রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার আগ্রহ নেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে

Monday, June 24th, 2019
নিরাপত্তাহীনতার কারণে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার আগ্রহ নেই

ডেস্ক নিউজঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সংসদে জানিয়েছেন, যেকোনও প্রর্ত্যাবাসন প্রক্রিয়াই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি। তারপরও সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ কারণে যাবতীয় প্রস্তুতি থাকার পরও ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর  প্রত্যাবর্তন  প্রক্রিয়া শুরু সম্ভব হয়নি।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে মন্ত্রী আরো জানান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ দ্বি-পাক্ষিক কূটনীতি পরিচালনার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সব ধরণের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। রাখাইন রাজ্যে যথাযথ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। মিয়ানমার শিগগিরই রাখাইন রাজ্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে এবং দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে  প্রর্ত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৯০ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, মানবপাচারের শিকার বিভিন্ন দেশের জলসীমায় উদ্ধারকৃত দুই হাজার ৫৫ জনসহ লিবিয়া, থাইল্যান্ড, ইয়েমেন, জার্মানি, মিয়ানমার থেকে  প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত আনতে স্বাক্ষরিত সমাঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ৩৪৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

দেশে দারিদ্র্য শূন্যের কোটায় আসবে : সংসদে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় আনা সম্ভব হবে। কারণ ২০০৫ সালে দারিদ্রের হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং ২০১০ এ দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ হতে ২০১৮ সালে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে এবং অতি-দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উ্ন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছাতে দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় আনা সম্ভব হবে।

সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্য পূরণে সরকারের পরিকল্পনাসমূহ দেশ হতে শতভাগ দারিদ্র্য দূরীকরণ, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিতকরণসহ নিম্ন আয়ের জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ত্বরান্বিত হারে দারিদ্র্য বিমোচন। রাষ্ট্র ও সমাজের আর্থ সামজিক অগ্রগতির কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি। উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে এমন অনেক নতুন খাত যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।