আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস, দায় নিবে কে ?

Tuesday, June 11th, 2019

আলিফ হোসেন (তানোর, রাজশাহী প্রতিনিধি) রাজশাহীর তানোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষ তথ্য সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আর তথ্য সন্ত্রাসের জন্য সাধারণ মানুষ কথিত সেভেন স্টারের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছে। তাদের অভিযোগ, কথিত সেভেন স্টারের নেপথ্যে মদদ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় একশ্রেণীর গণমাধ্যম কর্মী সরেজমিন ঘটনা স্থল পরিদর্শন না করেই উদেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে খবর প্রকাশ করেছে তাই তারা এটাকে তথ্য সন্ত্রাস বলে অভিহিত করেছেন। তানোরের সেই আলোচিত ঘটনার দীর্ঘদিন পরে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি স্পস্ট হয়ে উঠছে।

সরেজমিন ঘটনা স্থল পরিদর্শন বা সঠিক তথ্য উপাত্ত্ব সংগ্রহ না করেই একশ্রেণীর গণমাধ্যমে কর্মী বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করায় কলমা গ্রামবাসিকে অবরুদ্ধ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রকাশিত খবরে বলা হয় কলমা গ্রামবাসি অবরুদ্ধ গ্রামের মানুষ বাইরে আসতে পারছে না আবার বাইরের কোনো মানুষকে কলমা গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না এমনকি কলমা গ্রাম এখন পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত তাদের একটাই উদ্দেশ্যে যেকোনো মূল্য এমপি ফারুকের পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ ক্ষুন্ন করা হলে তিনি আর মন্ত্রী সভায় স্থান পাবেন না। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই গণমানুষের নেতা এমপি ফারুকের প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ ক্ষুন্ন করতেই তারা এভাবে মিথ্যা-বানোয়াট খবর প্রকাশ করা হয়েছিল বলে অভিমত সাধারণ মানুষের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে কলমা বাজারে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা অগ্নিসংযোগ করে। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান (তৎকালীন) লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বিষয়টি সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে ফের নির্বাচনী কার্যালয় মেরামত শুরু করেন। এ সময় প্রকাশ্যে দিবালোকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বল্লম-চাইনিজ কুড়াল ও হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, দলীয় কার্ডালয় ও ৭টি মোটর বাইক ভাংচুর করে। তাদের হামলায় গণমাধ্যমকর্মীসহ আওয়ামী লীগের ৫ জন নেতাকর্মী গুরুত্বর জখম হলে তাদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিএনপির নেতা মাহাতাব আলী ও হযরত আলী মাস্টারের উপস্থিতিতে সিজার ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে এই হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে খবর পেয়ে এমপি ফারুক চৌধূরী গোদাগাড়ী থেকে ছুটে এসে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের ধর্য্য ধারণ ও সহিংসতায় না জড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা কোনো মানুষের যেনো কোনো ক্ষতি না হয় যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সহিংসতা করেছে তাদের আইন বিচার করবে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেন। অন্যদিকে নির্বাচনের দিন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মালবান্ধা কেন্দ্রে ব্যাপক ভাংচুর ও তান্ডব চালায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে দুই রাউন্ড টিয়ার শেল ও দুই রাউন্ড ফাকা গুলি করতে হয়। পরের দিন টাকা নিয়েও বিএনপি প্রার্থীকে ভোট না দেয়ার অভিযোগে বিএনপির নেতাকর্মীরা মালবান্ধা গ্রামে এক জনের বাড়ি ভাংচুর ও দুটি দোকান পুড়িয়ে দেয়। অথচ এই ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে একশ্রেণীর গণমাধ্যম কর্মী বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করে বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অপরাধে কলমা গ্রামবাসিকে অবরুদ্ধ, বাড়ি ঘর ভাংচুর, ও এলাকায় তান্ডব চালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাই গ্রাম পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন কলমা গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ভিন্ন চিত্র কলমা গ্রামের বাসিন্দা সামিউল ইসলাম, শাফিউল ইসলাম , কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল ওহাব, কলমা মডেল আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাদিকুল ইসলাম ও কলমা বাজারের ব্যবসায়ী ছানাউল্লাহ বলেন, ভোটের আগের দিন বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে মারপিট, আওয়ামী লীগের অফিস ও মোটর সাইকেল ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও মাননীয় এমপি স্যারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছিল। এ ঘটনার পর কলমায় আর কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি একশ্রেণীর সাংবাদিকরা একটু বাড়িয়ে লিখেছেন জাতীয় বা আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে প্রচারের মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি যা প্রচার হয়েছে সেটা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও মনগড়া একপেশে খবর এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। অথচ কলমা গ্রামের কোনো বাড়ি-ঘর ভাংচুর হয়নি, ঘটেনি অগ্নিসংযোগ-লুটপাট, হয়নি নারী নির্যাতন বা মারপিট এমনকি বাজারের কোনো দোকান পাটেও হয়নি হামলা।

তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি এমন করলো যে কলমা গ্রাম পুরুষ শূণ্য হবে এর ব্যাক্ষা সাধারণ মানুষ জানতে চাই ওই সব গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জখম হলো, তাদের অফিস পুড়লো ভাংচুর হলো মোটর সাইকেল তাহলে তাদের হাতে কি আলাদিনের চেরাগ আছে যে সেটার ভয়ে কলমা গ্রাম পুরুষ শূণ্য, আর যদি কলমা গ্রাম পুরুষ শূণ্য থাকে তাহলে বিএনপির বাক্সে এতো ভোট কারা দিল ইত্যাদি প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে। আবার যদি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তান্ডব করে তাহলে তাদের হাতে কলমা গ্রামের বিএনপি-জামায়াতের কোন নেতাকর্মী জখম হলো, বা কার বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হলো, কার ওপর নির্যাতন করা হলো, কোন দোকান ভাংচুর করা হলো তাদের নাম প্রকাশ করা হোক তাহলেই তো মানুষ জানতে পারবে সহিংসতা কারা করেছে আওয়ামী লীগ না বিএনপি। দীর্ঘদিন পরে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপি-জামায়াতের নীলনক্সা উম্মোচিত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনে একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকেই কথিত সেভেন স্টারের নেপথ্যে মদদ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াত-বিএনপি মতাদর্শী একশ্রেণীর গষমাধ্যম কর্মী পরিকল্পিত ভাবে আওয়ামী লীগ ও এমপি ফারুকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তাদের উদেশ্যে ছিল যেকোনো মূল্য গণমানুষের নেতা এমপি ফারুকের মনোনয়ন ঠেকানো। কিন্তু তাদের সকল পরিকল্পনা ব্যর্থ করে এমপি ফারুক প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হককে পরাজিত করেন। তবে এবার তারা এমপি ফারুকের বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে আবারো তাকে নিয়ে উদেশ্যেপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা-বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ শুরু করে যাতে মন্ত্রীসভায় তিনি কোনো ভাবেই স্থান না পায়। এদিকে বিএনপি-জামায়াতের দূর্গে তার এমন নিরঙ্কুশ বিজয়ে তাকে মন্ত্রী সভায় স্থান দেয়ার দাবী উঠে। কিন্তু সেভেন স্টারের মদদপুষ্ট গণমাধ্যম কর্মীরা এমপি ফারুক যেনো কোনো অবস্থাতেই মন্ত্রী সভায় স্থান না পায় তার জন্য এমপি ফারুকে বির্তকিত করতে তারা জামায়াত-বিএনপির বি-টিম হয়ে আওয়ামী লীগ ও এমপি ফারুকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের মধ্যে অশান্তির বিষবাস্প ছড়াতে শুরু করে।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে, একটি বিশেষ মহল দীর্ঘদিন ধরেই এমপি ফারুকের মনোনয়ন ঠেকাতে জামায়াত-বিএনপি মতাদর্শী একশ্রেণীর গষমাধ্যম কর্মীদের দিয়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রকাশ করিয়ে আসছে। কিন্তু এতো কিছুর পরেও গণমানুষের নেতা এমপি ফারুকের মনোনয়ন ও বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে আবারো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে উঠেছে। তাদের এবারের মিশন যেকোনো মূল্য এমপি ফারুকের মন্ত্রী সভায় যাওয়া ঠেকানো। আর সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটাতেই এবার তারা এমপি ফারুকের পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, রাজনৈতিক সহাবস্থানের দীর্ঘদিনের সুনাম নস্ট ও তাকে বির্তকিত করতে এসব অপতৎপরতা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত।