চাঁপাইনবাবগঞ্জে বানিজ্যিক ভাবে চাষযোগ্য হয়ে উঠছে সৌদি আরবের খেজুর

Friday, July 12th, 2019
এম এ করিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নাচোল উপজেলার মোকসেদ আলীর বাগানে বানিজ্যিকভাবে চাষযোগ্য হয়ে উঠছে সৌদিআরবের খেজুর।মোকসেদ আলীর স্বপ্ন সৌদি আরবের খেজুর বাগান তৈরি।তবে সুযোগ হয়নি এখনো তার সৌদি আরব যাওয়ার।লোকমুখে আর টেলিভিশনে সহ বাংলাদেশের অন্যত্র সৌদি খেজুর চাষের গল্প দেখেশুনে শখ জাগে তার সৌদি আরবের খেজুর চাষে।আর এ শখকে বাস্তবে রূপ দেন কৃষক মোকসেদ আলী। বরেন্দ্র ভূমি নাচোলে উপজেলার ভেরেন্ডি গ্রামে ২৫ কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন বিখ্যাত সৌদি আরবের খেজুর বাগান।খেজুর চাষি মোকসেদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানায়,চাষযোগ্য বাগানে তার বেশ কয়েক প্রজাতীর সৌদি আরবের খেজুর রোপন করা হয়েছে।এ সব খেজুরের অন্যতম হচ্ছে ‘আজোয়া’, ‘ক্ষীর’, ‘সুলতান’, ‘খালাস’, ‘মরিয়ম’সহ ১১ জাতের খেজুর রয়েছে তার বাগানে। এর মধ্যে  নামি দামি জাত হচ্ছে আজোয়া নামের খেজুর।
চাষী মোকসেদ আলী তার স্বপ্নের সৌদি খেজুরের চাষ শুরুকরেন ২০১৭ সালের দিকে।আর এ শখকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য মোকসেদ আলী প্রথমে যোগাযোগ করেন আফগানিস্তানে থাকা প্রকৌশলী এক বন্ধুর সাথে।এবং তার কাছে সৌদি খেজুর চাষের ইচ্ছা পোষণ করেন।এতে করে আফগানিস্তানী বন্ধু সৌদি আরব থেকে খেজুরের বীজ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।পরে মোকসেদ আলী ও তার এক ছেলে ওবাইুদুল ইসলাম রুবেলকে নিয়ে গড়ে তুলেন সৌদি আরবের খেজুর। নাচোল-আড্ডা সড়কে ভেরেন্ডি বাজার থেকে আধা কিলোমিটার পূর্বে গেলেই রাস্তার ডান পাশে চোখে পড়ে যায় একটি ফলক।আর সে ফলকে স্পট লেখা রয়েছে ‘বরেন্দ্র ভূমিতে সৌদির খেজুর বাগান ও নার্সারী’। বাড়ির পাশেই উপযুক্ত নির্বাচনী জমিতে ছেলে ওবাইদুল ইসলাম রুবেলকে নিয়ে চাষাবাদ করছেন মোকসেদ সৌদির আরবের খেজুর বাগান।এদিকে মোকসেদআলী প্রথম দফায় সৌদি আরব থেকে ৮০০ খেজুর বীজ নিয়ে আসেন। প্রতিটি বীজের জন্য খরচ পড়ে প্রায় ২৮৮ টাকা। সেগুলো চারা করে তার মধ্যে ৪২৭টি খেজুর গাছ রোপন করেস।চাষী মোকসেদ আলী কৃষি অফিসারের পরামর্শে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে রোপণ করে সৌদি আরবের খেজুর।অতিরিক্ত বীজ চারা হিসেবে বিক্রি করছেন বলে জানান চাষী  মোকসেদ আলী।খেজুর চাষে খরচের কথা তুলে ধরলে তিনি আরও বলেন, তার একেকটি চারার দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।এদিকে মোকসেদ আলীর সৌদি আরবের খেজুর চাষে প্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন এলাকার চাষী বায়না করেন তাকে সৌদি আরবের চারার জন্য।পরে মোকসেদ আলী দ্বিতীয় দফায় আরো ৮০০ খেজুর বীজ আনেন তিনি উদ্দীপিত কৃষকদের জন্য। যেগুলো চারা করে বিক্রি করছেন তিন।এ পর্যন্ত মোকসেদ আলী প্রায় ৭০০ চারা বিক্রি করেছেন। তবে বীজ ক্রয়, চারা তৈরি, রোপণ এবং এ পর্যন্ত পরিচর্যা বাবদ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন মোকসেদ আলীর তার স্বপ্নের সৌদি আরবের খেজুর বাগানে।
মোকসেদ আলীর খেজুর বাগানে ফলনের কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন, একটি গাছ ৫০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত খেজুর দেয়। আর প্রতি মৌসুমে একটি পরিপূর্ণ খেজুর গাছ ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি পর্যন্ত ফল দেয়। আর তাই ভালো উৎপাদনের আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এমনটাই বলেন কৃষক মোকসেদ আলী।