ব্যাংক ধস হয়ে যাবে এমন কিছু হয়নি: পরিকল্পনামন্ত্রী

Saturday, June 22nd, 2019

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ফাইল ছবিপরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ফাইল ছবি

ডেস্ক নিউজঃ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ব্যাংক খাত নিয়ে নানাভাবে কাজ হচ্ছে। এমন কিছু হয়নি যে ব্যাংক ধস হয়ে যাবে। আস্থার কারণে কোনো ব্যাংকে তো টাকা তোলার লাইনও পড়েনি।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ব্রাক ইনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক দুর্দশা ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ সেমিনারে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পড়েন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, জাতীয় আয় বাড়লে দারিদ্র্য কমার কথা। কিন্তু দারিদ্র্য কমার হারও কমছে। তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফলাফল কোথায় যাচ্ছে?

ব্যাংকগুলোর খারাপ অবস্থা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গ্রাহকদের চেকের টাকা দিতে পারছে না অনেক ব্যাংক। দেবে কীভাবে, ব্যাংকের ভোল্টে তো টাকা নেই। এক ব্যাংকের স্বীকৃত বিল অন্য ব্যাংক কিনছে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখতে চাইছে না। ব্যাংকের পরিচালকেরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আমাদের সময়ে কখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। অথচ এখন কি হচ্ছে, তা সবাই দেখছে।

আমির খসরু বলেন, দেশে যে নির্বাচন হয়নি, এ নিয়ে এখন আর কোনো বিতর্ক নেই। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র বাংলাদেশের অবস্থা এমন, যেখানে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে, দেশ পরিচালনা করছে।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক সেলিম জাহান বলেন, প্রবৃদ্ধি আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কী কাজে লেগেছে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। আমার প্রস্তাব, প্রবৃদ্ধি হতে হবে দারিদ্র্য প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে। আর কোন মন্ত্রণালয় বেশি খরচ করেছে, তা দেখে বাজেট বরাদ্দ না দিয়ে কাজের গুণগত মান দেখে বরাদ্দ দিতে হবে। অসমতা ও বৈষম্য রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতিকূল। সবাই শিক্ষা, স্বাস্থ্যের সুযোগ পাচ্ছে কিনা। এসব অসমতা রাজনৈতিক বোমায় পরিণত হয়।

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন,ব্যাংকে যতদিন মেয়াদি ঋণ থাকবে, খেলাপি হওয়ার সুযোগ থাকবে, ততদিন দেশে বন্ড বাজার সৃষ্টি হবে না। কারণ করপোরেটদের কেউ বিশ্বাস করে না, তাদের অনেকেই ঋণ খেলাপি, লুটেরা হিসেবে পরিচিত। নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মুলধন বাড়িয়ে ৮০০ কোটি টাকা করা উচিত। তাহলে কেউ ব্যাংক বিক্রি করে দেবে না।
সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ক্ষমতা নেই, তারা ভুলেও গেছে তাদের দায়িত্ব কি। সুদের হার কীভাবে ব্যাংক মালিকেরা ঠিক করে দেয়।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, সরকার বলছে ৯ শতাংশ সুদ। আর আমার থেকে নিচ্ছে ১২ শতাংশ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, জবাবদিহি না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। নীতির ভারসাম্যহীনতা প্রকট হয়ে উঠবে।
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, আমরা কি বুদ্ধিভিত্তিক সমাজ তৈরী করতে চাই। চাইলে বিদেশি বই কিনতে কেন কর দিতে হয়?

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বিজিএমই সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতি গবেষক নাজনীন আহমেদ, রাজনীতিবিদ নাজমা আক্তার, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল প্রমুখ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম আতাউর রহমান।