মায়ের স্তন ক্যান্সার, উদ্ভাবন করে ফেলল ক্যান্সার শনাক্তকারী ব্রা ১৯ বছরের ছেলে

Tuesday, May 14th, 2019

মায়ের স্তন ক্যান্সার, ১৯ বছরের ছেলে উদ্ভাবন করে ফেলল ক্যান্সার শনাক্তকারী ব্রা

ডেস্ক নিউজঃ ২০১৩ সালে ক্যান্সার ধরা পড়ে জুলিয়ানের মায়ের স্তনে। মা বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দুই স্তনই  হারাতে হয়েছিল। সহ্য করতে হয়েছিল ব্যাপক মানসিক ও শারীরিক আঘাত। ওই ঘটনা একটি অসাধারণ উদ্ভাবনে উৎসাহ যুগিয়েছিল ছেলে জুলিয়ানকে।

১৯ বছর বয়সী এই মেক্সিকান শিক্ষার্থী আবিষ্কার করেছেন এমন ব্রা যা স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে সহায়তা করবে। জুলিয়ানের এই আবিষ্কারে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার অ্যান্টোনিও তোরেস। জুলিয়ান যেমন মাকে দেখেছেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে, অ্যান্টোনিও দেখেছেন তাঁর দাদিকে লড়তে।

নতুন আবিষ্কৃত ব্রা কোনো পুরনো ধাঁচের ব্রা নয়।   আইটেমটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক যান্ত্রিক পদ্ধতি। এটি স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত টিউমারের প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করতে পারবে।

জুলিয়ানের মায়ের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ  প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়নি। ওই ব্যর্থতা তাদের মনে এই বিশ্বাস জন্মিয়েছিল যে ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এটি তেমন মারাত্মক নয়।

জুলিয়ান ও তোরেস ‘হিগিয়া টেকনোলজিস’ নামে  একটি ওয়েবসাইট খুলেছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু ব্রা বিক্রিও হয়ে গেছে।

জুলিয়ান রিওস ক্যান্টু (ডানে) ও তোরেস অ্যান্টোনিও তোরেস (বামে)।

ব্রা’টির নামকরণ করা হচ্ছে ‘ইভা’। ওয়েবসাইটে  ব্রা’টিকে ‘প্রথম বুদ্ধিমান, হালকা এবং স্বস্তিদায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্যান্সারের উপসর্গ টিউমার। এ কারণে আক্রান্ত স্তনের ত্বকের তাপমাত্রা ভিন্ন হতে পারে। কারণ সেখানে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ইভা ব্রা-তে থাকছে বায়োসেন্সর। এটি তাপমাত্রা মাপতে পারে এবং তা সংগ্রহ করে রাখা হয় একটি অ্যাপে। উল্লেখযোগ্য  কোনো পরিবর্তন দেখলে পরিহিতাকে সেবিষয়ে সতর্কও করে এই ব্রা।

উদ্ভাবকরা বলছেন, কার্যকারিতা পেতে নারীদেরকে সপ্তাহে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে থাকতে হবে এই ব্রা। তাঁরা বলেন, এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। পরীক্ষার জন্য এরই মধ্যে তাঁরা যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।

সাড়া জাগানো এই আবিষ্কারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দুই উদ্ভাবক। গত সপ্তাহেই তাঁরা পেয়েছেন গ্লোবাল স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনিওর অ্যাওয়ার্ড। পুরষ্কারের মূল্য ২০ হাজার ডলার।

জুলিয়ানের এখন একটিই চাওয়া, আর কোনো নারী বা মা যেন এমন মারাত্মক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হন।

সূত্র : দি ইপোচ টাইমস