অফিস নেই ৭০ দেশে কার্যক্রম চললেও, ঘরে বসে কাজ করেন কর্মচারীরা

Sunday, July 7th, 2019
৭০ দেশে কার্যক্রম চললেও অফিস নেই, ঘরে বসে কাজ করেন কর্মচারীরা

ডেস্ক নিউজঃ সচরাচর কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের পূর্বেই তাদের কর্মস্থল অর্থাৎ ভবন নির্মাণ করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে ভবন নির্মাণ না করে ভাড়া করা স্থানে কাজ করে থাকেন কর্মচারীরা। তবে নিজস্ব কিংবা ভাড়া করাই হোক না কেন, কর্মস্থলে কমবেশি সকল কর্মীকে যেতে হয়।

তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে ঘটেছে একেবারেই উল্টো ঘটনা। অটোম্যাটিক নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা নয়শ ৩০ জন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যালয় নেই। কর্মীরা তাদের নিজেদের বাড়িতে বা অন্যত্র বসে কাজ করেন।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কেট হাস্টন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের এটিই নীতি, সংস্কৃতি। কেউ আর এখন অফিসের কথা মুখেই নিয়ে আসে না।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার চাপ নেই। আমরা স্বাধীন। কাজের জন্য একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা করার দরকার হলে আমরা একটি জায়গা ঠিক করে দেখা করি। এই অ্যাডভেঞ্চার আমাদের খুবই পছন্দের।

অর্থ সাশ্রয়

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানেরই এখন কেন্দ্রীয় কোনো কার্যালয় নেই। দ্রুতগতির ইন্টারনেট, ক্ষুদে বার্তা এবং ভিডিও অ্যাপ, তদারকি এবং নজরদারি করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যারের বদৌলতে এখন চেয়ার-টেবিল-কম্পিউটার-টেলিফোন সাজিয়ে গতানুগতিক অফিস করার প্রয়োজন হচ্ছে না।

এর বদলে এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বের নানা জায়গায় কর্মী নিয়োগ করছে। তাদেরকে বাড়ি থেকে কিংবা বাড়ির কাছাকাছি কোথাও অল্প জায়গা ভাড়া করে কাজ করতে বলা হচ্ছে। এমনকি কফি শপে বসেও তারা কাজ করে।

জানা গেছে, ৭০টি দেশে কাজ করে অটোম্যাটিক। প্রতিটি দেশে তাদের কর্মী আছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কোনো অফিস নেই। কর্মীদের নিজেদের মধ্যে সামনাসামনি দেখা করার প্রয়োজন হলে তারা এক শহর বা দেশ থেকে অন্য দেশ বা শহরে ভ্রমণ করছে।

বাসার ভেতর অফিস তৈরির সাজ সরঞ্জাম, আসবাব কেনার অর্থ দেয়া হচ্ছে। কফিশপে বসে কাজ করার সময় কফি খাওয়ার অর্থও দেয়া হচ্ছে। অন্য কোনো জায়গায় চেয়ার-টেবিল ভাড়া করার প্রয়োজন হলে সেই ভাড়া দিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারপরও স্থায়ী একটি বড় অফিস তৈরির খরচের চেয়ে অনেক কম খরচ হচ্ছে।

কেট হাস্টন জানান, অবশ্যই অনেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডন, সান ফ্রান্সিসকো বা নিউইয়র্কের মতো শহরে অফিস ভবনের ভাড়া যেভাবে বেড়ে গেছে, তাতে খরচ অনেক বাঁচে।

তিনি আরো বলেন, ওই টাকা বরং আমরা কর্মীদের ভ্রমণে খরচ করছি। যেমন আমার পুরো টিম এ বছর থাইল্যান্ডে গিয়ে বৈঠক করেছে।

প্রবণতা বাড়ছে
অফিসের বদলে বাড়িতে বসে কাজ করার প্রচলন বাড়ছে। খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগ যত বাড়ছে, ঘরে বসে কাজ করার প্রবণতাও ততই প্রসারিত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ইনসিওগ্লু জানান, এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। খরচ কমছে। বিশেষ করে নতুন ব্যবসা যারা শুরু করছেন, তারা এতে আকৃষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি ভাবেন, তাহলে তাদেরকে প্রতিদিন ভিড় ঠেলে অফিসে যাওয়া লাগছে না। এটা বিরাট একটা সুবিধা।

কর্মীদের জন্য বিষয়টি কেমন?
অফিসে যাওয়ার ঝক্কি-ঝামেলা, খরচ না থাকলেও ঘরে বসে কাজ করার কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। অধ্যাপক ইনসিওগ্লু বলেন, পারিবারিক জীবন এবং কাজের মধ্যে বিভাজন রেখা টানা অনেকের জন্য বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। আপনি যদি ঘরে বসে কাজ করেন, তাহলে সেই কাজ কখন শেষ করে আপনি আবার পুরোপুরি পারিবারিক সময় শুরু করবেন? দু’টি ভিন্ন জীবনের জন্য পরিষ্কার সীমারেখা টানা খুবই জরুরী।

ঘরে বসে কাজ করার অন্য আরো কিছু সমস্যাও রয়েছে। মানসিক রোগ নিয়ে কাজ করে এমন একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাইন্ড বলছে, ঘরে বসে কাজ করলে অনেক সময় মানুষের মধ্যে ‘একাকীত্ব এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার’ মতো অনুভূতি জন্ম নিতে পারে।

তবে অধ্যাপক ইনসিওগ্লু বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সবাই যদি ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে কাজ করে, তাহলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মানসিকতা তৈরির ঝুঁকি কম।

যোগাযোগে সুবিধা হয়
অটোম্যাটিকের কেট হাস্টন মনে করেন, যার যার জায়গা থেকে কাজ করাটা কর্মীদের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং যোগাযোগের জন্য ভালো। তিনি বলেন, যখন আপনার টিম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকে, আমার ক্ষেত্রে যেটা বাস্তবতা, তখন শক্তিশালী একটি টিম তৈরি নিয়ে আমরা অনেক বেশি সচেতন এবং সচেষ্ট থাকি। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেন কোনো অস্পষ্টতা অসম্পূর্ণতা না থাকে তা নিয়ে অনেক সজাগ থাকি। বিবিসি বাংলা।