এই ঈদে ফ্রিজ প্রয়োজন

Wednesday, August 7th, 2019

ঈদের আগে বাজারে দেখেশুনে ফ্রিজ কেনার চল দেখা যাচ্ছে। মডেল: সারাকা, ছবি: অধুনাঈদের আগে বাজারে দেখেশুনে ফ্রিজ কেনার চল দেখা যাচ্ছে। মডেল: সারাকা, ছবি: অধুনা

 

ডেস্ক নিউজঃ প্রতিদিনের পথচলা যেসব ইলেকট্রনিক পণ্য সহজ করেছে, সেসবের মধ্যে একটি হলো রেফ্রিজারেটর। সামনে ঈদুল আজহা। এই ঈদে রেফ্রিজারেটর অতি জরুরি একটি ইলেকট্রনিক পণ্য। এই উৎসব সামনে রেখে অনেকেই রেফ্রিজারেটর কেনার পরিকল্পনা করছেন। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটর।

ঈদের বাড়তি আনন্দ

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে পরিবার নিয়ে ফ্রিজ কিনতে এসেছেন চাকরিজীবী চপল মাহমুদ। ‘ঈদ এমনিতেই আনন্দের। ঈদের সময় পরিবারে নতুন কোনো প্রযুক্তিপণ্য যুক্ত হয়। তাহলে পরিবারের সদস্যদের ঈদের আনন্দ বহুগুণে বেড়ে যায়।’ ঈদের আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পরিবার নিয়ে ফ্রিজ কিনতে এসে এমনটাই জানান মাহাতাব হোসেন।

ঈদে ছাড় ও সুবিধা

‘মিট দ্য ঈদ’ প্রচারণা শুরু করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ। এটি চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। স্যামসাং বাংলাদেশের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকসের হেড অব বিজনেস শাহরিয়ার বিন লুৎফর বলেন, ‘এই ঈদে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে স্যামসাংয়ের ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া। আমরা আমাদের গ্রাহকদের এমন সব অফার দিয়েছি, যা তাঁদের সত্যিই খুশি করবে। ক্যাম্পেইন চলাকালে, নির্দিষ্ট মডেলের রেফ্রিজারেটর কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা বিনা মূল্যে পাবেন একটি টেলিভিশন অথবা ওয়াশিং মেশিন কিংবা মাইক্রোওভেন। এ ছাড়া রেফ্রিজারেটরের কেনার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ অফারের সুবিধা পাবেন ক্রেতারা। পাশাপাশি স্যামসাংয়ের নতুন স্পেসম্যাক্স রেফ্রিজারেটরে রয়েছে আকর্ষণীয় অফার। বাজারে বিদ্যমান স্যামসাংয়ের একমাত্র নন-ফ্রস্ট আপরাইট ফ্রিজার ক্রয়ে রয়েছে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক এবং এক্সচেঞ্জ অফার। তা ছাড়া রেফ্রিজারেটর অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিনলে ক্রেতারা স্টক থাকা পর্যন্ত বিনা মূল্যে পাবেন গিফট বক্স।

ঈদুল আজহায় ফ্রিজ ক্রেতাদের মিলিয়নিয়ার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৪–এর আওতায় ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজার কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই প্রতিদিনই পেতে পারেন ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া থাকছে কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারসহ ফ্রিজ, টিভিসহ অসংখ্য পণ্য ফ্রি। এ সুযোগ থাকছে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত। দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা বা পরিবেশক শোরুম কিংবা অনলাইনে ই-প্লাজা থেকে ফ্রিজ কিনে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবেন ক্রেতা। এরপর ফিরতি এসএমএসে ক্রেতাকে টাকার পরিমাণ, ক্যাশ ভাউচার অথবা ফ্রি পণ্য সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হবে।

অনলাইনে দ্রুত সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সারা দেশে এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। এতে ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে ক্রেতার নাম, ফোন নম্বর, ক্রয়কৃত পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে ফেললেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলবে। সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধিরাও গ্রাহকের ফিডব্যাক জানতে পারবেন। এ কার্যক্রমে ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে মিলিয়নিয়ারসহ ফ্রি পণ্য এবং নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে ওয়ালটন ফ্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ জানান।

সিঙ্গার ইতিমধ্যেই চালু করেছে ‘সিঙ্গার ঈদ ফ্রিজ ফিভার’ ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনে দেশজুড়ে ক্রেতা সাধারণ স্ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন। রেফ্রিজারেটর ক্রয়ে পাবেন নিশ্চিত ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। এ ছাড়া আগ্রহী ক্রেতারা মাত্র ৪ হাজার ৫০০ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে রেফ্রিজারেটর কিনতে পারবেন। এ ছাড়া অন্য কোম্পানির ফ্রিজে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অফার ও ছাড় ঘোষণা আছে।

রকমভেদ

স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের রয়েছে শতাধিক মডেলের ফ্রস্ট, নন-ফ্রস্ট, ডিপ ফ্রিজ ও বেভারেজ কুলার। ফ্রস্ট ফ্রিজের মধ্যে রয়েছে চোখধাঁধানো আকর্ষণীয় ডিজাইনের গ্লাস ডোর এবং ব্যাপক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির বিএসটিআইয়ের ‘ফাইভ স্টার’ এনার্জি রেটিংপ্রাপ্ত ফ্রিজ। এ ছাড়া ইনভার্টার ও গ্লাস ডোরের ৫৬৩ লিটারের সাইড বাই সাইড ডোরের নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর অভিজাত গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এসব ফ্রিজ স্ট্যাবিলাইজার ছাড়াই নিশ্চিন্তে চালানো যাবে। বাজারে সিঙ্গারের পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরির রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। ডিপ ফ্রিজার, ডিরেক্ট কুল, নো ফ্রস্ট, সাইড বাই সাইড এবং সেমি কমার্শিয়াল সিরিজ।

সুবিধা

দেশে তৈরি পণ্যের সর্বোচ্চ গুণগতমান এবং শ্রেষ্ঠত্বের আত্মবিশ্বাসে ফ্রিজে ১ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধা দিচ্ছে ওয়ালটন। পাশাপাশি ফ্রিজ কম্প্রেসরের গ্যারান্টি সুবিধা আরও দুই বছর বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। রয়েছে সহজ কিস্তি সুবিধায় কেনার সুযোগ। ট্রান্সটেক ব্র্যান্ডের ফ্রিজ ২৭টি ব্যাংকে শূন্য শতাংশ ইন্টারেস্টে ১২ মাসের কিস্তিতে পাওয়া যাবে।

দাম কেমন

বাজারে ওয়ালটনের ৫০ থেকে প্রায় ৬০০ লিটার ধারণক্ষমতার শতাধিক মডেলের ফ্রিজ রয়েছে। এগুলোর দামও সাধ্যের মধ্যেই ১১ হাজার থেকে ৬৫ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে। বাজারে ওয়ালটনের রয়েছে শতাধিক মডেলের ফ্রস্ট, নন-ফ্রস্ট, ডিপ ফ্রিজ ও বেভারেজ কুলার। ফ্রস্ট ফ্রিজের মধ্যে রয়েছে চোখধাঁধানো আকর্ষণীয় ডিজাইনের গ্লাস ডোর এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির বিএসটিআইয়ের ‘ফাইভ স্টার’ এনার্জি রেটিংপ্রাপ্ত ফ্রিজ। এ ছাড়া ইনভার্টার ও গ্লাস ডোরের ৫৬৩ লিটারের সাইড বাই সাইড ডোরের নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর অভিজাত গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এসব ফ্রিজ স্ট্যাবিলাইজার ছাড়াই নিশ্চিন্তে চালানো যাবে।

সিঙ্গারের ৯টি মডেলের ডিপ ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে। ১২১ লিটার থেকে ৩৮০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফ্রিজগুলো পাওয়া যাচ্ছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। সিঙ্গারের ২৪টি ডিরেক্ট কুল মডেলের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। এসব রেফ্রিজারেটর ১৯ হাজার ৯৯০ থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। নো ফ্রস্ট ক্যাটাগরির ৭টি মডেলের রেফ্রিজারেটর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব ফ্রিজের সর্বনিম্ন দাম ৪৫ হাজার ৯৯০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ৬৪ হাজার ৯৯০ টাকা। সিঙ্গারের তিনটি মডেলের সাইড বাই সাইড রেফ্রিজারেটর। রেফ্রিজারেটরগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৭৯ হাজার ৯৯০ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে। সেমিকমার্শিয়াল সিরিজের তিনটি মডেলের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯০ থেকে ৩৮ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে। বাজারে সিঙ্গারের ৯টি মডেলের ডিপ ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে। ১২১ লিটার থেকে ৩৮০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফ্রিজগুলো পাওয়া যাচ্ছে ২২ হাজার ৫০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। ট্রান্সটেকের ১০০ লিটার থেকে বিভিন্ন আয়তনের ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে। এর দাম ১৯ হাজার থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে। বাজারে আরএফএলের ভিশন ও ভিগো ব্র্যান্ডের বেশ কিছু মডেলের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ৫০ লিটার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৫৬ লিটারের ফ্রিজ রয়েছে ভিশন ও ভিগো ব্র্যান্ডে। যার দাম পড়বে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া বাজারে ওয়ার্লপুল, হিটাচি, এলজি, তোশিবা, সনি-‍র‌্যাংগস, শার্প, মিনিস্টার, কনকা, হাইকো, যমুনাসহ বিভিন্ন কোম্পানির ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে।

কোথায় পাবেন

রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানসহ স্টেডিয়াম মার্কেট, মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, মিরপুর রোড, পান্থপথসহ জেলা শহরগুলোয় ফ্রিজ পাওয়া যায়।