শেষ হলো ৩ দিন ব্যাপী দুই বাংলার কবিদের মিলনমেলা ও চরনিকেতন সাহিত্য সম্মেলন “দেশ ভাগ হলেও ভাগ হয়নি ভাষার”

Wednesday, April 17th, 2019

একই আকাশ, একই বাতাস, দু’ বাংলার মানুষের ভাষা এক। আমরা বাংলায় কথা বলি তাই প্রাণের টানে বাংলায় ছুটে আসি। বাংলা ভাষার আকর্ষণ যে কতটা আত্মিক ও প্রীতিময় হতে পারে তা বুঝিয়ে দিল চরনিকেতন সাহিত্য সম্মেলন। দুই বাংলার কবিদের মিলনমেলা প্রমাণ করে দিলো ‘দেশ ভাগ হলেও ভাগ হয়নি ভাষার’ দু’দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি অটুট থাকবে।

ভৌগোলিক সীমারেখা ভূলে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির কথা ভেবেই কেবল ভাষার টানে দু’ বাংলার কবি-সাহিত্যিকরা জড়ে হয়েছিল দু’ বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষগুলো। আজ মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল)পাবনার ঈশ্বরদীর চরগড়গড়িতে  তিন দিনব্যাপী ‘ চরনিকেতন বৈশাখি উৎসব-১৪২৬ ও বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে কথাগুলো বলছিলেন  ওপার বাংলার আবৃত্তিকার অল ইন্ডিয়া রেডিও’র সংবাদ পাঠিকা স্বপ্না দে।

তার আগে অনুষ্ঠানের শেষ দিনে শুরুতেই সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা নিয়ে আলোচনা, ফাঁকে ফাঁকে  দুইবাংলার কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ চলতে থাকে দিনভর। এ যেন বাঁধন হারা আবেগের কাছে একাকার হয়ে গিয়েছিল এপার আর ওপাড় বাংলার কবিরা। পুরো চরনিকেতন কাব্য মঞ্চ ঘিরে থোকায় থোকায় জড়ো হয়েছিল কবি’রা। যেন এক মিলনমেলা।

বিকেলে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান শেষে কবি মজিদ মাহমুদের ৫৪ তম জন্মদিনের কেঁক কাটেন অতিথিবৃন্দ। হঠাৎ করেই যেন কবিতার মত কবিদের ছন্দপতন ঘটে। শেষ হয় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি। তার আগে ১৪-১৫ এপ্রিল (রোববার-সোমবার) চরনিকেতন কাব্যমঞ্চে নানা আয়োজন আর আড্ডায় মুখরিত ছিল বাংলা সাহিত্য সম্মেলন কেন্দ্র।

বিদায় লগ্নে কলকাতার কবি ড.সোমা ভদ্র রায়  বলেন, কলকাতায় অধ্যাপনার সূত্রে বহু সেমিনার ও কর্মশালা করেছি কিন্তুু দুই বাংলার এমন মিলন আমি দেখিনি। আনন্দ ভাগ করলে বাড়ে- তাই সব আনন্দ আমি বিদায় বেলায় সকলের সাথে ভাগ করে দিয়ে গেলাম। দুই বাংলার মাঝে কাঁটাতার থাকলেও মন পড়ে থাকবে বাংলাদেশে, এই অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।  শেষ বেলায় বলে যায়, ‘ যা কিছু শেখার যাকে প্রণয়ে বিচ্ছেদে বেদনায় তাই শেখো,ভালো থেকো।

কলকাতার কবি গার্গী সেনগুপ্ত
বলেন, শহর থেকে দুরে পদ্মারপাড়ের চরে সবুজের সমারোহে থেকে আমি মুগ্ধ।  এই তিন দিন কবিতার সঙ্গে, গাছের সঙ্গে আমার যে সুচনা হল আমি আপ্লুত। বিদায় বেলায় বলছি ‘ ভালো থেকো, যে আছ যেখানে দুরে কাছে,ভালো থেকো।

ওপার বাংলার কবি দীপক লাহিড়ী বিদায় লগ্নে বলেন,একটি আদর্শ আনন্দভবন হলো কবি মজিদ মাহমুদ।  কবি শুধু প্রাবন্ধিক নন, তিনি মানব আদর্শের এক নিবির সত্তা।  যার কর্মজীবনের সমগ্রতা ছড়িয়েছে মানবকল্যানে।  যাবার সময় এটুকু নিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের কবি শোয়েব শাহরিয়ার তার অনুভূতি জানিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে, খাঁটি গ্রামীন পরিমন্ডলে একটি ঘ্রাণ নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। যা কখনো ভুলবো না।

বাংলাদেশের আরেক কবি কথা হাসনাত বলেন, এখানে না এলে ব-দ্বীপের কবি মজিদ মাহমুদ  সম্পর্কে  অনেক কিছু অজানা থাকতো।  চলে যাচ্ছি, জয় হোক ব-দ্বীপের।

এপার বাংলার কবি সেঁজুতি জাহান, তার অনুভূতি ব্যাক্ত করে  বলেন, কবি লেখক আর সংগঠকদের যে মিলনমেলা জুড়েছিল। চরনিকেতনে আসতে পেরে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম। গ্রামের বোরকা পড়া মেয়ে থেকে শুরু করে টিপ শাড়ি পড়ে বসা কলকাতার দিদিদের বসে থাকতে দেখাটা দারুন লেগেছে।

প্রযোজক ও পরিচালক আলী ইমাম তার অনুভূতি ব্যাক্ত করে  বলেন, এটা একটি মেলবন্ধন।  জীবনে জীবন যোগ করার। এখানে  দুই বাংলার লেখকদের মাঝে সম্প্রতি ও ভাব বিনিময়ের যে সুযোগ হয়েছে এটি খুব বড় প্রাপ্তি।  যাবার বেলায় বলবো,  ‘অমঙ্গলের বিরুদ্ধে শুভকর বোধ জাগ্রত হয়েছে’

বাংলা ভাষার,টানে বাঙালির বাধন হারা আবেগের কাছে মিলে মিশে একাকা, হয়ে গিয়েছিল দু’ বাংলার মানুষ। দুবাংলার মানুষের এই মিলনমেলা দুদেশের বন্ধুত্ব আরো,সূদুর হবে। অন্তরের টানে বারবার ছুটে আসবে ওপার বাংলার কবি ও সাহিত্যিকরা, এমনই প্রত্যাশা করেন আয়োজকবৃন্দ। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন পাবনার ঈশ্বরদীর চরগড়গড়িতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওসাকার আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী চরনিকেতন বৈশাখী উৎসব -১৪২৫ ও বাংলা সাহিত্য সম্মেলন।