এমপি লিটন হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাবেক এমপি কাদেরের অস্ত্র মামলায় যাবতজ্জীবন

Tuesday, June 11th, 2019

এমএ মাসুদ (সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি) গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি লিটন হত্যা মামলার প্রধান আসামী একই আসনের মহাজোট সরকাররে সাবেক এমপি কর্ণেল (অব:) ডাক্তার আব্দুল কাদের খাঁনকে অস্ত্র মামলায় দ্য আর্মস এ্যাক্ট ১৮৭৮’র ১৯(র) ধারায় ১৫ বছররে সশ্রম ও একই এ্যাক্ট’র ১৯-অ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেছেন গাইবান্ধার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল- ১’র বিজ্ঞ বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় মামলাটির দীর্ঘ শুনানী অন্তে বিজ্ঞ বিচারক এ রায় প্রদান করেন। এর আগে সকালে আসামি কর্ণেল (অবঃ) ডাক্তার আব্দুল কাদের খাঁনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। চলতি বছরের গত ৩০ মে মামলাটির যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষ হওয়ায় ধার্য্যকৃত তারিখে উক্ত রায় ঘোষণা করেন আদালত।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বও সন্ধ্যায় ৭ টায় উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর শাহাবাজ গ্রামের মাস্টারপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে আততায়ীদের ছোঁড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা জান তৎকালীন সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এমপি’র ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলি পরদিন অজ্ঞাত নামা ৫-৬ কে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত করতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত)- আবু হায়দার আশরাফুজ্জামান আরিফ বাদি হয়ে এ অস্ত্র মামলা দায়ের করেন।

এমপি লিটন হত্যা মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রধান আসামী ও অস্ত্র মামলার একমাত্র আসামী মহাজোট সরকারের একই আসনের সাবেক এমপি আসামি কর্ণেল (অবঃ) ডাক্তার আব্দুল কাদের খাঁনকে পৃথক এ ২ মামলায় পরবর্তী ২১ ফেব্রুয়ারী বিকেলে বগুড়া শহরের গরীর শাহ্ ক্লিনিক কাম বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তখন থেকে তিনি জেল হাজতে আছেন।

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, অবৈধভাবে গোলাবারুদ রাখার জন্য ১৫ বছরের সশ্রম ও অস্ত্র আইনে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেছেন বিজ্ঞ আদালত। তিনি সর্বোচ্চ সাজার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে এমপি লিটন হত্যা মামলা রায় হবে।

অস্ত্র মামলার বাদি ও এমপি লিটন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা- সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত)- আবু হায়দার আশরাফুজ্জামান আরিফ বলেন, রায় সন্তোষজনক হয়েছে। এজন্য তিনি বিজ্ঞ আদালতসহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এমপি লিটন হত্যা মামলার বাদি ফাহমিদা বুলবুল কাকলি বলেন, রায় সন্তোষজনক হয়েছে। তবে এ মামলায় আমার বা আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি আমার ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার সর্বোচ্চ সাজা কামনা করি।

সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাবেক সংসদ সদস্য কর্ণেল (অবঃ) ডাক্তার আব্দুল কাদের খাঁনের স্ত্রী ডাক্তার নাছিমা আক্তারের সঙ্গে একাধিক বার কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি অন্যকে দিয়ে কথা বলেন। তবে তারা (অন্যরা) পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। এনিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাবেক সংসদ সদস্য কর্ণেল (অবঃ) ডাক্তার আব্দুল কাদের খাঁন ও স্ত্রী ডাক্তার নাছিমা আক্তারের পক্ষে তাদের বিশ্বস্ত জনৈক গোলাম আজম বলেন, এ রায় সন্তোষজনক নয়। আমরা উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিপরীতে আপিল করব।

উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক- টিআইএম মকবুল হোসেন প্রামাণিক এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়নি।

উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক- রেজাউল আলম রেজা এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগামীতে এমপি লিটন হত্যা মামলার রায় যেন হয় ঐতিহাসিক রায়। এ মামলায় আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদন্ড) কামনা করেন তিনি।