তানোরে কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া বদলে গেছে দৃশ্যপট

Friday, July 12th, 2019


আলিফ হোসেন,তানোর প্রতিনিধি:
রাজশাহীর প্রচন্ড খরা প্রবণ এলাকার অন্যতম তানোর উপজেলা
ও বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিতে আধূনিক প্রযুক্তির
ছোঁয়ায় বদলে গেছে কৃষিক্ষেত্রের দৃশ্যপট। আওয়ামী লীগ
সরকার আধূনিক কৃষি প্রযুক্তির সহজ লভ্যতা ও কৃষকের
মাঝে বিনামূল্য বিতরণ করায় দ্রুত এসব প্রযুক্তির ব্যবহার
বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা গেছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দ্রুত
নগরায়নের ফলে প্রতিনিয়ত দ্রুত কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য
কৃষি জমি। তবে এই অঞ্চলের কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও
যন্ত্রের ব্যবহার করে কৃষি ব্যবস্থার আগের চিত্র বদলে
দিয়েছে। আধূনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে মানধাত্তা
আমলের মতো এখন আর কেউ আকাশের বৃষ্টির আশায় বসে
থাকে না, আবার শ্রমিক না পেয়ে কাটার অভাবে জমিতে
ফসল পড়ে থাকে না। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষি
জমির পরিমাণ কমলেও বেড়েছে খাদ্যশস্য উৎপাদন। রাজশাহী
অঞ্চল জুড়েই কৃষকরা বীজতলা থেকে শুরু করে উৎপাদন
পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ধাপে ব্যবহার করছেন আধূনিক
প্রযুক্তি। মাত্র এক দশক আগেও যা ছিল স্বপ্নের মতো।
তানোরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের সিংহভাগ আবাদি
জমিতে চাষ দেন ট্রাক্টর যন্ত্রে বীজতলা তৈরি ও রোপণও চলছে
যন্ত্রেই। সেচ পাম্প ব্যবহারে সেচ পদ্ধতিরও পরিবর্তন
হয়েছে আরও আগেই। এছাড়াও চাষ দেয়ার মতো ধান
মাড়াইতেও এখন আর গরু বা মহিষের ব্যবহার নেই বললেই চলে।
সকল কাজেই আধূনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। এসব প্রযুক্তি
একদিকে যেমন শ্রমকে বাঁচিয়েছে, অন্যদিকে তমনি
বাঁচিয়ে সময়। উপজেলা সদও বা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল
থেকেও বছর বা মাস চুক্তি কামলা প্রথা উঠেই গেছে। এখন
কম জমিতে চাষাবাদ করে অনেক বেশি ফসল পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে খাদ্যে
স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে।
উপজেলার কলমা ইউপির প্রায় অর্ধশতাধিক প্রান্তিক
কৃষক জানান, আধূনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষাবাদসহ
অন্য কাজ সারলেও এখনও খেতে মই দেয়ার কাজ গরু-মহিষ
দিয়েই করছেন তারা। কারণ যন্ত্রের মাধ্যমে চাষ করে যন্ত্র
দিয়ে মই দিলে খেত উচুঁ-নিচু হয়ে থাকে। এতে ধানের
ক্ষেত্রে ঠিক মত পানি থাকে না। তানোর পৌর এলাকার
আমশো গ্রামের কৃষক এন্তাজ আলী জানান, তার নিজের
১৬ বিঘা জমি বিগত বোরো মৌসুমে পাওয়ার টিলার
দিয়ে একদিনেই হাল চাষ করেছেন পরে শুধু গরুর মই দিয়ে
চারা রোণ করেছেন। তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের
বঙ্গবন্ধু পদকপ্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, কৃষিতে
দিনদিন আধূনিক প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে
বর্তমানে যন্ত্রের সাহায্যে (ট্রাক্টর) দিয়ে হাল চাষসহ
কৃষি কাজ করা হচ্ছে। তবে গরু দিয়ে হাল চাষ না হওয়ার
কারণে অনেক ক্ষেত্রে মাটি জৈবিক ক্ষমতা হারাচ্ছে। তাই
একদিকে যেমন ফলন কমে যাচ্ছে তেমনি রাসায়নিক সারের
প্রভাব বেড়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা
সাইফুল্লাহ জানান, দিনে দিনে কৃষি কাজে বাড়ছে
আধূনিক যন্ত্রের ব্যবহার। কৃষি কাজে যান্ত্রিক উপকরণ
দিয়ে হালচাষ, ক্ষেত থেকে ফসল কাটা, উঠানো এবং
মাড়াইয়ের কাজও করছেন যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকেরা। তিনি
বলেন, যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হওয়ায় অল্প সময়েই অধিক জমি চাষ ও
চারা রোপণ করতে পারছে কৃষক। তাতেই কৃষি খাতে
অনেক উন্নতি হয়েছে। তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
শফিকুল ইসলাম বলেন, সা¤প্রতিক বছরগুলোয় কৃষিতে
আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম সংযোজনের একটি হচ্ছে
কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল কাটা,
খোসা থেকে দানা আলাদা করা যায়। এ কারণে বিভিন্ন
স্থানে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনায় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার
যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। ছোট আকৃতির ধানি জমি
চাষেও রয়েছে এর ব্যবহার। এছাড়া বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও

কীটনাশক ছিটানোর জন্যও রয়েছে ব্রডকাস্ট সিডার।
নির্দিষ্ট অবস্থানে বীজ বপনের জন্য আছে সিডর্ডিল।
জমির শক্ত মাটি কর্ষণের জন্য সাব সয়লার, ধান কিংবা
অন্যান্য ফসলী বীজ শুকানোর জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে
ড্রায়ার যন্ত্র। ধান, গম, ভুট্টা শুকাতেও ব্যাচ ড্রায়ার নামক
প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া শস্য কাটার জন্য রয়েছে
পাওয়ার রিপার মেশিন। বীজ ঝেড়ে পরিষ্কারের জন্য আছে
ইউনার যন্ত্র। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান,
উৎপাদন খরচ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে কারণ এক একর
জমির ধান কাটতে কৃষকের খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা।
কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে কাটলে খরচ হবে মাত্র দেড় হাজার টাকা।
বর্তমানে কৃষি কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে আধুনিক
উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার হচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংসদের
প্রতিনিধি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, আওয়ামী লীগ
কৃষিবান্ধব সরকার তাই কৃষকদের ভগ্যন্নোয়নের জন্য
কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নে বিনামূলে কৃষি সংশ্লিষ্ট
আধূনিক যন্ত্রপাতি, সার-বীজ বিতরণ করে যাচ্ছে।
সরকারের আন্তরিকতায় বাংলাদেশে কৃষি সেক্টর বর্তমানে
একটি মডেল। শ্রম, অর্থ, সময় বাঁচাতে, সবকিছুকে
আরও বেশি প্রযুক্তি নির্ভর করতে সরকার কাজ করছে। এখন
উচ্চ শিক্ষিত বেকাররাও কৃষি কাজে এগিয়ে আসছেন।