের বিভিন্ন দৈনিকে মিথ্যা ঘোষণায় বেনাপোল দিয়ে
ভায়াগ্রা আমদানী ১২ কোটি টাকা মূল্যের ভায়াগ্রা চালান আটক এমন সংবাদ
প্রকাশিত হয়। এ আটকের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিশ্বব্যাংক
ঘোষিত সেরা কামস্টস কর্মকর্তা বেলাল চৌধুরী। এশিয়ার সর্ববৃহৎ ভায়াগ্রা
চালান আটকের পর সরকার প্রশাসনের তোলপাড় শুরু হয়। শুরু হয় আন্তঃদেশীয় তদবীর।
কোটি কোটি টাকার লোভ লালসা কোন কিছুর কাছেই হার মানেননি বেলাল চৌধুরী।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঝুঁকিরমুখে না ফেলে দেশ ও মাতৃকার টানে ভায়াগ্রা

গডফাদারদের ছাড় দেননি। এ বিশাল পরিমাণ ভায়াগ্রা চালান আটকের পর ভায়াগ্রার
গডফাদাররা ও স্বার্থান্বেষী চক্র তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকেন।
৯ আগস্ট দেশের একটি দৈনিকে কাস্টমস কর্মকর্তা বেলালের অঢেল সম্পদ শিরোনামে
সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ প্রসঙ্গে বেলাল চৌধুরী এই প্রতিবেদকে বলেন,
সংবাদটি ও সমজাতীয় সব রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে ৬৭ মন ভায়াগ্রা ধরার পর। ২৪
জুলাইয়ের আগে কেন অভিযোগ আসেনি বা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি কেন? দুদকে
অভিযোগ হয়নি? ভায়াগ্রা চালান আটকের পর তারা জানলেন আমার অঢেল সম্পদ। পত্রিকা
বা সংবাদপত্র নিয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।
প্রকাশিত সংবাদে যা উল্লেখ করা হয়েছে সবই মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক সংবাদের
একভাগও প্রমাণ করতে পারবেন না। তিনি সবসময় বলেন, “আমি দুর্নীতি করি না।
কোন প্রকার অপপ্রচার হুমকি ধামকি আমাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারবেন না।”
প্রকাশিত সংবাদে দুদকের তদন্ত প্রসঙ্গে এ কমিশনার বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুদকের
অভিযোগ নতুন নয়। আমি গডফাদারদের ইচ্ছায় না চলার কারণে তারা বারবার আমাকে
বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ, দুদকে অভিযোগ
সম্পূর্ণ বানোয়াট। চট্রগ্রামে যুগ্মকমিশনার থাকাকালেও তিনি
চোরাকারবারিদের প্যাকেটবন্দি করেছিলেন। তখনও তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে বহু অভিযোগ
জমা হয়। সম্পদ বিবরণী জারি হয় ২০০৮ সালে। চোরাকারবরীদের ওইসব অভিযোগ দীর্ঘ
তদন্ত সাপেক্ষে দুদক তদন্ত করে সত্যতা পায়নি। দুদকের পত্রে ২০০৯ এ নির্দোষ প্রমান হন,
বেনামী অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।
দুদকের অভিযোগ ও তদন্তকাল এ প্রতিবেদক তখন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কাজে সম্পৃক্ত
ছিলেন। এর আগে পরেও অসংখ্য অভিযোগের একটা অভিযোগও প্রমান হয়নি। তখনও
প্রমাণিত হয়েছে তাঁর আয় বর্হিভূত কোন সম্পদ নাই। এখনো তাই হবে।
বেলাল চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, গত পৌনে দুবছর রাতদিন বোনপোলের সংস্কারে
কাজ করেছি। আমি পেশাদার সরকারী কর্মী। দেশ ও মানুষের স্বার্থে কাজ করি, করছি।
যতদিন বাঁচবো দেশ মাটি ও মানুষের পক্ষে কাজ করে যাবো। দেশবিরোধী কোন চক্রের
ক্রীড়নকে পরিণত হবো না ইনশাল্লাহ।
অসত্য অপতথ্যের সংবাদে পাঠক বিভ্রান্ত হয়। সারা জীবন দিয়ে তৈরি করা সম্মান নষ্ট
হয়। আমাদের সবাই মিলে এমন সংবাদ পরিবেশন বন্ধ করতে হবে। যারা এসব
বিভ্রান্তিমূলক ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায় তাদের বিচারের আওতায় আনা জরুরী।