ভাতা ও সম্মানী বাড়ছে বাজেটে

Monday, June 10th, 2019

ডেস্ক নিউজঃ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের আওতায় আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় সব ধরনের ভাতা, সম্মানী ও অনুদান বাড়ছে। বাড়ছে কয়েকটি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যাও।

পাশাপাশি বাড়ছে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকাও। তারপরও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কমছে আগামী অর্থবছরে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে ১৬টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচির জন্য চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৩২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ বরাদ্দ পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মধ্যে সাধারণত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, দরিদ্র নারীদের মাতৃত্বকালীন ভাতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি দেওয়া হয়। আর সম্মানী দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের।

এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি শিশুসদনে অনুদান, ত্রাণ, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের রেশন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অনুদান, অবাঙালিদের পুনর্বাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নগদ বরাদ্দ, অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, দরিদ্রদের আইনি সহায়তা ইত্যাদি খাতেও সরকার ব্যয় করে।

দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার জন্য চলতি অর্থবছরে সম্মানী বাবদ ৩ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে। মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমানে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পেয়ে থাকেন। বিজয় দিবস ও পয়লা বৈশাখে দুটি উৎসব ভাতাও পান তাঁরা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির পরিমাণ ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ৯৫০ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।

এদিকে সরকারি ও বেসরকারি শিশুসদনগুলোর জন্যও বরাদ্দ কিছুটা বাড়ছে। এসব শিশুসদনের এক লাখের বেশি আবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য চলতি অর্থবছরে ১৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম গতকাল বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়বৈষম্যও দৃশ্যমান। সুতরাং সামাজিক নিরাপত্তা যেমন বিস্তৃত করতে হবে, আবার ব্যয়ও বৃদ্ধি করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার ১৩ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রয়েছে। আগামী অর্থবছরে থাকছে বাজেটের ১২ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

ভাতা ও অনুদান

ভাতা ও অনুদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় বয়স্ক ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে। ৪০ লাখ বয়স্ক লোকের জন্য চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তাঁরা মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। আগামী অর্থবছরে উপকারভোগী কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে বরাদ্দও বাড়ছে। তবে ভাতার পরিমাণ বাড়ছে কি না, জানা যায়নি।

বর্তমানে ১০ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেওয়া হলেও আগামী অর্থবছরে দেওয়া হবে মোট ১৬ লাখকে। প্রতিবন্ধীরা বর্তমানে ৭০০ টাকা করে ভাতা পান। চলতি অর্থবছরে এ জন্য ৮৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে ভাতা ৭৫০ টাকা করা হচ্ছে। বাড়ছে মোট উপকারভোগী।

বর্তমানে ৭ লাখ দরিদ্র নারীকে মাসিক ৫০০ টাকা করে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে এ জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী অর্থবছরে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো না হলেও উপকারভোগী বাড়ছে আরও ৭০ হাজার।

লিভার সিরোসিস ও কিডনি রোগ এবং ক্যানসারে আক্রান্ত ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করা হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, কিন্তু এর মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। প্রতিবছর দেখা যায়, বরাদ্দ বাড়ছে, কিন্তু প্রকৃত বরাদ্দ বাড়ছে না। যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেটারই-বা কীভাবে কী হলো, তা জানা যায় অনেক পরে। আবার একই ধরনের কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে, যাতে দ্বৈততা দেখা দেয়। এগুলো দূর করে সমন্বিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি।

চরাঞ্চল, নদীভাঙন এলাকা তথা দরিদ্র মানুষদের উদ্দেশ্য করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নিতে হবে বলে মনে করেন সেলিম রায়হান।