আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্যসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Thursday, June 13th, 2019

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগ দলীয় দুই নেতাকে কুপিয়ে, পিটিয়ে এবং গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, পাঁচ ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার বাগেরহাটের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সমীর মল্লিকের আদালতে ওই অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নিহত আওয়ামী লীগ কর্মী শুকুর শেখের ভাই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য নিয়ে দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকিরের সঙ্গে খুন হওয়া দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

আসামিরা হলেন, দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির, ইউপি সদস্য আজিম, আল আমিন, সুনীল, শ্যাম ও মোদাচ্ছের। দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সদস্য মো. আবুয়াল হোসেন ফকির, আবুল শেখ এবং জুলহাস ডাকুয়া।

অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা সবাই আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকিরের অনুসারী ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোরেলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঠাকুর দাস মণ্ডল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, স্থানীয় রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করতে আওয়ামী লীগ দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দিহিদারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। সেই বিরোধের জেরে তিনি ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগ নেতা আনসার আলী ও তার অনুসারীদের হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা আনসার আলীকে ইউনিয়ন পরিষদে ধরে এনে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।