ধর্ম ও কর্ম প্রবন্ধের গবেষক অধ্যক্ষ আনছার উদ্দীন আনিছ

Monday, May 6th, 2019

 

আরিফুর রহমান আরিফ (ঝালকাঠি প্রতিনিধি) ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আনছার উদ্দীন আনিছ ধর্ম ও কর্ম প্রবন্ধ গবেষণা করেন। ১৯৯১সালে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ বার্ষিকী অরণী -তে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তার প্রবন্ধে ধর্ম হচ্ছে কোন অতিপ্রাকৃত সত্ত্বায় মানুষের বিশ্বাস, যে বিশ্বাস তার নিজের মূল অনুভূতি ও ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের ইতিহাস যত পুরান, ধর্মের ইতিহাসও তত পুরান। পরিবর্তনশীল পৃথিবীর বিবর্তনের ধারা থেকে ধর্ম এড়িয়ে থাকতে পারেনি। বর্তমানে তার চেয়ে অনেক উন্নত ও গ্রহণযোগ্য ভাবে ধর্ম পালন করে। ফলে বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগেও মানুষ আজ ধর্মহীন নয়।

ধর্ম কথাটার আর একটা অর্থ হলো প্রকৃতি বা Nature অথবা স্বভাব ইত্যাদি। এ শ্রেনীর ধর্মকে প্রাকৃতিক ধর্মও বলা যায়। অর্থাৎ পানির ধর্ম বলতে বুঝায় পানির গুনাগুনকে। যেমন পানি সর্বদা নিচু দিকে চলে, পানির নিজের কোন রং বা আকার নেই ইত্যাদি।

প্রথম অর্থে ধর্ম হলো সমাজ ও বিশেষ ব্যাক্তি কর্তৃক মানুষের প্রতি আরোপিত জীবন চলার পাথেয়। আর দ্বিতীয় অর্থে ধর্ম হলো কোন ব্যক্তি,বস্তু বা পদার্থে প্রকৃতিদত্ত স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বা গুনাবলী।

স্রষ্টার সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ বিধায় অন্যান্য বস্তু বা পদার্থের সাথে মানুষের তুলনা করা যাবে না। কারন মানুষ বুদ্ধি বৃত্তি সম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা রয়েছে। মানুষ ছাড়া অন্যান্য সকল জিনিস কেবল মাত্র প্রকৃতিদত্ত অর্থে ধর্ম পালন করে চলে। একঃপ্রকৃতিদত্ত ধর্ম অর্থাৎ মানুষের জন্য জৈব ধর্ম। এ ধর্ম অনুযায়ী মানুষ খাদ্য খায়,নতুন বংশের জন্ম দেয় ইত্যাদি। দুইঃঈশ্বরের দেয়া ধর্ম। অর্থাৎ মানুষের জন্য হিন্দু ধর্ম খ্রিস্ট ধর্ম ইহুদি ধর্ম, ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি।

ধর্ম ও কর্ম কথাটা সাপেক্ষিক। আলোছায়া রাজা প্রজা,শিক্ষক -ছাত্র ইত্যাদি যেরুপ সাপেক্ষিক ঠিক তেমনই ধর্ম ও কর্ম কথাটাও সাপেক্ষিক। কর্ম ছাড়া ধর্ম হয় না আবার ধর্ম ছাড়া কর্ম হয় না। প্রত্যেক ধর্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের কল্যান সাধন করা। তাই ধর্ম অনুযায়ী যদি কর্ম হয় তাহলে মানুষের কল্যান অবশ্যই হবে।

ধর্ম মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশে সহায়তা করে। মনুষ্যত্ববিহীন মানুষ পশুর মত। সমাজে অন্য মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ এদের দ্বারা হয় না। তাই প্রকৃত ধর্ম ভীরু মানুষই কেবল সাধারন মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে পারে। অতএব প্রকৃত অর্থে যে কোন লোক সে হিন্দু হোক, কি মুসলিম, কি খ্রিষ্টান কিংবা মানবতাবাদী যাই হোক না কেন তার কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকবে। মোট কথা প্রকৃত ধর্মভীরু লোকের কর্ম নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী হয়ে থাকে।