বাবার সাথে দ্বন্দ্বের জেরে ছেলেকে কুপিয়ে আহত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষক

Monday, June 24th, 2019

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে বাবার সাথে দ্বন্দ্বের জেরে মাদ্রাসা ছাত্র ছেলেকে কুপিয়ে আহত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষক। আহত ছাত্রের নাম মো. সাব্বির হোসেন (১৪)।

গত ২২ জুন বিকালে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেল বাড়িয়া জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ওই মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির আহত শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেনের মা তাসলিমা বেগম।

আহত সাব্বির নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. আবদুল আলিমের ছেলে ও শিক্ষক ফোরকান হোসেন একই এলাকার মৃত মাওলানা আবদুল হাইয়ের ছেলে।

জানা যায়, গত ১২ জুন (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি জানা জানি হওয়ার ভয়ে আহত শিক্ষার্থীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ওই শিক্ষক। এতে ঘটনার আট দিন পর শিক্ষার্থীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গত শুক্রবার রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত শিক্ষার্থী সাব্বিরকে ভর্তি করে তার পরিবার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সাব্বির হোসেন বলেন, হুজুর (শিক্ষক) ও আমার বাড়ি মাদ্রাসার পাশেই। ওই হুজুরের সাথে আমার বাবার জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। আমাদের মাদ্রাসার দরজা-জানালা না থাকায় ঘটনার দিন আমি দুই বন্ধুকে নিয়ে মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে চেয়ারে বসেছিলাম।

এ সময় হুজুর এসে চেয়ারে বসার কারণে আমাদের গালমন্দ করেন। যখন আমরা মাদ্রাসা থেকে চলে যাচ্ছিলাম, হুজুর তখন আমাকে ধরে প্রথমে চড়থাপ্পড় মারেন। এর পর হুজুরের হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে কোপ দিতে গেলে আমি হাত দিয়ে তা থামাই। এ সময় আমার বামহাতের কব্জি কেটে যায়।

আহত সাব্বিরের মা তাসলিমা বেগম বলেন, শিক্ষক ফোরকান হোসেনের পরিবারের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ আছে। তার হুমকিতে আমাদের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ভিন্ন কৌশলে আমার ছেলেকে দাও দিয়ে কুপিয়ে আহত করার পর রাজাপুর হাসপাতালে না এনে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। ফলে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার বিচার চাই। তবে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কোথাও কোনো অভিযোগ করতে পারিনি। অভিযোগ করলে গ্রামে থাকাটা আমাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ফোরকান হোসেন বলেন, আমি সাব্বিরকে কোপ দিইনি। ঘটনার দিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। মাদ্রাসার পাশের একটি সবজি ক্ষেতে আমি কাজ করছিলাম। তখন মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে টেবিল চাপড়ে গান-বাজনা করছিল সাব্বির ও তার বন্ধুরা।

তখন আমি সেখানে গিয়ে সাব্বিরকে গালমন্দ করি ও চড়থাপ্পড় দিই। এ সময় আমার হাতে থাকা দায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাব্বিরের হাত কেটে যায়। ওর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমি বহন করছি।