দাম চড়া ডেঙ্গু রোগীর পথ্যের

Monday, August 5th, 2019

ডেস্ক নিউজঃ বাজারে ডেঙ্গু রোগীর পথ্যের দাম এখন ব্যাপক চড়া। একটি ডাবের দাম উঠেছে ৭০-৮০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ৩০-৫০ টাকা ছিল। বেড়েছে ফলের দামও। বিশেষ করে মাল্টার দাম প্রতি কেজি ৭০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনেই মো. মোজাম্মেলের ভ্রাম্যমাণ ফলের দোকান। মোজাম্মেল জানান, তাঁর দোকানে মাল্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দামও বেড়ে গেছে। এক কেজি মাল্টা ছিল ১৩০ টাকা, সেটা এখন ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের বাড়তি তরলজাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডাবের। এরপর মাল্টা ও অন্যান্য ফল। পথ্যের পাশাপাশি মশাপ্রতিরোধী ক্রিম, অ্যারোসল ইত্যাদির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সেগুলোর দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে মানুষের খরচ বেড়ে গেছে।

চার বছর বয়সী মেয়ের জ্বর নিয়ে গত শনিবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়েছিলেন মর্জিনা বেগম। চিকিৎসকের পরামর্শে ডাব কিনতে তিনি যান হাসপাতালের সামনের ডাবের দোকানে। দোকানদার একটি ডাবের দাম চান ৭০ টাকা। জানতে চাইলে মর্জিনা বেগম বলেন, একটি ডাব কিনতে প্রতিদিন ৭০ টাকা ব্যয়ের সামর্থ্য তাঁর নেই। এর বদলে ওরাল স্যালাইন খাওয়াবেন।

কারওয়ান বাজারের ডাব বিক্রেতা মেসের আলী জানান, বাজারে কচি ডাব একেবারেই নেই। কারণ, এখন ডাবের মৌসুম নয়। ডাব বলে আসলে নারকেল বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর কারণে চাহিদা অনেক বেশি। ফলে দাম বেড়েছে। তাঁর একটি ডাব কেনা পড়েছে ৫৫ টাকা। বিক্রি করছেন ৭০ টাকায়।

মাল্টার পাশাপাশি কমলা ও আনারের চাহিদাও বেশি। দামও চড়া। বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকার কমলা মিলছে। প্রতি কেজি ২০০-২২০ টাকা। আনারের কেজি ২৫০-২৮০ টাকা। মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশি ফল আমের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজির দাম ১৮০-২০০ টাকা। বড় আনারস প্রতিটি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

আমদানি করা ফলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ জাহাজজট বলে দাবি আমদানিকারকদের। ফল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাজ আসার পর বন্দরে ভিড়তে ৭ থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আমরা পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যে ফল আমদানি করেছিলাম, তা এখনো খালাস করা যায়নি।’ তিনি বলেন, মিসরে মাল্টার মৌসুম শেষ। দক্ষিণ আফ্রিকায় মৌসুম শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবে হজ মৌসুমের কারণে মাল্টার চাহিদা ব্যাপক। এসব কারণে দাম বেশি।

সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, গতকাল রোববার পাইকারি বাজারে এক কার্টন (১৫ কেজি) মাল্টা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে তা ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে ছিল। ১ কেজি মাল্টায় ৩১ টাকা কর দিতে হয় বলেও জানান তিনি।

মশাপ্রতিরোধী ভারতীয় একটি ব্র্যান্ডের ক্রিম এখন হন্যে হয়ে খুঁজছেন ক্রেতারা। রাজধানীর আশকোনার বাসিন্দা মো. মোস্তফা হোসেন দুই বছর আট মাস বয়সী নাতনির জন্য গতকাল এ ক্রিম কিনেছেন ৫০০ টাকা দিয়ে। তিনি বলেন, দোকানদার জানিয়েছেন, একই ক্রিম তাঁরা ১২০ টাকায় বিক্রি করতেন।

এদিকে শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ একই ক্রিম কয়েকটি দোকানে ঘুরেও পাননি। পরে একটি ফার্মেসিতে পেলেও দাম চাওয়া হয় ৪০০ টাকা।

দেশে মশা মারা ও প্রতিরোধের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে এসিআই, স্কয়ার ও ভারতের গোদরেজ। তারা মশা মারার অ্যারোসল ও মশা তাড়ানোর ভ্যাপোরাইজার বাজারজাত করে। এ ছাড়া কয়েলের বৈধ-অবৈধ অনেক প্রতিষ্ঠান আছে।

অ্যারোসলের বাজারে সিংহভাগ হিস্যা এসিআইয়ের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, ‘অ্যারোসলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আমরা দিনরাত কাজ করে সরবরাহ ঠিক রাখছি। কোম্পানি কোনোভাবেই দাম বাড়ায়নি।’

সরকারের হিসাবে গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৪ হাজার ৮০৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। অবশ্য এটি সব হাসপাতালের তথ্য নয়। প্রকৃত রোগী আরও বেশি। মানুষ সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েও আতঙ্কে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই বর্ষায় মশা সংসারের ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, মা, স্ত্রী ও এক সন্তানের ডেঙ্গু ও টাইফয়েড পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। এক জায়গায় আস্থা না পাওয়ায় দুই জায়গায় করিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকার মতো বাড়তি ব্যয় হয়েছে।