চকরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক কর্মরত সাংবাদিককে নাজেহালের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত

Wednesday, May 15th, 2019

 মোঃনুরুল হোসাইন,কক্সবাজারঃ 

কক্সবাজরের চকরিয়ায় দায়িত্বরত এ্যাসিল্যান্ড খোন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আরাফাত কর্তৃক চকরিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক বিএম হাবিব উল্লাহকে সরাসরি অসাধাচরণ ও গ্রেফতারের হুমকি দেয়ায় চকরিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

চকরিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে ১৪ মে (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৭ ঘটিকার সময় চিরিঙ্গা ধানসিঁড়ির কনভেনশন হলরুমে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক ইনকিলাবের জেলা প্রতিনিধি জাকের উল্লাহ চকোরী।

বিশিষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের চকরিয়া প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ, যায়যায়দিন পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি মন্জুর আলম, দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ উল্লাহ, দৈনিক আমাদের কক্সবাজার পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি জহিরুল আলম সাগর, দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি এম হান্নান শাহ, দৈনিক খবরপত্রের চকরিয়া প্রতিনিধি অলি উল্লাহ রনি,দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টাস এম, নুরুদ্দোজা,দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি মো, শাহেদ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি এম, রিদুয়ানুল হক, দৈনিক আলোকিত উখিয়া পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাঈদি আকবর ফয়সাল, দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার পেকুয়া প্রতিনিধি আব্দুল করিম বিটু, দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি আবুল মনসুর মো. মহসিন, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি নাজমুল সাঈদ সোহেল প্রমুখ।

প্রতিবাদ সভার শুরুতে চকরিয়ায় কর্মরত এ্যাসিল্যান্ড খোন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আরাফাত ও তার অফিসের কিছু কিছু দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের দূর্ণীতির চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আমাদের বাংলা ও দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি এবং দি ডেইলি নিউ নেশন পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক বিএম হাবিব উল্লাহ। তিনি বলেন- চকরিয়া এ্যাসিল্যান্ড অফিস সহকারী তপন কান্তি পালের বদলী জনিত বিষয়টি জানার জন্য আমি চকরিয়া ভূমি অফিসে যাই। তখন অফিস সহকারী তপন কান্তি পাল এ্যাসিল্যান্ডের সাথে কথা বলছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর হঠাৎ এ্যাসিল্যান্ড খোন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আরাফাত মারমুখী হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে এবং বিভিন্ন ধরনের খারাপ উক্তি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে বলে উঠলেন- তুমি বালের সাংবাদিক। আমার অফিসে যেন তোমাকে আর না দেখি।যদি দেখি তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তোমাকে মামলাসহ গ্রেফতার করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। পরে আমি তার অফিস থেকে সোজা চকরিয়া প্রেসক্লাবে চলে আসি।তাৎক্ষণিক বিষয়টি চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মজিদকে অবহিত করি। তিনি (আব্দুল মজিদ) বিষয়টির সত্যতা যাচাই করার জন্য মোবাইল ফোনে এ্যাসিল্যান্ডকে কল করেন। তখন এ্যাসিল্যান্ড বলেন তিনি (বিএম হাবিব উল্লাহ) যেন তার অফিসে আর না আসে।যদি আসে তাহলে তাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামলাসহ গ্রেফতার করা হবে বলে হুমকি প্রদান করেন। বিষয়টি সাংবাদিক বিএম হাবিব উল্লাহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে অভিযোগ করেছেন।

প্রতিবাদ সভার প্রধান অতিথি সিনিয়র সাংবাদিক জাকের উল্লাহ বলেন- প্রশাসন জনগনের সেবক, প্রভু নয়। একজন কর্মরত সাংবাদিকের সাথে এই ধরনের আচরণ মোটেও কাম্য নয়। তিনি বলেন কর্মরত সাংবাদিকরা সরকারী-বেসরকারী যেকোনো অফিসে যাবেন এবং তথ্য সংগ্রহ করবেন। এটি সাংবাদিকের দায়িত্ব। কিন্তু কোনো অফিসার বা কর্মকর্তা সাংবাদিককে “বালের সাংবাদিক” বলতে পারেন না। তাদের সেই অধিকার নেই। তিনি এ্যাসিল্যান্ডকে উদ্দেশ্য করে বলেন- আপনি জনগণের সেবা না করে, কারো সাথে অসাধাচরণ করতে পারেন না। কোনো সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরণ বা হুমকি প্রদান করে কেউ ঠিকে থাকতে পারে নি, আপনিও পারবেন না। আপনার দূর্ণীতির সচিত্র তথ্য আমরা তুলে ধরবো এবং প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত যাবো।এই নেক্কারজনক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথি বক্তব্য সমাপ্ত করেন।

চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন- একজন কর্মরত সাংবাদিকের সাথে এই রকম আচরণ খুবই দুঃখজনক। আমলাদের অফিসে যেকোনো সময় সাংবাদিক যাবে – আসবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে কোনো সাংবাদিকের সাথে অসাধাচরণ করতে এবং হুমকি দিতে পারেন না।তিনি বলেন কোনো সংবাদকর্মীকে“বালের সাংবাদিক” বলার অধিকার কারো নেই। তিনি এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। তিনি বলেন- প্রয়োজনে এর প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে প্রতিবাদ সভায় আগত কর্মরত সকল সাংবাদিক এ্যাসিল্যান্ড খোন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আরাফাতের অপসারণ দাবী করেন। সাংবাদিকরা বলেন- এই অযোগ্য এ্যাসিল্যান্ডকে যতদিন চকরিয়া হতে অপসারণ করা হবে না, ততদিন তার বিরুদ্ধে তথ্য নির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং তার অফিসের দূর্ণীতির চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। সভায় চকরিয়ায় কর্মরত সকল সাংবাদিক এই আচরণের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।