সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় বছরে ৪মাস পানি বন্দী মানুষ

Thursday, July 11th, 2019

 

এমএ মাসুদ (সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ০১নং ওয়ার্ডের বালাপাড়া মহল্লার প্রায় ৩’শ পরিবারের মানুষ বিগত ১০-১২ বছর পর্যন্ত বছরে ৪ মাস পানি বন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। পানি বন্দীদের দুর্ভোগ লাঘবে পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভা কর্তৃক ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও অজানা কারণে থমকে গেছে তা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে- মহল্লার প্রতিটি বাড়িতে পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন মানুষ। গৃহপালিত পশু-পাখির বাসস্থানে, রান্না ঘরে এমনকি বসত ঘরেও উঠেছে পানি। নারী ও শিশুরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপদে। পানি বন্দী নারী ও শিশুদের পায়ে দেখা দিয়েছে ঘা, ডায়েরিয়াসহ পানি সংক্রামক নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হওয়ার রয়েছে শঙ্কা। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরের কাছাকাছি পানি । কখন যেন তাদের আদরের সন্তান পড়ে যায় পানিতে এমন শঙ্কায় পড়েছেন বাবা-মা। স্কুলে যেতে পারছে না কোমলমতি শিশুরা।

কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে- রাশেদা (৫০), সালেহা (৪০), রাবেয়া (৬০) ও মৌসুমী (৪০) সহ কয়েকজন গৃহিনীর। তারা জানান, রান্না ঘরে পানি, গোয়াল ঘরে পানি, এমনকি বসত ঘরেও পানি। রান্না করতে পারি না, একবেলা-আধাবেলা খেয়ে দিন কাটছে আমাদের। দেখা দিয়েছে শিশুসহ সকলের পায়ে ঘা। কতদিন এ অবস্থা থাকে- জানতে চাইলে তারা জানান, ৪ থেকে ৫ মাস তো হবেই। ১০-১২ বছর থেকে চলছে এ অসহনীয় দুর্ভোগ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাঃ সম্পাদক আজাহার আলী, দুলু মিয়া, ফুল মিয়া, রব্বানী মিয়াসহ অনেকেই একই দুরাবস্থার কথা জানান।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামিউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার কথা বলার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। কথা হয় সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রুবিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, পানি বন্দী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে গত ৩ মাস আগে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। আশাকরি আবহাওয়া পরিবর্তন হলে পুনরায় ড্রেনের কাজ শুরু হবে।

কথা হয় পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ-আল-মামুন’র সঙ্গে- তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘‘আমি পানি বন্দী লোকদের দুর্দশা লাঘবে স্থায়ীভাবে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। সাময়িকভাবে নির্মাণ কাজে জমি না দেয়ার জন্য বাঁধাগ্রস্থ হয়েছি। পাটনিদের কয়েকজনকে ঘর সরানোর টাকাও দিয়েছি। তবে আশা করি, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ড্রেন নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে। ইনশাল্লাহ।”