কুলাউড়ার বরমচালে ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ের ক্ষতি হয়েছে ২৮ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা

Thursday, July 4th, 2019
জোবায়ের আহমদ,মৌলভীবাজার:
কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ের ক্ষতি হয়েছে ২৮ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা।
দুর্ঘটনায় যান্ত্রিক, সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকম, প্রকৌশল বিভাগের সব মিলিয়ে এ ক্ষতি হয়েছে।
এমনটাই ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটির মতে- রেলপথ নিয়মিত সংস্কার না করা, প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। স্থায়ী পরিদর্শক বা পুতকর্ম পরিদর্শক সার্বিক অবস্থার জন্য দায়ী।

তবে এ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেননি একজন। তিনজনের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন গত ১ এপ্রিল রেলওয়েল মহাপরিচালকের (ডিজি) দফতরে জমা দেয়া হয়। দূর্ঘটনার জন্য রেলপথের মৌলভীবাজার-কুলাউড়া অংশের উর্ধ্বতন উপসহকারী (পথ) জুলহাস উদ্দিনকে ও গ্যাং ইনচার্জ সাইফুল আলমকে দায়ী করা হয়েছে তদন্ত রির্পোটে।

উল্লেখ্য, গত ২৩শে জুন কুলাউড়া উপজেলার বরমচালে বড়ছড়া সেতুর উপর ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ৪ জন নিহত হন। এতে আহত হন দুইশতাধিক যাত্রী।
ঘটনার পরদিন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ে। ওই কমিটিকে ৩দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ হিসাবে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল গত ২৬ জুন। তবে নির্ধারিত সময়ের ৫দিন পর রেলভবনে জমা হয় প্রতিবেদন।
সূত্রে জানাযায়, রেলপথ নিয়মিত সংস্কার না করা, প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। স্থায়ী পরিদর্শক বা পূতকর্ম পরিদর্শক সার্বিক অবস্থার জন্য দায়ী। দুর্ঘটনায় ট্রেনের ৮ম, ১৩তম, ১৪তম, ১৫তম, ১৬তম কোচের চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়।
১৭তম কোচটি রেল সেতুর নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে রেলপথের যন্ত্রাংশ ‘ক্রসিং বডির নোজ’ টিলা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাছাড়াও ক্রসিং বডির নোজের দুই পাশের হিল ব্লক লকিং নাট ঢিলা ছিল। সামনের দুটি হিল ব্লকের একটিও ছিল না। নোজের সামনের উইং রেলের সংযোগস্থলে ফিশপ্লেট খুলে পড়েছিল। কাঠের স্লিপারগুলো অত্যন্ত পুরনো ও কিছু স্লিপারের মাথা কেটে লাইন দেবে আছে।

এদিকে ওই রিপোর্টে রেলের পুরকৌশল শাখাকে দায়ী করে ৩ সদস্য সই করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন। আর নিয়েই সৃষ্টি হয় রেলওয়ের পুরকৌশল ও যান্ত্রিক বিভাগের মধ্যে মতবিরোধ।

গত সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে এ প্রতিবেদন দেয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৌশলীদের গাফিলতি ও রেলপথের দুরবস্থার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির দ্বিতীয় সদস্য পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল ওই তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষরই করেননি।

তবে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) আব্দুল জলিল তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করে সই করেননি। তার মতে উপবন ট্রেন বরমচালে রেল সেতুতেই দুর্ঘটনায় পড়েছে। ট্রেনচালক ট্রেন থামাতে চেয়েছিলেন দুর্ঘটনা এড়াতে পারেননি।

আঞ্চলিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শুধু প্রকৌশল বিভাগকে দোষারোপ করায় রেলের কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে কিছু কর্মকর্তা বলছেন, অতিরিক্ত গতি ও আলাদা বগির মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।