আমনূরা মাদকের কারখানা

Saturday, May 25th, 2019


তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:  রাজশাহীর তানোর ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদরের সীমান্ত সংলগ্ন আমনূরা বাজার ঘিরে পুলিশের নাকের ডগায় গড়ে উঠেছে মাদকের বিশাল কারবার। বিনা বাধায় প্রকাশ্যে দিবালোকে উঠতি বয়সের যুবকদের কাছে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাদকের বেচা কেনা অথচ পাশেই রয়েছে আমনূরা ফাঁড়ি পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ তবে অজ্ঞাত কারণে তারা বিষয়টি দেখেও না দেখার অভিনয়ে এড়িয়ে চলেছে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে আসলে প্রশাসন মাদক বিক্রি বন্ধ করতে পারছে না ? না কি ? করছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমনূরার শিমুলতলা, রেলগেট, চারখুটা, ইলামিত্র গেট ও বাথানবাড়ী বসছে মাদকের হাট হচ্ছে মাদকের জম্পেশ বাণিজ্য মাদকের ক্রেতা হচ্ছে এলাকার কিশোর-তরুণ ও উঠতি বয়সের যুবক। মাদকের টাকার যোগান দিতে গিয়ে তারা চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে, এতে এলাকায় বেড়েছে চুরি-ছিনতাই ঘটেছে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। সচেতন মহল ও অভিভাবকগণ তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে চরম দুঃচিন্তায় রয়েছে। স্থানীয়রা জানান,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও আমনূরা ফাঁড়ি পুলিশকে একাধিকবার অবগত করা হলেও এখানো মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি বন্ধ হয়নি মাদক বাণিজ্য। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আশা মাদকসেবীদের আটক করে তাদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে ডিবি পুলিশ ও ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে এমন আলোচনা রয়েছে সাধারণের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সদর থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ ম্যানেজ কওে রেলগেট এলাকায় এক মাদক স¤্রাজ্ঞীর নেতৃত্বে ও তার দুই সহযোগীর মাধ্যমে এসব মাদকের ব্যবসা চলছে গোপণে অনুসন্ধান করলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে তারা দাবি করেছেন। তারা আরো বলেন, আমনুরায় হাত বাড়ালেই মিলছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইন প্রকাশ্যে দিবালোকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত্য চলছে বেচা কেনা।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত্য এখানে বহিরাগত উঠতি বয়সের মোটরসাইকেল আরোহীর আগমণ ঘটছে যারা মাদকসেবী। এসব মোটরসাইকেল আরোহীদের অনুসরণ, দেহতল্লাশী বা আটক করলেই মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদারের নাম জনসম্মূক্ষে প্রকাশ হবে। বিশেষ করে তানোর উপজেলা থেকে প্রায় শতাধিক উঠতি বয়সের যুবকদের আগমণ ঘটে যারা মাদক সেবনের পাশপাশী নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধামধুম ব্রীজে নজরদারী করা হলেই তানোরের এসব চিন্নিত মাদকসেবীদের আটক করতে পারবে। সাধারণ মানুষ বলছে, স্থানীয় পুলিশের সহযোগীতা ব্যতিত বিনা বাধায় প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে মাদকের কেনা-বেচা করা সম্ভব নয়। বিকাশে অথবা হাতে টাকা দিয়ে ঠিকানা বলে দিলে তারা সেখানে মাদক পৌচ্ছে দিচ্ছে।

গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, আমনূরা রেলগেট তানোর ও মোহনপুরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল অবস্থান করছে। আর এসব মোটর সাইকেল আরোহী সকলেই খোলামেলা ভাবে ফেন্সিডিল সেবন করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত্রি পর্যন্ত চলছে মাদকদ্রব্যর বেচাকেনা। মাদক ব্যবসায়ীদের এই অপতৎপরতা দেখে এলাকার অভিবাবকরা তাদের ভবিষৎ প্রজন্মদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। মাদকের নেশার ফাঁদে পা বাড়াচ্ছে এলাকার ভালো পরিবারের শিক্ষিত যুবকেরা। এদের মধ্য কেউ কেউ আবার নেশার খরচ যোগাতে জমি বিক্রি করছে চুরি ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে আমনূরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, তারা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স এবং তাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।